| প্রচ্ছদ

ধুনটে নাতনীকে ধর্ষণের মামলায় ধর্ষক গ্রেফতার

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
পঠিত হয়েছে ২১১ বার। প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯ ।

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় স্কুল পড়ুয়া নাতনীকে নানা এবং এক বখাটে মিলে ধর্ষণের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বকুল মন্ডল (২৩) নামের পলাতক আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ধুনট সদর ইউনিয়নের বথুয়াবাড়ী বাজার এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।  

মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছোট চিকাশি ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্যের কিশোরী কন্যা ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের কৈয়াগাড়ী গ্রামে নানা আব্দুর রশিদ মন্ডলের বাড়িতে থাকে। ওই কিশোরী নানা বাড়ি থেকে ভান্ডারবাড়ী ছালেহা-জহুরা উচ্চ বিদ্যালয়ে গত বছর সপ্তম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছিল। নানা বাড়ি থাকার সুবাধে কৈয়াগাড়ী গ্রামের অফের আলীর ছেলে বকুল মন্ডলের সাথে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ে সূত্রধরে বকুল ওই স্কুল ছাত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। গত বছরের ১৫ এপ্রিল বিকেল ৪টায় স্কুল থেকে নানা বাড়িতে ফিরে ঘরের ভিতর পোশাক পরিবর্তন করছিল। ওই সময় বাড়িতে কাউকে দেখতে না পেয়ে বকুল মন্ডল ঘরে প্রবেশ করে বিয়ের প্রলোভনে ওই স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। এদিকে ধর্ষণের সময় ঘরে প্রবেশ করে নানা আব্দুর রশিদ। এসময় কৌশলে পালিয়ে যায় ধর্ষক বকুল মন্ডল। এক পর্যায়ে ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে নানা আব্দুর রশিদ তার স্কুল পড়ুয়া নাতনীকে ধর্ষণ করে। পরবর্তিতে ওই স্কুল ছাত্রীর শারীরিক পরিবর্তন ঘটে এবং সে অসুস্থ্য হয়ে পরে। চিকিৎসার জন্য তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পর ওই স্কুল ছাত্রী অন্তঃসত্বা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পায়। পরে ওই ছাত্রীর নিকট থেকে ঘটনার বিবরণ শুনে তার বাবা চিকাশী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য গত ৩ অক্টোবর বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই স্কুল ছাত্রীর নানা আব্দুর রশিদ মন্ডল ও বখাটে প্রেমিক বকুল মন্ডলকে আসামী করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকে তারা পলাতক ছিল। 

এদিকে গত ১ জানুয়ারী অন্তঃসত্বা ওই স্কুল ছাত্রী একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়। সন্তানের নাম রাখা হয়েছে আব্দুল বারিক। গত ২৫ জানুয়ারি ধর্ষক নানা আব্দুর রশিদ মন্ডলকে পুলিশ যমুনা নদীর চর থেকে গ্রেফতার করেছে। মামলার অপর আসামী ধর্ষক বকুল মিয়াকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ধুনট সদরের বথুয়াবাড়ী বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, বখাটে প্রেমিক ও নানা মিলে কিশোরী স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষনের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়। কিন্তু দুই ধর্ষক দীর্ঘদিন পলাতক ছিল। এরমধ্যে ধর্ষক নানাকে গত ২৫ জানুয়ারি গ্রেফতার করা হয়। অপর ধর্ষক বখাটে বকুল মিয়াকে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয়েছে
 

মন্তব্য