| প্রচ্ছদ

আয়োজনে জেলা প্রশাসন এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র

বগুড়া নার্সিং কলেজের ৩'শ শিক্ষার্থীরা শুনলো মুক্তিযুদ্ধের গল্প

পুণ্ড্রকথা রিপোর্ট
পঠিত হয়েছে ৭৪ বার। প্রকাশ: ১৩ মে ২০১৯ । আপডেট: ১৩ মে ২০১৯ ।

বগুড়া নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠে শুনলো রণাঙ্গনের বীরত্বগাঁথা। সোমবার সকাল ১০টায় বগুড়া জেলা প্রশাসন এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বগুড়া’র যৌথ উদ্যোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিত্তিক কর্মসূচি 'মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোন' অনুষ্ঠানের ১২তম আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা শোনে রণাঙ্গনের বীরত্বগাঁথা। শিক্ষার্থীদের জন্য এমন আয়োজন এক নতুন অভিজ্ঞতা। মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনান- মুক্তিযোদ্ধা টি এম মুসা পেস্তা। পিনপতন নিরবতায় শিক্ষার্থীরা শোনে মুক্তিযোদ্ধার কথা। অনুষ্ঠানে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ ছিলো স্বতোস্ফূর্ত এবং কুইজ পর্বে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে শিক্ষার্থীরা অর্জন করেছে মুক্তিযুদ্ধের বই পুরস্কার।


মুক্তিযোদ্ধা টি এম মুসা পেস্তা তার স্মৃতিকথায় বিশেষভাবে স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধকালিন বগুড়ার জেলাপ্রশাসক খানে আলম খান, ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড.গাজিউল হক, এসপি আব্দুল হাই, নিজাম দারোগা, মুক্তিযোদ্ধা পোটল, শহীদ ছুনু, শহীদ দোলন, শহীদ টিটু, শহীদ হিটলু, শহীদ আজাদ, শহীদ আবু সুফিয়ান, শহীদ খোকন, ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ নেতা মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম লাল, শ্রমিক নেতা বকুল সহ আরো অনেকের কথা। তিনি তার গল্পে তুলে ধরেন তৎকালিন জেলা প্রশাসকের বাংলোয় বগুড়ার সচেতন সমাজের প্রতিনিধিদের যুদ্ধের পূর্বপ্রস্তুতিমূলক সভা এবং সিদ্ধান্ত। বগুড়ায় তিনটি ট্রেনিং ক্যাম্প গঠিত হয়েছিলো, যথাক্রমে ১) করোনেশন স্কুল ক্যাম্প যার দায়িত্বে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ডিঙ্গু ২) সেন্ট্রাল স্কুল ক্যাম্প যার দায়িত্বে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা দীপু ৩) মালতিনগর হাই স্কুল ক্যাম্প যার দায়িত্বে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা টি এম মুসা পেস্তা। মুক্তিযোদ্ধা তার গল্পে তুলে ধরেন মুক্তিযুদ্ধকালিন সাধারণ মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা এবং প্রতিরোধের কথাও। পাকিস্তানী মিলিটারীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ যুদ্ধের কথাও তুলে ধরেন এবং যুদ্ধে শহীদের স্মৃতি আবেগের সঙ্গে স্মরণ করেন মুক্তিযোদ্ধা টি এম মুসা পেস্তা। তিনি তুলে ধরেন কিভাবে পাকিস্তানী বাহিনী বগুড়া থেকে পলায়ন করে রংপুরে চলে যায়।
 
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, বগুড়া’র উপ-পরিচালক(উপ-সচিব) সুফিয়া নাজিম। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে স্মরণ করিয়ে দেন- জাতির আগামী প্রজন্মকে সঠিক পথে গড়ে তুলতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানা ও চর্চার বিকল্প নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারন করতে সকলকে সঠিক ইতিহাস জানতে হবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ত্রিশ লক্ষাধিক শহীদ ও ছয় লক্ষাধিক মা-বোনের সম্ভ্রোমের বিনীময়ে অর্জিত এই স্বাধীন বাংলাদেশ। দেশ স্বাধীন না হলে আজ এভাবে মুক্তির আনন্দ অনুভব করার সুযোগ থাকতো না। বগুড়া জেলা প্রশাসন আগামীতেও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বগুড়া’র সঙ্গে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগিতা করবে। 

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. রেজাউল আলম জুয়েল এবং বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ রাবেয়া খাতুন। অতিথিরা এমন আয়োজনের গুরুত্ব উপস্থাপন এবং ভূয়সী প্রশংসা করেন। আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস চেতনায় ধারন করে দেশ সেবায় এগিয়ে যাওয়ার তারা আহ্বান জানান। 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন- বগুড়া নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ হেলাল উদ্দিন এবং সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বগুড়া’র উপদেষ্টা ডা. আরশাদ সায়ীদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালকের ভূমিকায় ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বগুড়া’র সমন্বয়কারী এ টি এম রাশেদুল ইসলাম। অনুষ্ঠান আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতায় বগুড়া নার্সিং কলেজ।  বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ধারাবাহিক এ অনুষ্ঠান পর্যায়ক্রমে বগুড়া জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হবে। 'মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোন' অনুষ্ঠানে এ পর্যন্ত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪১৭০জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।
 

মন্তব্য