| প্রচ্ছদ

আমরা তোমাদের ভুলব না...

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ২৩ বার

কথায় আছে, বিজয়ীকেই মনে রাখে মহাকাল, পরাজিতের জন্য থাকে শুধু সান্ত্বনা। প্রতি বিশ্বকাপেই, তা ফুটবল হোক বা ক্রিকেট বা অন্য কোনো খেলায়; শিরোপা জেতা দলটিই বিশ্বজুড়ে প্রশংসা পেয়ে থাকে। রানার্সআপদের সান্ত্বনা ছাড়া আর কিছু মেলে না। দলের বাইরেও প্রতি টুর্নামেন্টে আলাদা করে বলার মতো কিছু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স থাকে। যারা নিজেদের শৈলী দিয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকেন আজীবন। এই বিশ্বকাপেও এমন কয়েকজন কীর্তিমান উঠে এসেছেন। যাদের বিশ্বকাপটা শিরোপার লড়াইয়ের আগেই শেষ। কিন্তু মনে রাখার মতো যা করার করে ফেলেছেন তারা। তাদের নিয়েই এই আয়োজন-

সাকিব আল হাসান

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভালো করবে সেই বিশ্বাস সবার ছিল। শেষ পর্যন্ত সেমিতে খেলার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। তবে কোনো একদিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নও হবে বাংলাদেশ। সেই সম্ভাবনা এই দলের আছে। কিন্তু তার আগে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দ্যুতি ছড়ানো চাই। ছোট ছোট বিন্দুজল যেমন সাগর অতল গড়ে তোলে, তেমনি আলাদা ক্রিকেটারের পারফরম মিলে শিরোপার জয়ের উপলক্ষ তৈরি হবে।

সে পথে এগোনোর জন্য তো পারফরম করা চাই। ২০১৫ বিশ্বকাপ পর্যন্ত এমন কেউ ছিলেন না যার অর্জন আলাদা করে বলার মতো। একমাত্র মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের এই অর্জন আছে টানা দুই সেঞ্চুরিতে, ২০১৫ বিশ্বকাপে। কিন্তু তা বিশ্বকাপ জয়ের মতো যথেষ্ট ছিল না। এমন কিছু এবং তারও চেয়ে বেশি করার মতো বাংলাদেশ দলে একজনই ক্রিকেটার আছেন, তিনি সাকিব আল হাসান। এই বিশ্বকাপে নিজেকে সেভাবেই হিমালয়সম উচ্চতায় নিজেকে নিয়ে গেছেন বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার। আগের ১১ বিশ্বকাপ এমন অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দেখেনি।

ব্যাটে-বলে যা দেখালেন সাকিব তাতে ধারাভাষ্যকাররা যথার্থই বলছিলেন, ‘সে তার জীবনের সেরা বিশ্বকাপ কাটাচ্ছে।’ সত্যিই তাই, আট ম্যাচে ৯৬ স্ট্রাইক রেট ও ৮৬.৫৭ গড়ে ৬০৬ রান। সেঞ্চুরি দুটি এবং তা টানা। হাফসেঞ্চুরি পাঁচটি। এছাড়া ৫.৩৯ ইকোনমি রেট ও ৩৬.২৭ গড়ে ১১ উইকেট নিয়েছেন সাকিব। এক ম্যাচে আছে ৫ উইকেট। দেশের জেতা তিন ম্যাচেরই সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন। তার ২০১৯ বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সে কত রেকর্ড যে ভাঙল তার ইয়ত্তা নেই।

দেশের হয়ে বিশ্বকাপে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া প্রথম বোলার। বিশ্বকাপে দেশের সেরা বোলিং ফিগার তার। এছাড়া বিশ্বকাপের এক ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি ও ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া দ্বিতীয় ক্রিকেটার। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক আসরে সর্বোচ্চ রান করার তালিকায় পাঁচ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছেন। ব্যাটিং গ্রেট শচীন টেন্ডুলকারের পাশে বসেছেন এক আসরে সাতটি সর্বোচ্চ পঞ্চাশোর্ধ্ব বিশ্বকাপ ইনিংসে। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে মোট ১২টি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস নিয়ে কুমার সাঙ্গাকারার সঙ্গে যুগ্মভাবে দ্বিতীয় স্থানে।

এই তালিকায় ২১ পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস নিয়ে শীর্ষে শচীন। তিন নম্বর বা তার নিচে নেমে বিশ্বকাপের এক আসরে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডও সাকিবের দখলে। মাহেলা জয়াবর্ধনের রেকর্ড ভেঙেছেন তিনি। তবে সবচেয়ে বড় যে রেকর্ডটি সাকিবকে আলাদা করেছে তা হলো, বিশ্বকাপে ১০ উইকেট বা তার বেশি শিকার ও ৫০০ বা তার বেশি রান করা একমাত্র ক্রিকেটারের কৃতিত্ব। বিশ্ব ক্রিকেটে এখন সাকিবের মতো পাঁড় অলরাউন্ডার যেমন নেই, তেমনি এই রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনাও শচীনের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ভাঙার মতোই কঠিন। সব মিলিয়ে চলমান বিশ্বকাপের ‘ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট’ হওয়ার বড় দাবিদার বাংলাদেশের এই গর্ব।

রোহিত শর্মা

সাকিবের পর সবচেয়ে ভালো বিশ্বকাপ কেটেছে রোহিত শর্মার। এই আসরে সর্বোচ্চ রান তার। অল্পের জন্য শচীনের এক আসরে সর্বাধিক রানের রেকর্ডটাই তো ভেঙে দিচ্ছিলেন। যেভাবে সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরি আসছিল তার ব্যাটে, তাতে শচীনের ৬৭৩ রানের রেকর্ড ভাঙা মনে হচ্ছিল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু টানা তিন সেঞ্চুরির পর সেমিফাইনালে এসে থামলেন রোহিত। তাতে অক্ষত রইল শচীনের রেকর্ড।

রোহিত ৬৪৮ রান করায় এ তালিকায় ৬৫৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় ম্যাথু হেইডেনের রেকর্ডটিও টিকে থাকল। রানের দিক থেকে এগিয়ে যেতে পারেননি, তবে সেঞ্চুরির রেকর্ডে ঠিকই শীর্ষস্থানে ভারত ব্যাটসম্যান। এক আসরে সর্বোচ্চ পাঁচ সেঞ্চুরি তার। ভেঙেছেন চার সেঞ্চুরি করা সাঙ্গাকারার রেকর্ড। এছাড়া বিশ্বকাপে মোট ছয় সেঞ্চুরিতে শচীনের পাশে বসেছেন।

মিচেল স্টার্ক

বিশ্বকাপ আসর খুব পছন্দ মিচেল স্টার্কের। ক্রিকেটের সেরা টুর্নামেন্ট পেলেই জ্বলে ওঠেন তিনি। ২০১৫ বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন। এ আসরেও সেই গৌরব তার, রেকর্ড ভেঙে। নিজেকেই ছাড়িয়ে গেছেন। গত আসরে ২২ উইকেট নেওয়া স্টার্ক এবার ২৭ উইকেট নিয়েছেন। তাতে স্বদেশি কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার গ্লেন ম্যাকগ্রার এক আসরে সর্বোচ্চ ২৬ উইকেটের রেকর্ড ভেঙেছেন।

এছাড়া বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ তিনবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডও তার। মাত্র দুই বিশ্বকাপে ৪৯ উইকেট স্টার্কের দখলে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকদের তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে চলে এসেছেন। অনায়াসে ওয়াসিম আকরাম (৫৫), লাসিথ মালিঙ্গা (৫৬) ও মুত্তিয়া মুরালিধরনকে (৬৮) টপকে ম্যাকগ্রাকেও (৭১) ধরে ফেলার সুযোগ আছে স্টার্কের।

মোস্তাফিজুর রহমান

এই আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বাঁহাতি পেস বিস্ময় মোস্তাফিজুর রহমান। এ তালিকায় অনেক পেছনেই ছিলেন। কিন্তু আসরে বাংলাদেশের সর্বশেষ দুই ম্যাচে ইনিংসে ৫ উইকেট করে নিয়ে এক লাফে দ্বিতীয়তে চলে আসেন। আট ম্যাচে ৬.৭০ ইকোনমি ও ২৪.২০ গড়ে ২০ উইকেট তার।

বিশ্বকাপে এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়া বাংলাদেশি ‘ফিজ’। এই ‘কাটার মাস্টার’ লর্ডসের ওয়ানডে অনার্স বোর্ডে নাম তোলা প্রথম বাংলাদেশিও। দুই ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ায় এক আসরে এ কৃতিত্ব দেখানো গ্যারি গিলমোর, ভ্যাসবার্ট ড্রেকস, অসান্থা ডি মেল, শহিদ আফ্রিদি ও গ্লেন ম্যাকগ্রাদের পাশে বসেছেন মোস্তাফিজ।

মন্তব্য