| প্রচ্ছদ

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ পুলিশ নাটক সাজিয়েছে

শাজাহানপুরে গ্রেফতার ধুনটের ৭ ব্যক্তি নিরাপরাধ বলে স্বজনদের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার
পঠিত হয়েছে ৯৮৩ বার

বগুড়ার শাজাহানপুরে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় গ্রেফতার ধুনটের ৭জনকে নিরাপরাধ ব্যক্তি বলে তাদের স্বজনরা দাবি করেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে বগুড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের পক্ষে ধুনট উপজেলার বিলচাপড়ী গ্রামের মশিউর রহমারে স্ত্রী শাকিলা খাতুন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য ডাকাতির প্রস্তুতির নাটক সাজিয়েছে। সেই নাটকের বর্ণনা দিতেই তারা সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছেন।

এর আগে শাজাহানপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোববার রাতে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় ওই উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের শাখাটিয়া ব্রীজের কাছ থেকে ৭ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের সহযোগী অপর ৭ ব্যক্তি পালিয়ে যায়। যাদের গ্রেফতার করা হয় তারা হলো- বগুড়া ধুনট উপজেলার বিলচাপড়ী গ্রামের মোজাফফর রহমান শাহ এর ছেলে মমিন শাহ(২৫), মৃত মতিউর রহমান মাস্টারের ছেলে মশিউর রহমান মাছুম(৩৮), বাদশা মন্ডলের ছেলে দেলোয়ার হোসেন(২৫), আজাহার আলী সরকারের ছেলে মশিউর রহমান (৪২), মোসলেম উদ্দিনের ছেলে শহিদুল ইসলাম(৩৪), মৃত রাজা প্রামানিকের ছেলে রজব আরী(৪৪) ও একই উপজেলার রামনগর গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৮)।

শাজাহানপুর থানার পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, গ্রেফতার ওই ৭ ব্যক্তির কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন বিহীন একটি থ্রি-হুইলার, নাইলন ও পাটের রশি, একটি করাত এবং দুইটি হাসুয়া উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছিলেন, ওয়ারেন্টের আসামী ধরতে ওই এলাকায় যাওয়ার সময় রাস্তায় একটি সিএনজি চালিত সবুজ রঙের থ্রি-হুইলার এবং কয়েকজনকে বসে থাকতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পুলিশকে দেখে সঙ্গে সঙ্গে ৭জন দৌড়ে পালিয়ে গেলেও বাকী ৭জনকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিৎ হওয়া যায় এরা ডাকাতি করার জন্য সেখানে বসেছিল।

তবে গ্রেফতার ওই ৭ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৭ জুলাই দিবাগত রাতে পোষাকধারী ৪ পুলিশ এবং তাদের সোর্স হিসেবে ব্যবহৃত বোরকা পড়া দু’জনসহ লুঙ্গি পড়া ও মুখ বাঁধা আরও ৫/৭জন গ্রামের সাধারণ মানুষের গেট ভেঙ্গে বাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায়নিরীহ মানুষকে ধরে নিয়ে যায়। এ সময় তারা বাড়ির মহিলাদের সঙ্গে ধ্বস্তাধ্বস্তি, অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও দুর্ব্যবহার করে এবং অনেকের কাছ থেকে মোবাইল ফোনও  কেড়ে নেয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঘটনার পর পরই ধুনট থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওই ঘটনা তার জানা নেই বলে উল্লেখ করেন। তবে পরদিন সকালে জানা যায় গ্রেফতার ৭জনকে শাজাহানপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ওই গ্রেফতারের ঘটনাকে রহস্যজনক দাবি করে বলা হয়, রাতে ধুনটের বিলচাপড়ী ও রামনগর গ্রাম থেকে শাজাহানপুর থানা পুলিশ ধরে নিয়ে এলা ধুনট থানা জানলো না। পরে ডাকাতির মামলা দেওয়া হলো-এর রহস্য কি?

সংবাদ সম্মেলন থেকে গ্রেফতার ওই ৭ ব্যক্তিকে নিরাপরাধ উল্লেখ করে তাদের মুক্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ডাকাতির প্রস্তুতির মিথ্যা সাজানো মামলা দেওয়া ও মহিলাদের সঙ্গে অশালীন ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, গ্রেফতার দেলোয়ারের স্ত্রী সালমা আকতার, শফিকুল ইসলামের স্ত্রী মফেলা, রজব আলীর স্ত্রী ঝলকী খাতুন এবং আবু আলম ও সবুজ আমে আরও দুই ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

 

মন্তব্য