| প্রচ্ছদ

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮ কোটি নাকি সাড়ে ৩ কোটি ?

ডেস্ক রিপোর্ট:
পঠিত হয়েছে ১৬৬ বার। প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০১৮ । আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৮ ।

করের (ভ্যাট-ট্যাক্স) হার বেশি হওয়ার কারণে বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার তেমন বাড়ছে না বলে মন্তব্য করেছে গ্লোবাল সিস্টেম মোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (জিএসএমএ)। সংগঠনটি বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশে সাড়ে ৮ কোটি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। এদের প্রায় ৫৩ শতাংশ অর্থাৎ সাড়ে ৪ কোটি স্মার্ট ফোন ব্যবহার করছেন। তবে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা মাত্র সাড়ে ৩ কোটি। যার অর্থ হলো দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ বা আরও সহজ করে বললে প্রতি পাঁচজনে মাত্র একজন ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন।
‘বাংলাদেশ: কান্ট্রি ওভারভিউ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে মোবাইল ফোন অপারেটরদের বৈশ্বিক এ সংগঠনটি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩০০টি কোম্পানি এবং ৮০০টি মোবাইল ফোন অপারেটর নিয়ে ১৯৯৫ সালে গঠিত হয় জিএসএমএ। বর্তমানে এ সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছের ভারতীয় মোবাইল অপারেটর কোম্পানী ভারতী এয়ারটলেরে প্রতষ্ঠিাতা সুনীল মিত্তাল।
জিএসএমএ’র ওই প্রতিবেদনের তথ্যগুলো ৫ এপ্রিল বাংলাদেশের মুল ধারার একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। চলতি মাসে প্রকাশের জন্য তৈরি করা জিএসএমএ’র ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে বাংলাদেশে বর্তমানে ১০০ টাকার ইন্টারনেট সেবা ব্যবহারের জন্য প্রায় ২২ টাকা হারে কর দিতে হয়। তাছাড়া এদেশে সবচেয়ে কম আয় করা ২০ শতাংশ লোকের জন্য ১ জিবি (গিগাবাইট) পরিমাণ ইন্টারনেট ডেটা কেনার ব্যয় তাঁদের মাসিক আয়ের ১১ শতাংশের সমান।
বাংলাদেশে ইন্টারনেটে ব্যবহারে বড় ধরনের বৈষ্যম বিরাজ করছে উল্লেখ করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান একেবারেই নিচের দিকে। এমন দূরাবস্থার জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট ব্যবহারের পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকা এবং ইন্টারনেটের উচ্চ মূল্যকেই দায়ী করা হয়েছে। এর পাশাপাশি থ্রিজি (থার্ড জেনারেশন) ও ফোরজি (ফোর্থ জেনারেশন) টেলিযোগাযোগ সেবা চালুতে অতিরিক্ত বিলম্ব এ খাতের প্রসারে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করেছে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশে মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট ব্যবহারে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জনে উচ্চ করের হার কমিয়ে আনার পাশাপাশি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেটের বিস্তার কাঠামোর উন্নয়নের সুপারিশও করা হয়েছে।

বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংজ্ঞা নিয়ে ভিন্নমত বিটিআরসি ও জিএসএমএ’র
জিএসএম বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সাড়ে ৩ কোটি বললেও বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) হিসাব অনুযায়ী তা ৮ কোটি ৮ লাখ। দু’টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হিসাবের আকাশ-পাতাল ব্যবধানের কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, মূলত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংজ্ঞা নিয়ে ভিন্নমতের কারণেই এমনটি হয়েছে।
বিটিআরসির মতে কোন ব্যক্তি তিন মাস বা ৯০ দিনের মধ্যে যদি একবার ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন তাহলেই তিনি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন। তাছাড়া একজন ব্যক্তি যদি একাধিক সিম দিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করেন তাহলে তিনি যতটি সিম ব্যবহার করেন, ততবারই তাঁকে ব্যবহারকারী হিসেবে গণনা করা হবে। তবে জিএসএমএ তা মনে করে না। তারা একজন ব্যক্তির একাধিক সিম বা ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও তাকে একবারই গণনা করেছে।

মন্তব্য