| প্রচ্ছদ

আমাদের মা জননী-৮

আল্লাহ গোটা নারী জাতিকেই সম্মানিত করলেন

জুবাইর হাসান মোহাম্মদ জুলফিকার আলী
পঠিত হয়েছে ৫৭ বার

[গতকালের পর থেকে পড়তে হবে] 
হযরত আয়েশা রা: এর প্রতি চারিত্রিক অপবাদ রটনার ঘটনাটি কোরআন ও হাদীসে ইফ্ক এর ঘটনা নামে খ্যাত। ইফ্ক শব্দের অর্থ জঘন্য মিথ্যা অপবাদ। এই ঘটনাটি হিজরি ৬ষ্ঠ সালে (মতান্তরে ৫ম সালে) ঘটেছিলো যখন রাসুল সা: বনু মোস্তালিক যুদ্ধ অভিযান থেকে মদিনায় ফিরছিলেন তখন। গত কয়েক দিনের আলোচনায় আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি যে, অপবাদ রটনার মূল হোতা ছিলো মদিনার মোনাফেক নেতা আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই। এই মোনাফেক নেতার মিথ্যা প্রচারণার জালে কয়েকজন সরলমনা মুসলমানও (তিন জনের নাম পাওয়া যায়) আটকা পড়েছিলো। মদিনায় যখন ঐ মোনাফেক রটিত অপবাদের চর্চা হতে লাগলো, তখন স্বয়ং রাসূল সা: এতে খুবই দু:খিত-ব্যথিত হলেন। হযরত আয়েশা রা: এর তো দুখের সীমাই ছিলো না। সাধারণ মুসলমানগণও তীব্রভাবে বেদনাহত হলেন। মদিনার আকাশে বাতাসে একমাস পর্যন্ত এই রটনার আলোচনা চলতে লাগলো। নবী পতœী হযরত আয়েশা রা: এর চরিত্রের ওপর অপবাদ দেওয়ার ঘটনা আল্লাহর কাছে এক বিরাট মারাত্মক ব্যাপার ছিলো। মহান আল্লাহ তায়ালা এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও রাগান্বিত হয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা হযরত আয়েশা রা: এর পবিত্রতা ও সতীত্ব বর্ণনা করে দশটি আয়াত নাযিল করেছেন (সূরা নূর ১১নং থেকে ২০নং পর্যন্ত আয়াত)। এসব আয়াতে আল্লাহ তায়ালা হযরত আয়েশার পবিত্রতা ঘোষণা করেন। হযরত আয়েশার ব্যাপারে যারা কুৎসা রটনা ও অপপ্রচারে অংশগ্রহণ করেছিলো, তাদের সবাইকে আল্লাহ হুশিয়ার করে দিয়েছেন এবং ইহকালে ও পরকালে তাদের বিপদ বর্ণনা করেছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন:
“যারা (নবী পরিবার সম্পর্কে) মিথ্যা অপবাদ নিয়ে এসেছে, তারা (ছিলো) তোমাদেরই একটি (ক্ষুদ্র) দল; এ (বিষয়টি)-কে তোমরা তোমাদের জন্য খারাপ ভেবো না; বরং (তা) তোমাদের জন্যে (একান্ত) কল্যাণকর, এদের মধ্যে প্রতিটি ব্যক্তি যে যতটুকু গুনাহ করেছে, সে ততটুকুই (তার ফল) পাবে, আর তাদের মধ্যে যে সবচাইতে বেশি (এ গর্হিত কাজে) অংশগ্রহণ করেছে, তার জন্যে আযাবও থাকবে অনেক বড়। - সূরা আন নূর: ১১।”
“যদি সেই (মিথ্যা ঘটনা)-টি শোনার পর মোমেন পুরুষ ও মোমেন নারীরা নিজেদের ব্যাপারে একটা ভালো ধারণা পোষণ করতো! (কত ভালো হতো) যদি তারা একথা বলতো, এটা হচ্ছে এক নির্জলা অপবাদ মাত্র! -সূরা আন নূরঃ ১২।”
“(যারা অপবাদ রটালো) তারাই বা কেন এ ব্যাপারে চার জন সাক্ষী হাজির করলো না, যেহেতু তারা (প্রয়োজনীয়) সাক্ষী হাজির করতে পারেনি, তাই আল্লাহ তায়ালার কাছে তারাই হচ্ছে মিথ্যাবাদী। -সূরা আন নূরঃ ১৩।”

“(হে মোমেনরা,) যদি দুনিয়া ও আখেরাতে তোমাদের ওপর আল্লাহ তায়ালার দয়া অনুগ্রহ না থাকতো, তাহলে (একজন নবী পতœীর) যে বিষয়টির তোমরা চর্চা করছিলে, তার জন্যে এক বড় ধরনের আযাব এসে তোমাদের স্পর্শ করতো। -সূরা আন নূরঃ ১৪।”
“(যখন) তোমরা এ (মিথ্যা)-কে নিজেদের মুখে মুখে প্রচার করছিলে, (তখন) নিজেদের মুখ দিয়ে এমন সব কথাগুলো বলে যাচ্ছিলে যে ব্যাপারে তোমাদের কোনো জ্ঞান ছিলো না, তোমরা একে তুচ্ছ বিষয় মনে করছিলে, কিন্তু তা ছিলো আল্লাহ তায়ালার কাছে একটি গুরুতর বিষয়। -সূরা আন নূরঃ ১৫।”
“তোমরা যখন ব্যাপারটা শীনলে তখন সাথে সাথেই কেন বললে না, আমাদের এটা মোটেই সাজে না যে, আমরা এ ব্যাপারে কোনো কথা বলবো, (হে) আল্লাহ তুমি অনেক পবিত্র, অনেক মহান! সত্যিই (এ ছিলো) এক গুরুতর অপবাদ! -সূরা আন নূরঃ ১৬।”
“আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন, তোমরা যদি মোমেন হও তাহলে কখনো এরূপ আচরণের পুনরাবৃত্তি করো না। -সূরা আন নূরঃ ১৭।”
“আল্লাহ তায়ালা (তাঁর) আয়াতসমূহ স্পষ্ট করে তোমাদের সামনে বর্ণনা করেন এবং আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন বিজ্ঞ, কুশলী। -সূরা আন নূরঃ ১৮।”
“যারা মোমেনদের মাঝে (নিজে অপবাদ রটনা করে) অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, তাদের জন্যে রয়েছে দুনিয়া ও আখেরাতে মর্মন্তুদ শাস্তি; আল্লাহ তায়ালা সবকিছু জানেন, তোমরা (কিছুই) জানো না। -সূরা আন নূরঃ ১৯।”
“(হে মোমেনরা,) যদি তোমাদের ওপর আল্লাহ তায়ালার দয়া ও অনুগ্রহ না থাকতো (তাহলে মোনাফেকদের এ রচনার ফলে একটা বড় বিপর্যয় ঘটে যেতো), অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা বড়ই দয়ালু ও স্নেহ প্রবণ! -সূরা আন নূরঃ ২০।”

উপরোক্ত এই দশটি আয়াত নাযিল করার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা হযরত আয়েশা রা:-কে পবিত্র ঘোষণা করলেন। সেইসাথে আল্লাহর এই ঘোষণা গোটা নারী জাতিকেই সম্মানিত করলো। এই দশটি আয়াত নাযিল করার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে যেসব শিক্ষা দীক্ষা দিয়েছেন এবং কীভাবে নারী জাতি সম্মানিত হলো আমরা সেসব নিয়ে আলোচনা পরবর্তী পর্যায়ে করেছি, আশা করি পড়তে থাকবেন, ইনশাল্লাহ!

[পরবর্তী অংশ আগামীকাল]
 

মন্তব্য