| প্রচ্ছদ

সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা: জ্বলবে না সড়ক বাতি, মিলবে না নাগরিক ও জন্মসনদ

রোববার থেকে বগুড়াসহ সারাদেশে পৌরসভাগুলোর নাগরিক সেবা বন্ধ হয়ে যাবে

স্টাফ রিপোর্টার
পঠিত হয়েছে ৪৮৯ বার

রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা ও পেনশনের দাবিতে আগামী ১৪ জুলাই রোববার থেকে লাগাতার আন্দোলনে যাচ্ছেন বগুড়াসহ দেশের সব পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী। ফলে ওইদিন থেকে দেশের ৩২৮টি পৌরসভায় সড়ক বাতি যেমন জ¦লবে না তেমনি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং নাগরিক সনদপত্র ও জন্ম ও মৃত্যুসনদ প্রদানসহ পৌরসভার সব ধরনের নাগরিক সেবাও বন্ধ হয়ে যাবে। বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বুধবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওই কর্মসূচীর কথা ঘোষণা করা হয়। 
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, ওই সংগঠনের বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি মামুনুর রশিদ। তিনি জানান, দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতেই একইভাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আন্দোলনের ওই কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।  এ সময় জেলার আরও ১১টি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে মামুনুর রশিদ বলেন, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী দেশের সব পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী আগামী ১৪ জুলাই ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচীতে অংশ নিবেন। ফলে তাদের পক্ষে স্ব স্ব কর্মস্থলে অবস্থান করা সম্ভব হবে না এবং নাগরিক সেবা প্রদান করাও সম্ভব হবে না। তবে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচী পালনকালে শুধুমাত্র পাইপ লাইনে পানি সরবরাহ চালু রাখা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জনপ্রতিনিধিদের সম্মানী ভাতা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের দাবিতে তারা প্রায় দুই বছর ধরে আন্দোলন করে আসছেন। আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলা হয়, দেশের সংবিধান অনুযায়ী পৌরসভা রাষ্ট্রীয় তথা সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং তাতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। শহরকেন্দ্রিক অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, ড্র্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পয়ঃনিষ্কাশন, সড়ক আলোকিত করা এবং বিভিন্ন সনদ প্রদান ও নিববন্ধনসহ অন্তত ২০ ধরনের সেবা নাগরিকদের দিয়ে থাকে। আইন অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে পৌরসভার নিজস্ব আয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের বিধান থাকলেও দেশের ৯০ ভাগ পৌরসভার পর্যাপ্ত আয় বা রাজস্ব না থাকায় বর্তমানে স্থান ভেদে ৩ থেকে ৬৬ মাস পর্যন্ত বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। 
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এ জেলার ১২টি পৌরসভার মধ্যে শুধু বগুড়া পৌরসভা ছাড়া বাকি ১১টিতেই দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে শান্তাহার পৌরসভায় ৬৬ মাস, সারিয়াকান্দিতে ৫৭ মাস, গাবতলীতে ২৬ মাস, শেরপুরে ২৫ মাস, নন্দীগ্রামে ২৪ মাস, শিবগঞ্জে ১৩ মাস, কাহালুতে ৫ মাস, ধুনট ও দুপচাঁচিয়ায় ৪ মাস করে এবং তালোড়া ও সোনাতলা পৌরসভায় ৩ মাস করে বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এ সমস্যা সমাধানের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের গঠিত কমিটি থোক বরাদ্দের মাধ্যমে বেতন-ভাতা প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে কিন্তু এটি কোন স্থায়ী সমাধান নয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বগুড়া জেলা শাখার উপদেষ্টা ও বগুড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, স্থানীয় সরকারের অধীন অপর দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার ৭৫ ভাগ এবং জেলা পরিষদের জন্য শতভাগ বেতন-ভাতা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে মেটানো হয়। এক প্রশ্নের  জবাবে তিনি বলেন, পৌরসভাগুলোর জনপ্রতিনিধিরাও আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছন।
ওই সংগঠনের নেতা ও শহর পরিকল্পনাবিদ আল মেহেদী হাসান, পৌরবিধি পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে বলেন, মানুষের জন্যই আইন তৈরি হয় আবার মানুষের প্রয়োজনেই তা পরিবর্তন করা হয়। যে কারণে এ পর্যন্ত দেশের সংবিধান ১৬বার পরিবর্তন করা হয়েছে। এমনকি পৌরসভার আইনও কয়েকবার পরিবর্তন করা হয়েছে তাহলে বেতন-ভাতা সংক্রান্ত আইনের কেন পরিবর্তন করা যাবে না। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে ওই সংগনের উপদেষ্টা বগুড়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আবু জাফর মোঃ রেজা ও ইকবাল হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

মন্তব্য