| প্রচ্ছদ

আমাদের মা জননী-২৫

কেন আয়েশা রা: এর বিয়ে রাসূল সা: এর সাথে হলো

জুবাইর হাসান মোহাম্মদ জুলফিকার আলী
পঠিত হয়েছে ৮৪ বার। প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০১৯ ।

[গতকালের পর থেকে পড়তে হবে] 
রাসূল সা: ওফাত লাভ করেন (ইন্তেকাল করেন) ১১ হিজরি সনে। সেই হিসাবে হযরত আয়েশা রা: রাসূল সা:-এর জীবন সঙ্গীনি হিসাবে একাধারে ৯টি বছর অতিবাহতি করেন। রাসূল সা: এর এই শেষ জীবনের ৯টি বছরই সর্বাধিক কর্মবহুল ও ইসলামী জীবন ব্যবস্থার পূর্ণ প্রতিষ্ঠার সময়। হযরত আয়েশা রা: এর মৃত্যু হয় ৫৭/৫৮ হিজরি সনে। অর্থাৎ তিনি রাসূল সা: এর ওফাতের পর প্রায় ৪৭ বছর জীবিত ছিলেন। এই সুদীর্ঘ প্রায় অর্ধ শতাব্দী কাল ধরে তিনি মদীনায় হাদিসের শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের মোট সংখ্যা ২২১০টি যা হাদীস বর্ণনাকারী শীর্ষ সাতজন সাহাবির মধ্যে অন্তর্ভূক্ত একজন (শীর্ষ হাদিস বর্ণনাকারী হযরত আবু হুরায়রা রা:, ৫৩৭৪টি হাদিস। তৃতীয় শীর্ষ হযরত আয়েশা রা:] হযরত আয়েশা রা: অত্যন্ত জ্ঞানবতী ও প্রখর স্মৃতি শক্তির অধিকারিনী ছিলেন। তিনি রাসূল সা: এর জীবনের বহু ঘটনা ও যুদ্ধ বিগ্রহ বিষয়ে অবগত ছিলেন। রাসূল সা: এর দীর্ঘ ৯ বছরের জীবন সংগীনি হওয়ার কারণে তিনি তাঁর নিকট হতে বিপুল সংখ্যক হাদিস সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। যেহেতু তিনি রাসূল সা: এর ওফাতের পর দীর্ঘকাল (৪৭ বছর) বেঁচে ছিলেন, তাই তিনি এত বিপুল সংখ্যক হাদিসের প্রচার ও শিক্ষা দিতে পেরেছিলেন। বহু সংখ্যক সাহাবি রা: এবং তাবেয়ীন রহ: তাঁর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করতে পেরেছেন। হযরত আয়েশা রা: শুধুমাত্র হাদিস বর্ণনাকারীই ছিলেন না; বরং সেইসাথে ছিলেন কোরআন ও হাদিসের ব্যাখ্যাকারী, হাদিসের শুদ্ধ-অশুদ্ধ নির্ণয়াকারী (হাদিস নিরীক্ষক), মুজতাহিদ, ফকীহ, ফতোয়া প্রদানে পারদর্শী, ইসলামী অনুশাসনের তাৎপর্যগত ব্যাখ্যা প্রদানকারী। অনেক বড় বড় সাহাবি হাদিসের ব্যাখ্যার জন্যে তাঁর শরনাপন্ন হতেন। তিনি রাসূল সা: এর স্ত্রী হতে না পারলে হাদিস শাস্ত্রের এই বিপুল সংগ্রহশালা তথা বিশাল ইসলামী জ্ঞানের ভান্ডার তৈরী হতো না। এ থেকেই বুঝে নেয়া যায় যে, কেন আল্লাহর ঈশারায় মোহাম্মদ সা: এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। এই বিবাহের উদ্দেশ্যে নিছক দাম্পত্য জীবন ছিলো না; বরং অন্য কিছু ছিলো। ইতিহাসের সোনালি পাতায় তা সমুজ্জ্বলও হয়ে আছে। প্রথম উদ্দেশ্য ছিলো নবুওয়াত ও খেলাফতের মধ্যে সুদৃঢ় বন্ধন তৈরী করা। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ছিলো হযরত আয়েশা রা: এর সহজাত মেধা প্রতিভা ও সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ইসলামের খেদমত গ্রহণ করা এবং মুসলিম নারী সমাজের মধ্যে ইসলামী শিক্ষা-দীক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটানো। এই মহত্তম উদ্দেশ্যগুলো অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত হয়েছে (আলহামদুলিল্লাহ)। হযরত আয়েশা রা:-এর পুরো জীবন চরিত্র সেটার সাক্ষ্য বহন করে। সবচেয়ে বড় কথা, এই বিবাহ ছিলো নবুওয়াতের ব্যতিক্রমতা ও বিশিষ্টতার নমুনা-উদাহারণ। এটার মূল্যায়ন ব্যতিক্রম অনুসারেই করা উচিত।১ 
[তথ্য সূত্র: ১.সীরাতে আয়েশা রা:- পৃষ্ঠা-৪২৫]। [পরবর্তী অংশ আগামীকাল]

মন্তব্য