| প্রচ্ছদ

কোরআনের কিছু কথা- ৩

হৃদয়ে যেন তালা না লাগে

জুবাইর হাসান মোহাম্মদ জুলফিকার আলী
পঠিত হয়েছে ১৬২ বার। প্রকাশ: ০৭ মে ২০১৯ । আপডেট: ০৭ মে ২০১৯ ।


কোরআন মজীদকে বরকতময় কিতাব বলা হয়েছে। কারণ এটা মানুষের জন্যে অত্যন্ত কল্যাণময় কিতাব। এটি মানুষের জীবনকে সুস্থ-সঠিক ও উন্নত বানাবার জন্যে উত্তম বিধান দেয়। কোরআনকে অনুসরণ করলে মানুষের কল্যাণ ছাড়া অন্যকিছু হওয়ার নয়। তাতে কোনো ক্ষতি হওয়ার আশংকা আদৌ নেই। অতএব কোরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা অতীব জরুরী বিষয়। কোরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করলে মানুষের মনের অন্ধকার দূর হয়ে যাবে, সত্যের দুয়ার খুলে যাবে। মানুষের মধ্যে হেদায়েতের নূর প্রবেশ করবে, তাদের অনুভূতি ও চিন্তাশক্তি চাঙ্গা হবে, অন্তর জেগে উঠবে, বিবেক পরিষ্কার হবে এবং মানুষের মাঝে নতুন জীবনের সৃষ্টি হবে। এর ফলে আমাদের অন্তরলোক আলোকিত ও উজ্জ্বল হবে।
কোরআন মানুষ সম্পর্কে একটা বিশেষ নীতি অনুসরন করে। তা হলো কোরআন মানুষ এবং তার বিবেক বুদ্ধিকে ভীষণ সম্মান প্রদর্শন করে। মানুষের বিবেক বুদ্ধিকে কোরআন যতটা সম্মান করে, ততোটা সম্মান আর কেউ কখনো দেখায়নি। কোরআন আল্লাহ রচিত গ্রন্থ কিনা, তা ঠিক করার ভার কোরআন মানুষের বিবেক বুদ্ধির প্রয়োগ ও চিন্তা-গবেষণার ওপর ন্যস্ত করেছে। মানুষের ওপর জোর না খাটিয়ে যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করেই কোরআন সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণার জন্য বারবার বলা হচ্ছে। মহান আল্লাহতায়ালা বলেন,
“এরা কি কোরআন (ও তার আগমন সূত্র নিয়ে) গবেষণা করে না? এ (গ্রন্থটা) যদি আল্লাহতায়ালা ছাড়া অন্য কারো কাছ থেকে আসতো, তাহলে তাতে অবশ্যই তারা অনেক গরমিল (দেখতে) পেতো।”-সূরা নিসা: ৮২।
যারা সত্য বিমুখ লোক, যারা কোরআন নিয়ে চিন্তা গবেষণা করে না, তাদের হৃদয়ে কোরআনের অর্থ, শিক্ষা, তাৎপর্য এবং ভাবধারা প্রবেশ করে না, কারণ তখন তাদের মনের দরজায় তালা লেগে যায়। আর হৃদয়ে তালা লেগে গেলে কোরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করতে গেলেও সেটা তাদের বোধগম্য হবে না। আল্লাহ বলছেন,
“তারা কি কোরআন সম্পর্কে চিন্তা গবেষণা করেনি? না কি তাদের হৃদয় সমূহের ওপর তালা পড়ে গেছে?” সূরা মুহাম্মাদ: ২৪।

চলবে...
 

মন্তব্য