| প্রচ্ছদ

নারী জঙ্গি দলে ভেড়াতে ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদ!

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৫৪ বার

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টানা অভিযানের মুখে জঙ্গি কার্যক্রম স্তিমিত হলেও নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো সদস্য সংগ্রহে কাজ করছে নানা পন্থায়। এরই অংশ হিসেবে ফেসবুকে তরুণীদের প্রেম ও বিয়ের ফাঁদে ফেলে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। সোমবার মধ্যরাতে বরিশাল ও ঢাকার ডেমরা থেকে জান্নাতুল নাঈমা ও আফজাল হোসেন নামে দুই জঙ্গি সদস্যকে গ্রেফতারের পর এই তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব। তারা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য। তাদের ফাঁদে পড়ে বাসা থেকে পালানো চট্টগ্রামের এক তরুণীকেও উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাব-২ এর একটি দল ওই অভিযান চালায়। খবর সমকাল অনলাইন 

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে ওই দুইজনকে গ্রেফতারের তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লে. কর্নেল এমরানুল হাসান জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তারা গোয়েন্দা অনুসন্ধানে জানতে পারেন জঙ্গি সংগঠনগুলো কৌশলগত কারণে নারী সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করছে। এ জন্য বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তারা নারী সদস্য সংগ্রহে দাওয়াতি কার্যক্রম চালাচ্ছে। তাদের কাছে তথ্য আসে, চট্টগ্রাম মহানগর থেকে ২২ বছর বয়সী এক তরুণী ২৬ জুন বাসা থেকে নিরুদ্দেশ হন। ওই ঘটনার ছায়াতদন্ত শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-২ এর একটি দল গত সোমবার মধ্যরাতে বরিশাল শহরের একটি মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে। একই সময়ে গ্রেফতার করা হয় আনসার আল ইসলামের সক্রিয় নারী সদস্য জান্নাতুল নাঈমাকে। পরে ওই নারী জঙ্গির তথ্য অনুযায়ী ডেমরা থেকে জঙ্গি আফজালকে গ্রেফতার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া ওই তরুণী চট্টগ্রামের একটি কলেজের বিবিএ শিক্ষার্থী। তিনি উদ্ধারের পর র‌্যাবকে বলেছেন, ফেসবুকে নাঈমাসহ বেশ কয়েকজন নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেখানে একটি গ্রুপে নাঈমা ও অন্য নারী সদস্যদের ফেসবুক বন্ধু বরিশালের সহিফুল ওরফে সাইফের সঙ্গে পরিচয় হয়। নাঈমা ও অন্য নারীদের প্ররোচনায় সাইফের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। এক পর্যায়ে ফেসবুক গ্রুপে থাকা অপর নারী ও পুরুষ বন্ধুদের প্ররোচনায় তিনি সাইফকে বিয়ে করার প্রস্তুতি নেন। এজন্য ২৬ জুন তিনি নাঈমার সহযোগিতায় তার সঙ্গে বরিশালে সাইফের কাছে যান। পরে সাইফ তাকে বিয়ের জন্য মাদ্রাসায় পড়ার শর্ত জুড়ে দেয় এবং বরিশালের একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করে। তাকে বিয়ের প্ররোচনায় জঙ্গিবাদে প্রলুব্ধ করা হয়। বিষয়টি তিনি বুঝতে পারলেও মাদ্রাসা থেকে বের হতে পারছিলেন না।

গ্রেফতার নাঈমা র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, সে চট্টগ্রামের একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। ফেসবুকের একটি গ্রুপে বিভিন্ন নারী সদস্যের মাধ্যমে প্ররোচিত হয়ে আনসার আল ইসলাম নামের জঙ্গি সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত হয়। এরপর থেকে সংগঠনে নারী সদস্য বাড়ানোর জন্য নানা কৌশলে দাওয়াতি কাজ চালাচ্ছিল সে। এরই অংশ হিসেবে কয়েকজন নারীকে দলে ভেড়াতেও সমর্থ হয়। ফেসবুকে পাওয়া সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রামের ওই তরুণীকে তারা জঙ্গিবাদে ভেড়াতে ফাঁদ পাতে। দলের সদস্য সাইফ ওই তরুণীর সঙ্গে প্রেমের ফাঁদ পাতে। এরপর সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ওই তরুণীকে সে বরিশাল নিয়ে নিজের আপন বোন পরিচয়ে একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করে।

গ্রেফতার আফজাল র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, সে ঢাকার কাছেই একটি এলাকায় আনসার আল ইসলামের স্থানীয় সংগঠক হিসেবে কাজ করছে। সংগঠনের নির্দেশনা অনুযায়ী নারী সদস্যদের দলে ভেড়াতে কাজ করে যাচ্ছিল।

র‌্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার করা তরুণীকে তার বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে কথিত প্রেমিক সহিফুল ওরফে সাইফকে গ্রেফতার করা যায়নি। গ্রেফতার নাঈমা ও আফজালকে জিজ্ঞাসাবাদে নারী সদস্যদের মাধ্যমে নাশকতা পরিকল্পনার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। এসব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

মন্তব্য