| প্রচ্ছদ

কোরআনের কিছু কথা- ৮

শয়তান মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু

জুবাইর হাসান মোহাম্মদ জুলফিকার আলী
পঠিত হয়েছে ২০৪ বার। প্রকাশ: ১৩ মে ২০১৯ । আপডেট: ১৩ মে ২০১৯ ।

মানুষের শত্রু দুরকম। এক, স্বয়ং মানব জাতির মধ্যে থেকে। দুই, আল্লাহর অবাধ্য শয়তান। ইসলাম প্রথম প্রকারের মানবরূপী শয়তানি শত্রুকে প্রতিহত করার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় প্রকারের শত্রু অর্থাৎ শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সরাসরি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করার আদেশ দিয়েছে।
দুই ক্ষেত্রে দুই ধরনের নির্দেশনার কারণ হলো-  প্রথম প্রকারের মানবরূপী শয়তানি শত্রু স্বজাতীয়। তাদের আক্রমণ প্রকাশ্যভাবে হয়। তাই তাদেরকে প্রতিহত করা যায়। তাদেরকে প্রতিহত করতে যেয়ে কেউ পরাজিত হলে সে সওয়াবের অধিকারী হবে। তাই মানুষের মন অথবা দেহ দ্বারা মানবরূপী শয়তানি শত্রুর মোকাবেলা করা সর্বাবস্থায় লাভজনক। জয়ী হলে শত্রু নিশ্চিহ্ন হবে এবং পরাজিত হলে আল্লাহর কাছে সওয়াবের অধিকারী হবে।  
অন্যদিকে, শয়তানের শত্রুতা দৃষ্টিগোচর হয় না। তার আক্রমণও মানুষের ওপর সামনা সামনি হয় না। তাকে প্রতিহত করা কঠিন কাজ। তাই তাকে প্রতিহত করার জন্য সরাসরি আল্লাহর কাছে আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে। শয়তানকে প্রতিহত করার বিয়ষটি আল্লাহর কাছে এই জন্য সমর্পণ করতে হবে যে, যে ব্যক্তি শয়তানের কাছে পরাজিত হবে সে আল্লাহর দরবার থেকে বিতাড়িত হবে এবং আযাবের যোগ্য হবে। যেহেতু শয়তানের কাছে লড়াই করে পরাজিত হলে নিশ্চিত জাহান্নাম, তাই তার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একমাত্র আল্লাহর নিকটই আশ্রয় চাইতে হবে। 
শয়তান সবসময় চেষ্টা করে মানুষ যেন কোরআন থেকে হেদায়েত লাভ করতে না পারে। মানুষ যখন কোরআন পাঠে মনোযোগী হয়, তখন মানুষের চিন্তা বিভ্রান্ত করার জন্য শয়তান প্রাণপণ চেষ্টা করে। তাই কোরআন পাঠের সময় মানুষকে শয়তান সম্পর্কে অধিকতর সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে, যেন কোনো অবস্থাতেই কোরআনের হেদায়েত লাভে মানুষ বঞ্চিত না হয়। আল্লাহ তায়ালা বলছেন- 
“তোমরা যখন কুরআন পাঠ করতে শুরু করবে তখন শয়তানে রাজীম হতে আল্লাহর নিকট পানাহ চাইবে।” সূরা আন নাহল: ৯৮
মুখে মুখে শুধু “আউযুবিল্লাহে মিনাশ শায়তানির রাজীম” বললেই হবে না। শয়তানের ভ্রান্তিকর ধোকা-প্রতারণা থেকে সুরক্ষা পাওয়ার জন্য বাস্তবভাবে মনের বাসনা জাগ্রত করতে হবে। মনের মধ্যে এমন একটা আবহ তৈরি করতে হবে যাতে করে শয়তানি প্রভাব থেকে মুক্তমনা হওয়া যায়, মনের সকল সন্দেহ দূর হয়ে যায়, স্বচ্ছ আলোক ধারায় কোরআনের প্রত্যেকটি কথা বিবেচনা করা যায়, যেন বাইরে থেকে আসা কোনো চিন্তা-কল্পনার সংমিশ্রণ না হয়। কুরআন পাঠের শুরুতে মনকে করতে হবে নিরপেক্ষ। আগে থেকেই মনের মধ্যে গেঁথে থাকা চিন্তাধারা সরিয়ে ফেলতে হবে। শয়তান হতে দূরে না থাকলে এসব সম্ভব নয়। আর শয়তান হতে দূরে থাকার জন্য একমাত্র আল্লাহ্র নিকটই আশ্রয় নিতে হবে। শয়তান সবসময়ই সুযোগ খোঁজে কিভাবে মানুষকে ধোঁকা দেয়া যায়। নানানা ধরনের বিভ্রান্তিমূলক প্রশ্ন মনের মধ্যে জাগ্রত করে মানুষের বিশ্বাসে ভাঙন ধরাতে চায়। মানুষের মনে কুরআন মাজীদ সম্পর্কে নানান সন্দেহমূলক প্রশ্ন তুলে ধরার প্রাণপণ চেষ্টা করে। এসব থেকে মুক্ত থাকার জন্য কোরআন পাঠের শুরুতে আউযুবিল্লাহ্ পড়তে হবে। প্রত্যেক সালাতের আদায়ের সময়ও আউযুবিল্লাহ্ পড়তে হবে।

 চলবে...
 

মন্তব্য