| প্রচ্ছদ

জঙ্গীবাদ ঠেকাতেই সারাদেশে নির্মিত হচ্ছে ‘মডেল মসজিদ’

ডেস্ক রিপোর্ট:
পঠিত হয়েছে ২২৪ বার। প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০১৮ । আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৮ ।

বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ ঠেকাতেই সরকারিভাবে ‘মডেল মসজিদ’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে দেশের ৫৬০টি উপলোয় এ ধরনের মসজিদ নির্মাণ করা হবে। প্রতিবেদনে সরকারি শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকের এই মসজিদগুলো শুধুমাত্র মসজিদই হবে না বরং সেগুলোকে এক একটি ‘ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে বগুড়ার শেরপুর ছাড়াও গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, ঝালকাঠি, খুলনা, নোয়াখালী এবং রংপুরে এ ধরনের মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত ৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওই ৯টি স্থানে মডেল মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন এবং নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই-ধর্মের মর্যাদা সমুন্নত থাকবে। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষাটা যেন মানুষ পায় এবং ইসলামী সংস্কৃতিটা মানুষ যেন ভালভাবে রপ্ত করতে পারে, চর্চা করতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি’। অন্যদিকে ধর্মসচিব আনিসুর রহমান বিবিসিকে বলেন, ‘এসব মসজিদ থেকে জঙ্গিবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করা হবে। সেই সাথে মাদকের বিরুদ্ধের সচেতন করা হবে। জঙ্গীবাদ বিরোধী, মাদক বিরোধী, যৌতুক, বাল্য বিবাহ-এসবের বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রচার করা হবে। এসব বিষয় এখানো বলা হচ্ছে তবে সামনের দিনগুলোতে এই মসজিদগুলোর মাধ্যমে ব্যাপকভাবে তা ছড়িয়ে দেওয়াই উদ্দেশ্য’। নির্মিতব্য মসজিদকে কেন মডেল বলা হচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে ধর্ম সচিব বলেন, ‘এগুলোকে মডেল মসজিদ বলা হচ্ছে এজন্য যে, সবাই এই মসজিদকে অনুসরণ করবে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক এবং ধর্মীয় বিষয়ে সেখানে প্রশিক্ষণও দেয়া হবে।’

ধর্ম সচিব আনিসুর রহমানকে উদ্ধৃত করে বিবিসি জানায়, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত মসজিদে নারী-পুরুষের জন্য আলাদা ওজু এবং নামাজের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়াও মক্তব, গ্রন্থাগার, গবেষণা কক্ষ, কনফারেন্স রুম, ইমাম ও হাজীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। বিদেশী মুসল্লী বা পর্যটকরা এলে তাদের থাকারও ব্যবস্থা থাকবে। জেলা পর্যায়ের মসজিদগুলো চার তলা এবং উপজেলাগুলোতে হবে তিন তলা বিশিষ্ট। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রতিটি মসজিদ নির্মাণে ব্যয় হবে ১৫ থেকে ১৬ কোটি টাকা। যা সরকার বহন করবে।

এক সঙ্গে এত সংখ্যায় আধুনিক মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগকে ‘ইউনিক’ উল্লেখ করে ধর্মসচিব আনিসুর রহমান বলেন, ‘অনেক দেশে এরকম দৃষ্টি নন্দন একটা-দুইটা আইকনিক মসজিদ আছে। কিন্তু এখানে সবই একরকম হবে। দেখেই বোঝা যাবে যে এটা সেই বিশেষ মসজিদ। সারা বিশ্বে কোনও মুসলিম দেশে এক সাথে এরকম কর্মযজ্ঞ শুরু হয়নি।’

মন্তব্য