| প্রচ্ছদ

মেধায় চাকরি মেলে: প্রমাণ করলো বগুড়া পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার
পঠিত হয়েছে ৩৫২ বার। প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯ ।

ফারহানা আক্তার। বাবা কৃষক। অভাবের সংসার। নিজে টিউশনি করে বহু কষ্টে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। সংসারের হাল ধরতে পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরির জন্য ১০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট ও ৩ টাকায় ফরম কিনে আবেদন করেন। চূড়ান্ত ফলাফলে ফারহানার নাম ঘোষণা করতেই সে আনন্দে আপ্লুত হয়ে পড়ে।  ফারহানা কাহালু উপজেলার বান্দাইখারা গ্রামের কৃষক ফেরদৌস রহমানের মেয়ে।

বুধবার  রাত ১১ টার  দিকে জেলার পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে কনস্টেবল পদে চাকরির চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা । চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ বেশির ভাগ প্রার্থীই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ঘুষ ও তদবির ছাড়াই সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বগুড়ায় ২৩৯ জনকে কনস্টেবল পদে  নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা মাত্র ১০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট ও ৩ টাকার ফরমের খরচে এ চাকরি পেয়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। 

পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সূত্র জানায়, বগুড়ায় স্মরণকালের সবচেয়ে বেশী প্রার্থী এ বছর  অংশ নিয়েছে। এবারে মাঠে দাঁড়িয়েছিল ৬ হাজার ২১ জন। তাঁদের মধ্য থেকে শারীরিক যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ভিত্তিতে ৬২১ জনকে লিখিত পরীক্ষার জন্য চূড়ান্ত করা হয় এবং তাদের মধ্যে ভাইবা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে পুরুষ ১২৫জন, নারী ৭০জন এবং অন্যান্য কোটায় ৪৪ জনসহ মোট ২৩৯ জনকে চূড়ান্ত চাকরীর জন্য মনোনীত করা হয়। এছাড়াও ১০ জনকে অপেক্ষমানের তালিকায় রাখা হয়েছে। উত্তীর্ণদের আগামী ১৩ জুলাই মেডিকেল পরীক্ষায় অংশ  নিতে বলা হয়েছে। 

চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়া গাবতলী উপজেলার মোখলেছার আলীর ছেলে ইউসুফ আলী। বাবা দিনমজুর। ইউসুফ বলেন, ‘চাকরির জন্য ঘুষ দেওয়ার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই। আবেদনের আগে থেকেই বিভিন্ন জায়গায় শুনছিলাম এবার ঘুষ ছাড়াই চাকরি হবে। বিশ্বাসই করতে পারছি না। এখনো বুকের মধ্যে চিন্তার চাপ ধরে আছে। এখন আমি পরিবারের একমাত্র সম্বল।’

এদের  মত অসহায় দরিদ্র পরিবারের তানিয়া খাতুন, বদিউজ্জামান, বিথী খাতুন, রাকিবুল হাসান, আবিদ আব্দুল্লাহসহ সবাই ১০৩ টাকা খরচে চাকরি পেয়েছেন বলে তাঁদের দাবি।

পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, এবারের মতো শতভাগ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে মেধাভিত্তিক নিয়োগ আগে কখনো দেখিনি। বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে নিয়োগ পরীক্ষার আগে থেকে আমরা সতর্ক ছিলাম। দালালেরা যাতে প্রার্থীদের প্রতারিত করতে না পারে, সে জন্য গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করেছে।’ এছাড়া যারা দালালদের চাকরী লাভের আশায় টাকা দিয়েছে তারা অভিযোগ করলে পুরো টাকা তুলে দেওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, নারী, পুরুষ সাধারণ মেধা কোটা ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা, পোষ্য ও এতিম কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত প্রত্যেকেই চাকরি পেয়েছেন নিজ নিজ যোগ্যতায়। গত জুলাই থেকে শুরু হওয়া নিয়োগ প্রক্রিয়া বুধবার রাতে চূড়ান্ত ফল ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হলো।
 

মন্তব্য