| প্রচ্ছদ

দোয়া ইবাদতের মগজ: পবিত্র রমজানে  বেশি বেশি দোয়া করি

আরিফ রেহমান
পঠিত হয়েছে ২০৩ বার

দোয়া করাও একটি ইবাদত। সব ইবাদতের প্রাণ হল, দোয়া। দোয়াকে সকল ইবাদতের মগজ বলা হয় । দোয়ার মাধ্যমেই আল্লাহর সাথে বান্দার সংযোগ তৈরি হয়। এ কারনে আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের বেশি বেশি দোয়া করতে বলেছেন। পবিত্র কুরআন এ আল্লাহ পাক এরশাদ করেছেন, ‘‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। (সুরা মু’মীন,আয়াত ৬০)। আবার সুরা বাকারার ১৮৬ নং আয়াতে বলেছেন, কোন প্রার্থনাকারী  যখন প্রাথনা করে, আমি তার প্রার্থনা কবুল করি। পবিত্র কুরআন শরীফে এ বিষয়ে আরো অনেক আয়াত আছে।
হাদিসে আছে, প্রত্যেকেরই উচিৎ আল্লাহর দরবারে স্বীয় মকছুদের জন্য দোয়া করা। রাসুল(সা:) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজেদের জন্য দোয়ার দুয়ার খুলে দেয়, আল্লাহ পাক তার জন্য রহমতের দুয়ার খুলে দেন। মানুষ পাপ করলে আল্লাহ বেজার হন ঠিকই কিন্ত ক্ষমা চাইলে বেশি খুশি হন।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহই বান্দাদের সুন্দর সুন্দর দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কিভাবে দোয়া করতে হয় সে শিক্ষা দিয়েছেন। 
আমরা অনেক সময়েই দোয়ার সঠিক নিয়ম জানিনা, সে জন্য দোয়ার বরকত, ফজিলত, রহমত অর্জন করতে পারি না। আল্লা্হ মাফ করতে ভালোবাসেন। তাই কুরআনে বান্দাদেরকে বার বার দোয়া করতে বলছেন। তার কাছে মাফ চাইতে বলেছেন। পাপের মধ্যে ডুবে থেকেও তওবা করে দোয়া করতে বলেছেন। তাই সঠিক নিয়মে দোয়া করলে দোয়া আল্লাহ কবুল করেন। কোন দোয়ায় সাথে সাথে বান্দাদেরকে প্রতিদান দেন। আবার কোন দোয়ার প্রতিদান উনি রেখে দেন কেয়ামতের দিন দেয়ার জন্য। বিচারের দিনে বান্দার পূর্ণ কম হলে সেখান থেকে তিনি প্রতিদান দিয়ে তাকে জান্নাতে দিবেন। এসময়   যারা দুনিয়াতে দোয়ার প্রতিদান পেয়েছেন তারা আফসোস করবেন। আল্লাহ কেন তুমি আমার প্রতিদান দুনিয়াতে দিয়েছ, কেন রেখে দাওনি। এ জন্য সবাইকে বেশি বেশি দোয়া করতে হবে।

রমজানের দোয়া কবুলের উপযুক্ত সময়: 
দোয়া সব সময়ই করা যায় । যেকোনো সময়, যেকোনো অবস্থায় । তারপরও দোয়া কবুলের  কিছু সময় আছে । সে সময় গুলোতে সাধারনত দোয়া কবুল করা হয় । দোয়া কবুলের উত্তম সময় হিসেবে ধরা হয়। 
১. রাতের শেষ ভাগ, সেহেরির সময়। তাহাজ্জুতের নামাজের পর দোয়া কবুল হওয়ার উপযুক্ত সময়। আল্লাহ তা’লা এ সময়ে প্রথম আসমান থেকে তার বান্দাদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের কার কি প্রয়োজন, আমার কাছে চাও, আমি দিয়ে দিব। ২. ইফতারির আগের সময়। ইফতার সামনে নিয়ে দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়। ৩. নামাজ ও একামতের মধ্যবর্তী সময়। ৪, ফরজ নামাজের পর। ফরজ নামাজের পর তাসবিহ, তাহলিল ও দরুদ পাঠ করে দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়। ৫. বৃষ্টির সময় । বৃষ্টি হলো দুনিয়াবাসির জন্য আল্লাহর রহমত।  ৬. নামাজের মধ্যে ।(দোয়া মাছুরা উত্তম দেয়া)। ৭. জুম্মার নামাজের দিনে। কোন কোন আলেমের মতে, জুম্মার খুতবার মধ্যবর্তী সময় । আবার কারো মতে, জুমার দিন, আসরের নামাজের পর দোয়া কবুল হওয়ার উপযুক্ত সময় । ৮. শবে কদরের রাতে। এ রাতে নফল ইবাদত, পবিত্র কুরআন তেলওয়াতের পর। ৯. পবিত্র হজের সময়। হজের সময় কাবা শরিফে অন্তত ১১ টি স্থান আছে ,যেখান থেকে দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়। ১০। এছাড়াও দুই ঈদের দিন, কোরআন শরীফ পড়ার সময়, দোয়া করতে বলা হয়েছে।
দোয়া করার নিয়ম
দোয়া করার কিছু নিয়ম আছে। সেই নিয়মের দোয়া করলে আল্লাহ সুবহান আল্লাহ সুবহান আল্লাহ তাআলা দোয়া কবুল করবেন। 
ক। আমরা সাধারণত যেভাবে দোয়া করি, সব সময় দোয়া সঠিক নিয়মে করতে পারিনা। আমাদের দোয়াগুলো হয় ত্রুটিপূর্ণ। আমরা যখন দোয়া করি, দোয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুধু চাই আর চাই। আল্লাহ আমাকে এটা দাও, এটা দাও , ধন দৌলত, ছেলে দাও, মেয়ে দাও, বাড়ি দাও, গাড়ি দাও। শুধু দাও আর দাও। আল্লাহ যা দিয়েছেন, তার কখনোই শুকরিয়া আদায় করিনা। আল্লাহর যে যে নিয়ামত গ্রহণ করছি তারও শুকরিয়া আদায় করি না।দোয়াকে তিনভাগে ভাগ করে নেয়া যেতে পারে। ১। প্রথম ভাগে মহান আল্লাহর প্রশংসা করা। তার শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নেয়। তাঁর সৃষ্টির প্রশংসা করা। হযরত আদম(আ:) থেকে শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা:) পর্যন্ত দুনিয়াতে যেসব নবী, রাসুল এসেছেন তাদের জন্য দোয়া করা। সমস্ত মাখলুকাতের জন্য দোয়া করা। ২। আমাকে যে নেয়ামত দিয়েছেন তার জন্য শুকরিয়া আদায় করা। ৩। এরপর নিজের জন্য দোয়া করা। মনের সব চাওয়া আল্লাহর কাছে বলা। তবে নিজের পাশাপাশি অন্যদের জন্য দোয়া করা।
আল্লাহ আমাদেরকে যে, সুন্দর স্বাস্থ্য দিয়েছেন, সুন্দর চেহারা দিয়েছেন, আমাদেরকে অনেকের চেয়ে সুস্থ্ রেখেছেন, ভালো রেখেছেন, ভাল কর্ম দিয়েছেন, আয়-রোজগার দিয়েছেন, এজন্য  বেশি বেশি শুকরিয়া আদায় করতে হবে। সুন্দর আলো, বাতাস ,রোদ বৃষ্টি, সুন্দর আবহাওয়া দিয়েছেন এ জন্যও শুকরিয়া আদায় করা জরুরী। সর্বোপরি, যে অবস্থায় আছি সে অবস্থার জন্য শুকরিয়া আদায় করতে হবে। এরপর মুসলিম উম্মাহর জন্য কল্যান চাইতে হবে। কবিরা, ছগিরা, শিরক, বেদাআতি গুনাহর জন্য মাফ চাইতে হবে। দুনিয়ার সব মুসলমানের জন্য দেয়া করতে হবে। বিগত জীবনের সমস্ত পাপ  স্মরণ করে, পাপের জন্য অনুতপ্ত হয়ে নিজের জন্য গুনাহ মাফ চাইতে হবে। এরপর সন্তানের জন্য , বাবা -মার জন্য, মহল্লাবাসীর জন্য, প্রতিবেশীর জন্য ,বন্ধু -বান্ধবের জন্য, কর্মস্থলের সহকমিৃদের জন্য, প্রতিষ্ঠানের জন্য, দেশবাসীর  কল্যাণ চেয়ে দোয়া করতে হবে । সবাইকে হেফাজত আর রহমত করুন বার বার বলতে হবে। আমরা সাধারণত নিজের জন্যই বেশি দেয়া করি। কিন্ত অন্যদের জন্য নাম ধরে ধরে দোয়া করাও উত্তম। যার দুনিয়াতে হাত তোলার মত আর কেউ নেই তাদের জন্যও দোয়া করতে হবে। দোয়ায় আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ছোট জিনিষও চাওয়া যেতে পারে। আমার জামা দরকার, পোশাক দরকার, সেন্ডেলের ফিতা ছিঁড়ে গেছে সেটার সুব্যবস্থা করে দাও, এমনকি অতি তুছ্ছ বিষয় লবনের জন্যও দোয়া করা যেতে পারে। নিজের মনের ইচ্ছা অন্তত তিনবার দৃঢতার সাথে বলতে হবে। 
দোয়া করার পরিবেশ তৈরি করে নিতে হবে। নিরিবিলি পরিবেশে দোয়া করা উত্তম। রাতে হলে লাইট অফ করে আধো আলোয় দোয়া করা ভাল । এরপর মন নরম করে কাঁদো কাঁদো হয়ে আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। মনে রাখতে হবে , আল্লাহ সুবহান আল্লাহ তা’আলা আমার ফরিয়াদ আমার সামনেই শুনছেন। ফরিয়াদ অবশ্যই বিনয়ের সাথে অনুতপ্ত হয়ে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে করাই উত্তম।

খ। মুনাজাত করার আগে অবশ্যই বেশি বেশি দুরুদ পড়তে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন দোয়াই পৌঁছবে না, যদি তার উপর দরুদ পড়া না হয় । দোয়ার শুরু ও শেষে বেশি বেশি দরুদ পড়তে হবে। নামাজে পড়ার দরুদে ইব্রাহিমটাই উত্তম। অন্য দরুদও পড়া যেতে পারে।
গ। দোয়ার আগে অবশ্যই তাওবা , (ইস্তেগফার) পড়তে হবে। বুখারী শরীফে আছে, বান্দা যখন গুনাহ স্বীকার করে তওবা করে, তখন আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। (বুখারী-২,৬৯৮)। আবার তিরযিজী(-২,১৯৮)  শরিফে আছে,যে ব্যক্তি তওবা করে , তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়।
ঘ। দোয়ার আগে সুরা ফাতিহা ,সূরা ইখলাস,আয়াতাল কুরসি পড়তে হবে। এছাড়াও তাসবিহ পাঠ করতে হবে। সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার,. লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ এগুলো বার বার পড়তে হবে । কুরআন ও হাদীসে আরবীতে অনেক দোয়া শেখানো আছে। যার যেটা মুখস্ত আছে সেটা বলার পর নিজ ভাষায় মনের সব কথা বলতে হবে। আমরা সবাই চেষ্টা করি নবী ও রাসুলকে শেখানো মুনাজাতের দোয়াগুলো মুখস্ত করার। 


দোয়া করার কিছু টিপস
দোয়া আমরা প্রতিদিনই করছি । বুদ্ধির বয়সের পর থেকে যখন থেকে ইবাদত করা শিখেছি তখন থেকেই দোয়া করছি। কিন্তু সেই দোয়ার মধ্যেও কিছু পরিকল্পনা থাকতে হবে। কিছু প্রস্তুতি থাকতে হবে।। আমরা কেউ দোয়া করার জন্য কখনোই কোনো প্রস্তুতি নেই। না কোনো পরিকল্পনা করি না মুখে যখন যা আসে তাই বলি। প্রতিদিন প্রতি সময়ে একই কথা বারবার বলি।  আর একটা জিনিষ সব সময় মনে করি, আল্লাহ তো আমার মনের সব কথাই জানেন। উনি জেনেই আমাকে সব দেবেন। এত কিছু চাইতে হবে কেন? কিন্ত শুদ্ধ মত হল, চাইতে হবে। মন খুলে চাইতে হবে। চাওয়ার আদেশ আল্লাহই করেছেন। দোয়ায় আল্লাহ মানুষের ইচ্ছা, চেষ্টা, আকাঙ্খাকেই বেশি গুরুত্ব দেন। 
১।. প্রতিদিন দোয়া করার জন্য নোট লিখতে পারলে ভালো। কোন সময় কোন দোয়ার জন্য কি ফরিয়াদ করবো,সবারই সেটি একটি মানসিক প্রস্তুতি থাকতে হবে। লিখে রাখার অভ্যাস করা ভালো। সেই অনুযায়ী দোয়া করা। 
২। প্রতিদিন প্রতি ওয়াক্তের নামাজে অল্প সময় দোয়া করলেও ২৪ ঘন্টা দিন রাতের মধ্যে  অন্তত একবার দীর্ঘক্ষন দোয়া করার সময় ঠিক করে নিতে হবে। যার যার সুবিধামতো সময়ে তাকেই নির্ধারণ করতে হবে। ওই সময়ে মনের সব কথা বলে দোয়া করার অভ্যাসটি গড়ে তুলতে হবে। দোয়া করার সময় চোখ খোলা রাখতে হবে। আকাশের দিকে তাকানো নিষেধ আছে। আবার দোয়া করার সময় কখনোই উচ্চ স্বরে কিংবা বিকট শব্দে কান্নাকাটি করে দোয়া করা ঠিক নয়। এতে পাশের মানুষের অসুবিধা হয়। দোয়াতেও আদব থাকা দরকার। দোয়ার আদব, অনুচ্চস্বরে দোয়া করা। সঠিকভাবে মনোযোগ নিয়োগ করা দরকার।

 ৩। পারলে আলেম,ওলামা,মুফতি,হাফেজ, বড় বজুর্গ ,হাজী, মুসাফির, ইত্তেকাফকারী , ইয়াতিম, শিশু, বাবা- মা , সন্তানদের সাথে নিয়ে দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়। বড় বড় দোয়া মাহফিলে শরিক হওয়ায় উত্তম।
৪। সবচেয়ে বড় কথা হল, আমরা কে কখন চলে যাব কেউ জানিনা। এ কারনে দোয়া এমন ভাবে করা, যেন এটিই আমার জীবনের শেষ দোয়া হয়। মনে এমন ভাব তৈরি করতে পারলে অন্তর থেকে আল্লাহ ও তার রাসুল(সা:) এর জন্য মহব্ব্ত তৈরি হবে। অন্তর থেকেই কথা আসবে। আল্লাহ নিশ্চই বান্দার এমন দোয়া কবুল করবেন।

দোয়া কবুল হওয়ার শর্ত 
আমরা প্রতিদিনই দোয়া করি কিন্তু এর ফায়দা পাই না । এ কারণেই আমাদের অনেকেরই মনে সন্দেহ- সংশয় থাকে। এর মূল কারণ হালাল উপার্জন থেকে আমাদের অনেকেরই জীবন -জীবিকা চলে না । আমরা বিভিন্নভাবে দুর্নীতি গ্রস্থ হয়ে গেছি। আমরা অন্যের হক আদায় করি না । দোয়া কবুল হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে হালাল রুটি-রুজি । সৎ উপার্জন করা। সুতরাং সকলকেই হালাল উপার্জনের মাধ্যমে জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করতে হবে। আর অন্যের হক আদায় করতে হবে।

রমজানের জন্য বিশেষ দোয়া
পবিত্র কোরআন ও হাদিছে অনেক দোয়া আছে।  আমার সেই সব দোয়ার অনেকেই অনেক কিছু জানি ও পড়ি। যেগুলো জানিনা সেগুলো সহি শুদ্ধভাবে জেনে নেয়ার চেস্টা করি। সেগুলো আমল করি। 
এই রমজান মাসে বেশী বেশী পরী। হুজুর (সাঃ) উম্মুল মোমেনিন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু কে শবে কদরে এই দোয়া শিক্ষা দিয়েছিলেন। আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা' ফু আন্নী । অর্থঃ হে আল্লাহ আপনি অতি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালবাসেন। অতএব  আমাকে ক্ষমা করুন। 
বারবার পড়ি। আল্লাহ আমাদের নিশ্চয় মাফ করবেন ।এছাড়াও সব সময় সব অবস্থায় পড়ি, আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান্নার । হে আল্লাহ, জাহান্নামের আগুন থেকে আমাদের রক্ষা করুন । 

দোয়া করার পদ্ধতি:
বিভিন্ন দোয়ার মাহফিল, কবরস্থান আর বড় জামাতে বিষয়টি লক্ষ্য করলে আপনিও অবাক হবেন। গোটা জীবন পার হয়ে যাচ্ছে কিন্ত দোয়া করার সঠিক পদ্ধতি বেশির ভাগ মানুষই জানিনা। কেউ হিন্দুয়ানি স্টাইলে (প্রণাম করার মত করে) মাথা নত করে দুই হাত জোড়া করি । আবার কেউ দুই হাতের মধ্যে এক হাত ফাঁক করে হাত তুলি। কেউ দুই পা ফাঁক করে দাড়াই। সঠিক হল, সিনা বরাবর দুই হাত তুলে হাতের মাঝে সামান্য ফাঁকা রেখে দোয়া করা। যেকোন দিক হয়ে দোয়া করা যায়। তবে আদব হল, কেবলামুখি হয়ে নামাজের মত করে বসে দোয়া করা।

 একটি অভ্যাস গড়ে তুলি:
এই রমজানে আমাদের দেশে কম বেশি সব পরিবারেই ফরজ রোজা রাখা হয়। কিন্ত ঘরে ঘরে ইফতারের আগে দোয়া করা হয়না। এই রেওয়াজ খুব কম পরিবারেই আছে। যার কারনে আমরা রমজানের শ্রেষ্ট এই মুহুর্তর ফজিলত পাচ্ছিনা। বরং ঘরে ঘরে দেখা যায়, এসময় কাজ নিয়ে ব্যস্ত। আমরা প্রত্যেক পরিবারে ইফতারের আগে সবাই দিলে হাত তুলে দোয়া করা অভ্যাস গড়ে তুলি। ছেলে –মেয়ে , বাবা-মা, ভাই- বোন, আর পরিবারসহ সকলের এই দোয়া আল্লাহর কাছে অনেক পছন্দের। আর এ ধরনের দোয়া শুধু পরিবারের প্রধান নয়, একেক দিন একেকজন হাত তুলতে পারি। এতে ছোটরাও ভাল করে দোয়া শিখতে পারবে। এতে পারিবারিক বন্ধন আরো শক্তিশালী হবে।
আরো একটি বিষয়, আমরা একে অপরের কাছে, পরিচিত জনের কাছে, আত্মীয়-স্বজনদের কাছে সাধারণত দোয়া চাইনা। এটা অনেকের কাছেই ছোট মনে হয়। কিন্ত সবাই সবার জন্য দোয়া চাওয়া দারকার। আমাদের প্রিয় নবী রাসুলও (সা:) ওমরের কাছে সাহাবীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। এর নজীর কিতাবে আছে।
সেই সাথে এই রমজানে আমাদের প্রত্যেক ঘরে ঘরে মা, বোন , দাদি, নানী, চাচিরা পরিবারের সদস্যদের সেবার জন্য কি সীমাহীন কস্ট করছেন। রাত জেগে সেহরী আর ইফতার তৈরি করছেন। দিন শেষে সবার জন্য সুন্দর আয়োজন করছেন। চাকুরীজীবী নারী হলে তো আরো বেশি কষ্ট। সেই সব নারীদের জন্য বিশেষ দোয়া করি। আল্লাহ যেন তাদেরকে রোজাদারের সেবা করার জন্য উত্তম প্রতিদান দেন। তাদেরকে মাফ করে দেন। আর নিজেরাও তাদের কাজে যতটা সম্ভব  সাহায্য করি। আল্লাহ সবাইকে মাফ করে দিন। রমজানের প্রতিটি সময় আমরা আল্লাহর সন্তষ্টির জন্য কাজে লাগাই। বেশি বেশি নেক আমল করি। আমীন। তারিখ:৩০ মে ২০১৯, কানছগাড়ি মসজিদে ইত্তেকাফ থেকে।

লেখক: সাংবাদিক। স্টাফ রিপোর্টার, এস এ টিভি, সেল ফোন: ০১৭১১৯৩৫২১৫, ই মেইল: [email protected]

মন্তব্য