| প্রচ্ছদ

হাজারো ভক্তবৃন্দের পদচারণায় বগুড়া ও শেরপুরে উল্টো রথযাত্রা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার
পঠিত হয়েছে ৮১ বার

হাজারো ভক্তবৃন্দের পদচারণায় বগুড়ায় উল্টো রথযাত্রার মাধ্যমে ৯ দিন ব্যাপী রথযাত্রা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়েছে। শুক্রবার দিনব্যাপী শহরের পুলিশ লাইন্স শিব মন্দিরে ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠান সমাপ্তি করে বিকালে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা বের হয় যা গিয়ে শেষ হয় সেউজগাড়ি ইসকন মন্দিরে।

এদিকে বগুড়ার শেরপুরেও উৎসবমুখর পরিবেশে শুক্রবার দুপুরে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের উল্টো রথযাত্রা উৎসব পালন করা হয়েছে। পৌরশহরের গোসাইপাড়াস্থ শ্রী শ্রী দুর্গামাতা ও গুণ্ডিচা মন্দির থেকে বের হওয়া এই রথ শোভাযাত্রায় সনাতন ধর্মাবলম্বী হাজার হাজার নারী-পুরষ এবং ভক্তরা অংশ নেন। উল্টো রথযাত্রা উৎসবে রশি টেনে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শেরপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র নাজমুল আলম খোকন।


সনাতন ধর্মালম্বীদের মতে, জগন্নাথ দেব হলেন পুরো জগতের ঈশ্বর। প্রতি বছর রথযাত্রা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভক্তবৃন্দের ভক্তি এবং ভালবাসায় বোন সুভদ্রা এবং ভাই বলরামের সাথে নিজ মাসির বাড়ি (দেবী লক্ষী) গমন করে এবং ৯ দিনের মাথায় আবারো নিজ ধামে ফিরে আসে। ধর্মীয় বিসশ্বাস মতে এই রথের দড়ি টানার মাধ্যমে জগন্নাথ দেবের দর্শনে সকল পাপের বিনাশ ঘটে এবং জীবরুপে আর পুর্নজন্ম ঘটেনা। এই বিশ্বাসে প্রতি বছরের ন্যায় এই রথযাত্রা উৎসব সনাতন ধর্মালম্বীদের কাছে অন্যতম একটি বড় উৎসব হিসেবে পালিত হচ্ছে যুগের পর যুগ ধরে।

বগুড়ায় গত ৪ঠা জুলাই মূল রথযাত্রা অনুষ্ঠানের পর থেকে টানা ৯ দিন ধরে পুলিশ লাইন্স মন্দিরে এই অনুষ্ঠান চলছে নানা আয়োজনের মাধ্যমে। এদিকে উল্টো রথযাত্রা অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে পুলিশ লাইন্স মন্দিরে রথযাত্রা শুরুর আগে ধর্মীয় বিধান শেষ করে রথযাত্রা বিদায়ী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ লাইন্স শিব মন্দিরের সভাপতি আনন্দ মোহন পালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদুর রহমান দুলু।

এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি রথযাত্রা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাজারো ভক্তবৃন্দকে সনাতন ধর্মালম্বীদের এই বড় ধর্মীয় উৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়ে সকলকে ধর্মীয় দিকনির্দেশনা অনুযায়ী জীবন যাপনের মাধ্যমে মানব-কল্যাণে কাজ করার জন্য আহবান জানান। সেই সাথে আগামী রথযাত্রার অনুষ্ঠানের আগেই একটি নতুন রথ তৈরির জন্য জেলা পরিষদের পক্ষে সার্বিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন অনুষ্ঠানে।

উল্টো রথযাত্রার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এস.এম বদিউজ্জামান, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি দিলীপ কুমার দেব, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক চাঁদনী বাজারের সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি সাগর কুমার রায়, মুকুন্দ গোসাই আশ্রমের সভাপতি মনিন্দ্রনাথ মণি, পূজা উদযাপন পরিষদ বগুড়া পৌর কমিটির সভাপতি পরিমল প্রসাদ রাজ, সহ-সভাপতি যথাক্রমে সঞ্জীব প্রসাদ, অতুল সাহা, সুজিত প্রসাদ জয়সোয়াল, শংকর পালিত, কমিটির সাধারন সম্পাদক সুজিত তালুকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সঞ্জু রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখর রায়, প্রচার সম্পাদক নীতি সরকার, মিথন রায় প্রমুখ। সভা পরবর্তী ইসকন বগুড়ার অধ্যক্ষ খরাজিতা কৃষ্ণ দাস ব্রক্ষ্মচারীর নেতৃত্বে বগুড়া

শহরসহ জেলার ১২ টি উপজেলা এবং জেলার বাহিরের হাজারো ভক্তবৃন্দের উপস্থিতিতে রথ টেনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে ইসকন মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে ধর্মীয় বিধান পালনের মাধ্যমে জগন্নাথ দেবকে তার নিজ ধামে বরণ করে নেওয়া হয় যার মাধ্যমে রথযাত্রা অনুষ্ঠানের সার্বিক আয়োজনের সমাপ্তি হয়। পুরো রথযাত্রায় উপস্থিত সকল ভক্তবৃন্দের জন্য এবছরই প্রথম বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বগুড়া পৌর কমিটির আয়োজনে প্রসাদ এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

এদিকে সাধারণ মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা পুলিশের পক্ষে রথযাত্রা অনুষ্ঠানে নেয়া ৩ স্তরের নিরাপত্তাও ছিল চোখে পড়ার মতো। কোনরকম প্রতিবন্ধকতা এবং অনাকাঙ্খিত কোন ঘটনা ছাড়া এই বড় ধর্মীয় উৎসব সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন প্রশাসন, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ ভক্তবৃন্দ।

মন্তব্য