| প্রচ্ছদ

বগুড়ায় শান্তিপূর্ণ ভোট চলছে, ভোটার উপস্থিতি কম

স্টাফ রিপোর্টার
পঠিত হয়েছে ১০৮ বার

বগুড়া-৬ (সদর) শূন্য আসনে নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। তবে ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কম। অবশ্য শহরের তুলনায় গ্রামের কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা বেশি। শহরের কেন্দ্রগুলোতে নারী ভোটার উপস্থিতি খুব কম হলেও গ্রামে তাদের সারি বেঁধে ভোট দিতে দেখা যাচ্ছে।

সোমবার সকাল ১০টায় শহরের করনেশন স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে ২ হাজার ৪৪ ভোটারের মধ্যে মাত্র ৭৭ জন বা ২ দশমিক ৮১ শতাংশ ভোট দিয়েছেন। ওই ৭৭ জন ভোটারের মধ্যে ৫৯ পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। একই সময় পর্যন্ত শহরের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কুল ও কলেজের মহিলা কেন্দ্রে ২ হাজার ৭৪০ জনের মধ্যে ৭৪ জন বা ২ দশমিক ৭০ ভোটার ভোট দিয়েছেন। ওই একই প্রতিষ্ঠানের পুরুষ কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৮৮ জন ভোটারের মধ্যে ১৪৪ বা ২ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। 

ভোট গ্রহণের দুই ঘণ্টা পর সদরের নুন গোলা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুরুষ ১ হাজার ৮০৮ জন ভোটারের মধ্যে ২০৯ জন বা ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। একই কেন্দ্রে ১ হাজার ৪৪ জন নারী ভোটারের মধ্যে ৬০ জন বা ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ মহিলা ভোট দিয়েছেন।

সদরের ধাওয়াপাড়ায় বগুড়া কলেজের মহিলা কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬১১ জন মহিলা ভোটার বা ২দশমিক ২৪ শতাংশ ভোট দিয়েছন। সদরের পল্লীমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মহিলা কেন্দ্রে ২ হাজার ৩২০ ভোটারের মধ্যে সকাল ১১টা পর্যন্ত ৮৩ বা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।

ইভিএমে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্য কোনো সমস্যা না থাকলেও অনেক সময় আঙ্গুলের ছাপ মেলাতে গিয়ে কারো কারো সমস্যা হচ্ছে। করনেশন স্কুল কেন্দ্রে জিতুক সাহা নামে এক যুবকের আঙ্গুলের ছাপ তিনবার চেষ্টার পর মিলেছে। সদরের নুন গোলা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৭৭ বছর বয়সী জমিরন বেওয়ার একে একে দশ আঙ্গুলের ছাপ নেওয়া হলেও তা মিলছিল না। সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার নার্গিস আক্তার পরে ওই বৃদ্ধার হাতের সবগুলো আঙ্গুল মুছে আবার আঙ্গুলের ছাপ নেওয়া শুরু করেন। এবারও কয়েকবার চেষ্টার পর জমিন বেওয়ার বাম হাতের আঙ্গুলগুলোর মধ্যে তর্জনীর ছাপ মিলে যায়। তখন ওই বৃদ্ধাও যেন  হাফ ছেড়ে বাঁচেন। একটু হেসে তিনি বলতে শুরু করেন, 'যাক তাহলে ভোটটা দিবার পারমো। হামি তো ভাবছুনু মিশিনোত হামার ভোট হবি না।' 

জমিরন বেওয়ার আঙ্গুলের ছাপ নিতে সমস্যা হওয়ার কারণ জানতে চাইলে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার নার্গিস আক্তার বলেন, যারা হাত দিয়ে বেশি কাজ করেন তাদের ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা হয়। একই কথা বলেন, করনেশন স্কুল ও কলেজের প্রিসাইডিং অফিসার জুয়েলুর রহমান।

এদিকে ভোট ঘিরে ভোট কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি সদস্যরা কেন্দ্রের বাইরে টহল দিচ্ছে।

মোট ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও কেদ্রগুলোতে নৌকা, ধানের শীষ ও লাঙ্গল প্রতীকের পোলিং এজেন্ট ছাড়া আর কাউকে পাওয়া যায়নি। 

নুন গোলা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষের পোলিং এজেন্ট মাসুদ রানা, নৌকার রবিন ও লাঙলের রাকিবুল জানান, ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে। কোনো সমস্যা নেই। তারা জানান, ইভিএম যেহেতু নতুন, তাই অনেকের বুঝতে সময় লাগছে। কোনো কোনো নারী ভোটার সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের সহযোগিতা নিয়ে ভোট দিচ্ছেন।

রিটার্নিং অফিসার ও বগুড়ার সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মাহবুব আলম শাহ্ জানিয়েছেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি বাড়ছে বলে তিনি খবর পেয়েছেন। এমনকি শহরেও বাড়ছে।

তিনি বলেন, 'বেলা ১২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে আমরা খবর নিয়ে জেনেছি। ভোটের পরিবেশ যেমন শান্তিপূর্ণ তেমনি ইভিএম মেশিনগুলোও স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছে। কোনো ত্রুটির খবর পাওয়া যায়নি।'

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, 'চমৎকার পরিবেশে ভোট হচ্ছে। ১৪১টি কেন্দ্রের কোনো একটি কেন্দ্র থেকে সামান্যতম কোনো সমস্যার খবর আমরা পাইনি।'

প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে বিএনপির মহসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ না নেওয়ায় আসনটি শূন্য হয়।

মন্তব্য