| প্রচ্ছদ

ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯

মোস্তাফিজ ম্যাজিকে নাগালেই থাকল লক্ষ্য

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৫১ বার

রোহিত শর্মা এবং লোকেশ রাহুল যেভাবে শুরু করেছিলেন, তাতে ভারতের স্কোরটা চার’শ পেরোবে বলেই মনে হচ্ছিল। তবে ভারতের দাপুটে শুরুর পরও বাংলাদেশ ম্যাচে ফেরে দারুণভাবে। মোস্তাফিজুর রহমান আগুনে বোলিং করলেন। ‘ম্যাজিক্যাল ফিজ’ নিলেন ৫ উইকেট। তাতে বাঁচা-মরার ম্যাচে লক্ষ্যটা থাকল সাধ্যের মধ্যেই।

মঙ্গলবার বার্মিংহামের এজবাস্টনে টস জিতে আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ৩১৪ রানের পুঁজি পেয়েছে ভারত। এবারের আসরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩২২ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল বাংলাদেশ। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রান তাড়া করতে নেমে ৩৩৩ রান করে টাইগাররা। অর্থাৎ রেকর্ড বাংলাদেশের পক্ষেই। ৩১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারে টাইগাররা।

ম্যাচের অর্ধেক ইনিংসের গল্প লিখতে গেলে অবশ্যই সেখানে নায়ক দুজন। রোহিত শর্মা ও মোস্তাফিজুর রহমান। মাত্র ৯ রানেই জীবন পেয়ে রোহিত আসরে নিজের চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নিলেন। সৌম্য সরকারের শিকার হওয়ার আগে ৯২ বলে ৭ চার ও ৫ ছক্কায় ১০৪ রান করেন এই ডানহাতি ওপেনার।

তবে তার দাপুটে ব্যাটিংয়ের সঙ্গে দারুণভাবে পাল্লা দেবে মোস্তাফিজুর রহমানের বোলিং। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো পাঁচ উইকেট শিকার করা ফিজের বোলিংই আসলে ইনিংসের টার্নিং পয়েন্ট।

উইকেট সংখ্যার বিচারে এ ম্যাচে মোস্তাফিজের ধারে কাছে আসবে না কেউই। কিন্তু বাংলাদেশকে ম্যাচে রাখতে সৌম্য সরকার, রুবেল হোসেন ও সাকিব আল হাসানের অবদানটাও কম নয়। প্রত্যেকেই ১টি করে উইকেট নিলেন। কিন্তু ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় সেই উইকেটগুলো ছিল হিরের চেয়েও দামি।

জীবন উপহার পেয়ে লোকেশ রাহুলের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে ১৮০ রান যোগ করেন রোহিত শর্মা। বাংলাদেশের সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখার স্বপ্ন তখন ধীরে ধীরে নিভে যাওয়ার উপক্রম। ঠিক সেই সময় কাঙ্ক্ষিত ব্রেক থ্রোটা এনে দেন সৌম্য সরকার। ৩০তম ওভারে ফেরালেন রোহিতকে।

এর কিছু পরই লোকেশ রাহুলকে ফিরিয়ে দেন রুবেল। ৩৩তম ওভারে ব্যক্তিগত ৭৭ রান করে ফেরেন তিনি। এরপর দৃশ্য পটে এলেন মোস্তাফিজ। ৩৯তম ওভারে পর পর ফেরালেন বিরাট কোহলি ও হার্দিক পান্ডিয়াকে। কোহলি ব্যক্তিগত ২৬ ও পান্ডিয়া রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে যান। ৪৮ রান করা রিশভ পন্তকে ফেরান সাকিব আল হাসান। তাতে ২৭৭ রানে ৫ উইকেট হারায় ভারত।

ভারত যখন রানের চাকা ঘোরানোর চেষ্টা করছে, তখন ৪৮তম ওভারে বল করতে এসে ৮ রান করা দিনেশ কার্তিকে নিজের তৃতীয় শিকার বানান মোস্তাফিজ। শেষ ওভারে ৩৫ রান করা ধোনিকে ফেরান ফিজ। ভুবনেশ্বর কুমার উইকেটে এসেই রান আউট হলেন। আর শেষ বলে মোহাম্মদ শামিকে বোল্ড করে নিজের ৫ উইকেট পূরণ করলেন মোস্তাফিজ।

শুরুটা খারাপ হলেও বোলিংয়ের শেষ ভাগটায় ছিল বাংলাদেশের দাপট। সমর্থকেরা ব্যাটিংয়ের শুরুতেও এই দাপটটাই দেখতে চায় টাইগারদের কাছে।

সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে এ ম্যাচে জিততেই হবে টাইগারদের। এ ম্যাচের আগ পর্যন্ত ৭ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টাইগারদের অবস্থান সপ্তম।

অন্যদিকে ভারতের জন্যও ম্যাচটা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ৭ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট তাদের। ম্যাচটি জিতলে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হবে দলটির। তবে হারলে শেষ চারের সমীকরণ কঠিন হয়ে যাবে তাদের।

মন্তব্য