| প্রচ্ছদ

বগুড়ায় বেপরোয়া ছিনতাইকারীদের ধরতে এবার ফেসবুকে জনগণের সহযোগিতা চাইলো পুলিশ প্রশাসন

বিশেষ প্রতিবেদন:
পঠিত হয়েছে ৩৪৩ বার। প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০১৮ । আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৮ ।

বগুড়ায় বেপরোয়া হয়ে ওঠা ছিনতাইকারীদের ঠেকাতে এবার ফেসবুকে জনগণের সহযোগিতা চাইলো পুলিশ প্রশাসন। বগুড়াকে নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে ছিনতাইকারীদের তথ্য চাওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত ৯টার পরে বগুড়ার পুলিশ সুপারের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট (SP Bogra) থেকে পোস্ট করা একটি স্ট্যাটাসে বলা হয়েছে, ‘ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। নিরাপদ বগুড়া গড়তে ছিনতাইকারীদের সম্পর্কে তথ্য ইনবক্সে দিন। আপনার পরিচয় গোপন করা হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বগুড়ায় গত দেড় মাসে কয়েকটি বড় ধরনের অভিযানে ৩২ হাজার পিস ইয়াবাসহ ওই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নারী-পুরুষসহ ১৫জনকে গ্রেফতারের পর এ জেলায় মাদকের কেনা-বেচা অনেকটাই কমে এসেছে। আর সেই সুযোগে মাদক সেবীরা মাদক সংগ্রহের জন্য আরও মরিয়া হয়ে উঠেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাতে গিয়ে জানতে পেরেছেন যে, মাদক সেবীদের বড় একটি অংশই ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। মূলত মাদক কেনার পয়সা যোগাতেই তারা ছিনতাইয়ের মত অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। সে কারণেই এবার ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। তারই ধারাবাহিকতায় খোদ পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জনগণের কাছে ছিনতাইকারীদের সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে।
পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, কোন এলাকায় কারা মাদক সেবী এবং তাদের মধ্যে কারা ছিনতাইকারী সেই তথ্য ওই এলাকার লোকজনের জানা আছে। তাদের বেশিরভাগই তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতাও করতে চান। কিন্তু গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে কি’না তা নিয়ে সংশয় থাকায় তারা আর সাহস পান না। বিষয়টি আঁচ করতে পেরেই এবার খোদ জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা জেলাবাসীকে গোপনীয়তা রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন।
স্ট্যাটাস দেওয়ার ২৪ ঘন্টারও কম সময়ে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বেশ ভাল সাড়া পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা। তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর থেকে জনগণের কাছ থেকে আমরা বেশ ভাল সাড়া পাচ্ছি। তারা ইনবক্সে প্রচুর তথ্য দিচ্ছেন। তথ্য পাওয়ার পর পরই আমরা টিম পাঠিয়ে সেখানে অভিযান চালাচ্ছি। একাজটি এতটাই গোপনীয়তার সাথে করা হচ্ছে তথ্যদাতার নাম আমি ছাড়া অন্য আর কেউ জানতে পারছে না।’
পুলিশ এবং ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৮ নভেম্বর গভীর রাত থেকে এ পর্যন্ত ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা সদস্যসহ ৩জন খুন হয়েছেন। নিহতরা হলেনঃ অবসর প্রস্তুতিকালীন ছুটিতে থাকা জাহাঙ্গীরাবাদ সেনানিবাসে বসবাসকারী সেনা সদস্য শফিকুল ইসলাম (৪৫), সেনা বাহিনীতে যোগ দিতে আসা নওগাঁর যুবক সাব্বির হোসেন (১৭) ও অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার শহরের চকলোকমান এলাকার বাসিন্দা জাহান বক্স (৬০)। ছিনতাইকারীদের ছুরিঘাতে ভাগ্যের বেঁচে গেছেন বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের মাস্টার্সের ছাত্র গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের বাসিন্দা হাসানুর রহমান।
শুধু রাতের বেলাতেই নয় মাদকের টাকা জোগাড়েরর জন্য বেপরোয়া হয়ে ওঠো দুর্বৃত্তরা দিনের বেলায় কখনও কখনও সোদা পোশকের পুলিশ পরিচয়েও মানুষের সর্বস্ব লুটে নিয়েছে। জুবায়ের সজিব নামে তেমনই এক ব্যক্তি চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আজিজুল হক কলেজ নতুন ভবনের সামনে থেকে দুপচাঁচিয়া থেকে আসা ৩ ব্যবসায়ীকে পুলিশ পরিচয়ে কৌশলে অপহরণ করে। এরপর সে ওই ৩ ব্যক্তিকে শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে নিয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার ৯ দিনের মাথায় পুলিশ তাকে গ্রেফতারও করে। একইভাবে অন্যান্য ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের প্রায় সকলকেই পুলিশ দ্রুত গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু তার পরেও ছিনতাই পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। সুযোগ পেলেই তারা তৎপর হওয়ার চেষ্টা করছে।
বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা জানান, মাদককের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাত রাখার পাশাপাশি ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার থাকবেন। তিনি বলেন, ‘জনগণকে সাথে নিয়েই আমরা এ শহরকে নিরাপদ করতে চাই।’

মন্তব্য