| প্রচ্ছদ

বগুড়ায় কাঁচি দিয়ে কুপিয়ে বৃদ্ধাকে খুন

স্টাফ রিপোর্টার
পঠিত হয়েছে ১৭৪ বার

জন্মের মাত্র সাতদিনের মাথায় বাবা-মা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর লালন পালন হতে থাকে নানির কাছে। পঁচিশ বৎসর পর সেই নানীকেই কাঁচি দিয়ে কুপিয়ে খুন করলো সুকদেব চন্দ্র (২৫) নামে এক যুবক। এই নৃশংস খুনের ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে জেলার সোনাতলা উপজেলার চকনন্দন গ্রামে। নিহতের নাম জোসনা রানী (৬৫)। তিনি ওই গ্রামের মৃত উপেন চন্দ্রের স্ত্রী।


পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান,২৫ বছর আগে জোসনা রানীর একমাত্র মেয়ে নিয়তি রানীকে বিয়ে দেন গাবতলী উপজেলার সুখানপুকুর গ্রামের জনৈক বাসুদেব চন্দ্রের সঙ্গে। বিয়ের ২ বছর পর জন্ম নয় সুখদেব চন্দ্র। সুখদেব চন্দ্রের মাত্র ৭দিনের মাথায় তার মা-বাবা দু’জনেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। কোন রকম বেঁচে থাকে সুখদেব। এক পর্যায়ে জোসনা রানী সুখদেবকে তাদের বাড়ীতে নিয়ে প্রতিপালন করতে থাকেন। তাকে স্কুলে ভর্তি করে দিলেও মাত্র ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত পড়ালেখার পর লেখাপড়ার পাঠ চুকিয়ে দেয়। সে যুবক বয়সে বখাটে হয়ে যায়। মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। তার নানী তাকে নিয়ন্ত্রন করতে ব্যর্থ হন। তবুও নাতিকে আগলে ধরে রাখন বৃদ্ধা জোসনা রানী।


এদিকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার সময় নাতি সুদেব ঘুমন্ত নানিকে ধান কাটার কাঁচি দিয়ে উপর্যুপুরি কোপায়। এতে জোসনা রানী মারা গেলে তার লাশ ঘরের বাহিরে ফেলে রাখে। ভোর রাতে প্রতিবেশীরা জোসনা রানীর লাশ পড়ে থাকতে দেখে থানায় সংবাদ দেয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন ঘাতক সুখদেবকে আটক করে রাখে। পুলিশ  শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে এবং সুখদেবকে গ্রেফতার করে। 


এ ব্যাপারে সোনাতলা থানার ওসি মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসউদ চৌধুরী জানান, ঘাতক নাতি সুদেব কাঁচি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তার নানীকে খুন করেছে। এছাড়াও শক্ত কিছু দিয়ে মুখ মন্ডলে আঘাত করায় মুখ থেতলে গেছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। 
 

মন্তব্য