| প্রচ্ছদ

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে তালের শাঁস-ওলকচু

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৬০ বার

পাকা তালের রস, কচি তালের শাঁস, অংকুরিত তালের আঁটির ভেতরের সাদা অংশ এবং ওলকচুতে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ ফাইটোকেমিক্যাল থাকায় উপাদান দু’টি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের এক গবেষণায় বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

বিগত কয়েক বছর ধরে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেখ শাহীনুর রহমান তার পিএইচডি গবেষণায় এ বিষয়টি প্রমাণ করতে সক্ষম হন। খবর বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম 

তিনি জানান, তাল উপমহাদের একটি জনপ্রিয় ফল। কচি তালের শাঁস, পাকা তালের রস এবং অংকুরিত তালের আঁটির ভেতরের সাদা শাঁস বাংলাদেশসহ এশিয়ার অনেক দেশে একটি জনপ্রিয় খাবার। ফলটি সুস্বাদু ও পুষ্টিসমৃদ্ধ হলেও খাদ্য কুসংস্কারের (Food Taboos) কারণে অনেক ডায়াবেটিস রোগী পাকা তালের রস অথবা এর শাঁস খাওয়া থেকে বিরত থাকেন।
 
এছাড়া মাটির নিচের সবজি হিসেবে ওলকচুর প্রতিও রয়েছে যথেষ্ট খাদ্যভীতি। কিন্তু এ ধরনের প্রচলিত ধারণার পক্ষে বৈজ্ঞানিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 

গবেষণায় দেখা যায়- পাকা তালের রস, কচি তালের শাঁস, অংকুরিত তালের আঁটির ভেতরের সাদা অংশ এবং ওলকচুর মধ্যে প্রচুর পরিমাণ পুষ্টিগুণ ও ফাইটোকেমিক্যাল রয়েছে।

যার কোনোটিই ডায়াবেটিসের মাত্রা তো বাড়ায়ই না বরং উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমাতে সাহায্য করে। স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি এ দু’টি উপাদান পরিমিত মাত্রায় প্রয়োগ করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। 

জানা যায়, এই অনবদ্য গবেষণার স্বীকৃতি স্বরূপ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট শেখ শাহীনুর রহমানকে পি এইচ ডি ডিগ্রি দেন। গবেষণা প্রকল্পটির কো-সুপারভাইজার এবং সুপারভাইজার হিসেবে ছিলেন যথাক্রমে একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম এবং অধ্যাপক ড. শেখ মো. আব্দুর রউফ। 

নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সহকারী অধ্যাপক জনাব শেখ শাহীনুর রহমান বলেন, অদূর ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি উদ্ভিদজাত উপাদানের সংমিশ্রণে ডায়াবেটিস নিরাময়ে সক্ষম খাদ্য উপাদান তৈরির নিমিত্তে গবেষণা প্রকল্প চালিয়ে যাবো। এ গবেষণার জন্য ইতোমধ্যে বিভাগে এনিমাল হাউস স্থাপন করা হয়েছে। উপযুক্ত ফান্ড পেলে গবেষণার মান এবং পরিধি বাড়ানো সম্ভব।

মন্তব্য