| প্রচ্ছদ

সত্যিকারের একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়াতে চায় ‘পুণ্ড্রকথা’

সম্পাদকীয়
পঠিত হয়েছে ৩৩৪ বার। প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০১৮ । আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৮ ।

ব্যাপকভিত্তিক ব্যবহারের কারণে তথ্য প্রযুক্তিকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ যেমন বেড়েছে তেমনি বেড়েছে নির্ভরশীলতাও। অবশ্য এ নিয়ে সমাজে এক ধরনের সমালোচনাও রয়েছে। বলা হচ্ছে মানুষ ক্রমেই যান্ত্রিক হয়ে উঠছে। তবে বিতর্ক থাকলেও এটিকে কোন ভাবেই এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়। কারণ দিন যত যাচ্ছে এর ব্যবহারও তত বাড়ছে। 

মোবাইল ফোন অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন  গ্লোবাল সিস্টেম মোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (জিএসএমএ) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে সাড়ে ৮ কোটি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। এদের প্রায় ৫৩ শতাংশ অর্থাৎ সাড়ে ৪ কোটি স্মার্ট ফোন করছেন। তবে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সাড়ে ৩ কোটি। যার অর্থ হলো দেশের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ মানুষ বা আরও সহজ করে বললে প্রতি পাঁচজনে একজন ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। 

আমাদের দৈনন্দিন চাহিদার নানা অনুষঙ্গের মত গণমাধ্যমেও তথ্য প্রযুক্তির প্রভাব ক্রমশ জোড়ালো হচ্ছে। মানুষ এখন সারাদিনে যতবার মুদ্রিত সংবাদপত্র পড়েন বা দেখেন তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অনলাইন পত্রিকার ওপর চোখ রাখছেন। এ কারণেই বলা হচ্ছে মুদ্রিত পত্রিকার দিন ফুরিয়ে আসছে।
গেল এক দশকে পশ্চিমা বিশ্বে মুদ্রিত পত্রিকাগুলো বিপুল সংখ্যক পাঠক হারিয়েছে। এতে বিজ্ঞাপনের বাজারও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে শত শত মুদ্রিত সংবাদপত্র বন্ধ কওে দেওয়া হয়েছে। এর তালিকায় বৃটেনের প্রভাবশালী ‘ইন্ডিপেনডেন্ট’ পত্রিকাসহ প্রতিষ্ঠিত অনেক গণমাধ্যমই রয়েছে। বিক্রি কমে যাওয়ায় বিশ্বখ্যাত ‘গার্ডিয়ান’-এর কাগজের আকার ছোট করা হয়েছে।

তবে পত্রিকাগুলোর মুদ্রণ বন্ধ করা হলেও অনলাইন সংস্করণ ঠিকই চালু রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা বলতে শুরু করেছেন, তথ্য প্রযুক্তি খাতের দ্রুত বিকাশের কারণে এ দেশেও মুদ্রিত সংবাদপত্রের ভবিষ্যত ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অনেকের ধারণা মুদ্রিত সংবাদপত্র হয়তো সর্বোচ্চ দশ বছর টিকতে পারে। সরকারি তরফে চলতি বছরের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি সেই আশঙ্কাকে যেন আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

বাংলাদেশে দ্রুত বর্ধনশীল এই অনলাইন পত্রিকাগুলোর মধ্যে অধিকাংশেরই মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সামর্থ না থাকা সত্ত্বেও ‘সবার আগে সব খবর’ জানানোর অসুস্থ প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছে অনেক অনলাইন পত্রিকা। ফলশ্রুতিতে পত্রিকাগুলোর বিরুদ্ধে ভুল সংবাদ এবং ক্ষেত্র বিশেষে মিথ্যা তথ্য প্রচার ও প্রকাশের মত গুরুতর অভিযোগ উঠছে। এছাড়া অন্যের খবর চুরি (কপি-পেস্ট) করে চালানোর পুরানো অভিযোগ তো রয়েছেই। এসব কারণে অনেক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বেশিরভাগ অনলাইন পত্রিকা গণমানুষের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। অনেকগুলো এরই মধ্যে বন্ধও হয়ে গেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, দেশে গত কয়েক বছরে প্রায় দেড় হাজার অনলাইন পত্রিকার জন্ম হয়েছে কিন্তু বর্তমানে তার অর্ধেকের মত টিকে আছে। অবশ্য টিকে থাকা এসব অনলাইন পত্রিকার মধ্যে বেশ কয়েকটি এরই মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কোন গবেষণা ছাড়াই এটা বলা যায় যে, যেসব পত্রিকা জনপ্রিয় হয়েছে সেগুলো অবশ্যই জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। আর জনগণের আস্থা অর্জনের অন্যতম শর্ত হলো পেশাদারিত্ব।

প্রশ্ন জাগতে পারে ‘পুণ্ড্রকথা’ আদৌ প্রকাশের প্রয়োজন ছিল কি’না? উত্তরে আমরা ‘হ্যাঁ’ শব্দটিই উচ্চারণ করতে চাই। কারণ আমরা মনে করি, যদি কারও ভাল কিছু করার সুযোগ থাকে- তাহলে শুধু তাকিয়ে থাকা কিংবা অযথা সমালোচনা না করে এগিয়ে যাওয়াই উচিত। গণমাধ্যমের মুল শক্তি হলো তার বিশ্বাসযোগ্যতা।  ‘পুণ্ড্রকথা’ সেটি অর্জন করতে চায়। নামকরণের মধ্যে সেই আকাক্সক্ষার কথাই যেন আরও জোড়ালো হয়ে ফুটে উঠেছে।

পুণ্ড্র নামটির সাথে একাধিক সভ্যতা ও সংস্কৃতি জড়িয়ে আছে। রয়েছে একাধিক ধর্মের সম্পর্কও। প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের জনপদ এখন দৃশ্যত ধ্বংসস্তুপে পরিণত হলেও এর আবেদন ফুরিয়ে যায়নি। যে কারণে পুণ্ড্র নগরীকে দেখতে এখনও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এমনকি বিদেশ থেকেও হাজার হাজার পর্যটক আসছেন। স্থানীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের হিসাব অনুযায়ী পুণ্ড্রনগর তথা মহাস্থানগড় এবং এর আশ-পাশের বিভিন্ন প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন দেখতে প্রতি বছর অন্তত ৩ লাখ মানুষের আগমন ঘটে। দিন দিন এই সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

ইতিহাসের বর্ণনা অনুযায়ী, পুণ্ড্র নামে রাজ্যের বিস্তৃতি ছিল উত্তরাঞ্চল জুড়ে। আর তার রাজধানী গড়ে উঠেছিল বগুড়া শহর থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তরে মহাস্থানগড়ে স্থানীয় জেলা প্রশাসন ২০১৬ সালে পুণ্ড্রনগরীকে পর্যটনের ক্ষেত্রে ‘বগুড়ার ব্র্যান্ড’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। একই বছর দক্ষিণ এশীয় আট দেশের জোট ‘সার্ক’-এর কালচারাল সেন্টার মহাস্থানগড়কে ২০১৭ সালের জন্য সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করে। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নেওয়া এসব উদ্যোগই বলে দেয় যে, নগর কাঠামো ধ্বংস হয়ে গেলেও পুণ্ড্রনগরের গুরুত্ব এতটুকু কমেনি।

‘পুণ্ড্রকথা’ প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য এবং তার রাজধানী পুণ্ড্রনগরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের কথা বলতে চায়।  শুধু সংবাদই নয়; জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে সব ধরনের তথ্যই জানতে এবং জানাতে চায়। শুনতে চায় এবং শোনাতে চায় পুরো বাংলাদেশের কথা। সংবাদ বা তথ্য প্রকাশ এবং প্রচারের ক্ষেত্রে অডিও-ভিডিও কে প্রাধান্য দিতে চায়। একুশ শতকের বিশ্বকে দেখা হয় গ্লোবাল ভিলেজ হিসেবে। ‘পুণ্ড্রকথা’র নজর থাকবে সেদিকেও।

সাম্যবাদে বিশ্বাসী ‘পুণ্ড্রকথা’ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সমান গুরুত্ব দিতে চায়। তবে প্রযুক্তি নির্ভর আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কাজে নিয়োজিত তরুণ প্রজন্মকে বিশেষ দৃষ্টিতে দেখতে চায়। দেশের মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশ তরুণদের প্রত্যাশা-প্রাপ্তির কথা তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সৃষ্ট বাধা এবং সেগুলোকে কাটিয়ে ওঠার উপায় নিয়েও কাজ করতে চায়। কারণ ‘পুণ্ড্রকথা’ বিশ্বাস করে শুধু সমস্যার কথা বলাই গণমাধ্যমের দায়িত্ব নয় বরং সমাধানের উপায়গুলো তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তার দায়বদ্ধতা থাকা উচিত।

মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশকে সুখী সমৃদ্ধ এবং আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায় ‘পুণ্ড্রকথা’। সেই লক্ষ্য নিয়েই  দৃপ্ত পদক্ষেপে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায় ‘পুণ্ড্রকথা’। বাংলাদেশে প্রচলিত আইন এবং গণমাধ্যম সংক্রান্ত সকল নীতিমালার আলোকে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সত্যিকারেই একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়াতে চায় ‘পুণ্ড্রকথা’।

মন্তব্য