| প্রচ্ছদ

আত্মহত্যায় প্ররোচনাদানকারীদের গ্রেফতার দাবি

বগুড়ায় আত্মহননকারী মায়িশা’র স্কুলের সামনে তার বাবা-মা’র মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার
পঠিত হয়েছে ৫০০ বার


বগুড়ায় মায়িশা ফাহমিদা সেমন্তি (১৪) নামে এক স্কুল ছাত্রীকে আত্মহননে প্ররোচনাদানকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে তার বাবা-মার পক্ষ থেকে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। মায়িশা যে স্কুলে অধ্যয়ন করতো শহরের ঠনঠনিয়া ভাইপাগলা মাজারের পেছনে সেই ওয়াইএমসিএ স্কুল ও কলেজের প্রধান ফটকের সামনেই মঙ্গলবার দুপুরে তারা ওই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন। এতে মায়িশার ছোট বোনসহ স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তিও যোগ দেন।
স্বজনদের অভিযোগ, পূর্ব ঘোষণা অনুযাযায়ী দুপুর সোয়া ১২টায় অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধনে মায়িশার সহপাঠীসহ ওয়াইএমসিএ স্কুল ও কলেজের সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু পুলিশের অলিখিত নিষেধাজ্ঞার কারণে স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের তাতে শেষ মুহুর্তে অংশ নিতে দেয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই মায়িশার স্বজনরা ‘আত্মহত্যার প্ররোচনা, হত্যা করার সামিল, এটা হত্যার অপরাধ’ লেখা ব্যানার গলায় ঝুলিয়ে সেখানে অবস্থান করেন। মানববন্ধন থেকে মাইসার বাবা হাসানুল মাশরেক রুমন অভিযোগ করেন, তার কন্যার আত্মহননে প্ররোচনাদানকারী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণসহ থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।
পুলিশ ও মায়িশার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার ব্যবসায়ী হাসানুল মাশরেক রুমনের কন্যা মায়িশা বগুড়া ওয়াইএমসিএ স্কুল ও কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৭ জুন দিবাগত গভীর রাতে সে তার ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে। পরদিন পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে এবং ময়না তদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করে। ওই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়।
তবে বাবা হাসানুল মাশরেক রুমন অভিযোগ করেছেন তার মেয়ে মায়িশাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করা হয়েছে। তিনি মায়িশার লেখা ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধারের দাবি করে বলছেন, লাশ উদ্ধারের পর পরই তারা মায়িশার লেখা একটি কাগজ পান। যাতে তার আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে ইঙ্গিত আছে। পাশাপাশি ওই লেখায় পূর্ব পরিচিত এক যুবকের কথাও মাইসা লিখে গেছে।
মায়িশার চাচা হাসানুল মঞ্জুর দোদুল অভিযোগ করেন, সুইসাইড নোট পাওয়ার পর পরই তার ভাই মেয়ের আত্মহননে প্ররোচনাদানকারীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিতে গিয়েছিলেন কিন্তু পুলিশ তা নেয়নি। প্রায় দুই সপ্তাহেও অভিযোগটি না নেওয়ায় মেয়ে হারানোর ক্ষোভ, কষ্ট ও হতাশার কথা জানিয়ে মাইসার বাবা গত ১ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। এতে প্রতিবাদের ঝড় উঠলে গত ৪ জুলাই পুলিশের পক্ষ থেকে মায়িশার বাবাকে থানায় ডেকে তার কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ নেওয়া হয়। যদিও তার সেই অভিযোগে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে তাতে বলা হয়েছে, অজ্ঞাত ব্যক্তি তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে মায়িশার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কিছু নোংরা ও আপত্তিকর ছবি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রদান করে। এতে মায়িশা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে আত্মহত্যা করে।
মঙ্গলবার দুপুরে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে মায়িশার বাবা হাসানুল মাশরেক রুমন অভিযোগ করেন, তিনি পুলিশকে যাবতীয় তথ্য এবং প্রমাণ সরবরাহ করেছেন। কিন্তু তার পরেও পুলিশ অভিযোগটিকে মামলা হিসেবে রেকর্ড করেনি এবং আসামীদের কাউকে আইনের আওতায় আনেনি।
বগুড়া সদর থানার ওসি এস এম বদিউজ্জামান জানান, মায়িশার বাবার দেওয়া অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। তাছাড়া মায়িশার ফেসবুক আইডি পরীক্ষার জন্য সিআইডি’র বিশেষজ্ঞ টিমের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ মায়িশার বাবা লিখিত অভিযোগে কারও নাম উল্লেখ না করলেও মৌখিকভাবে দুই যুবকের জড়িত থাকার কথা বলেছেন। আমরা তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছি।’ মঙ্গলবার পূর্ব ঘোষিত মানববন্ধন কর্মসূচীতে পুলিশের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ সত্য নয়। কত ব্যক্তি সংগঠনই তো মানববন্ধন করছে। আমরা কাউকে বাধা দেইনা তাদেরকে বাধা দেব কেন?’

 

মন্তব্য