| প্রচ্ছদ

অন্তিম লগ্নে স্থগিত হলো ভারতের চন্দ্র অভিযান

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ১০০ বার। প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০১৯ ।

মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে নাম তুলতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল ভারতবাসী। কিন্তু ৫৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ড আগে থমকে গেল কাউন্টডাউন। যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য স্থগিত করা হয় ‘চন্দ্রযান ২’-এর উড্ডয়ন। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, শেষ মুহূর্তে উড্ডয়নে বাদ সেধেছে ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন।

স্থানীয় সময় রোববার দিবাগত রাত ২টা ৫১ মিনিটে উড়ার কথা ছিল বাহুবলী নামের রকেটের। যাকে আরও বলা হচ্ছে জিওসিনক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল মার্ক থ্রি।

দেশটির মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইসরো জানায়, এই রকেটের ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন লিক করে চুঁইয়ে পড়ছিল জ্বালানি। ফলে বাতিল করে দেওয়া হয় উড্ডয়ন।

একটি রকেটে বেশ কয়েকটি ধাপে জ্বালানি ভরা থাকে। এরপর জ্বালানি শেষ হওয়া সাপেক্ষে ধাপগুলো মূল যান থেকে খসে পড়ে। এমনই একটি ধাপ ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন, যাতে তরল হাইড্রোজেন ভরা থাকে। চন্দ্রযান ২-কে চাঁদের কক্ষপথে স্থাপন করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই তরল হাইড্রোজেন।

শেষ মুহূর্তে দেখা যায়, ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন থেকে চুঁইয়ে পড়ছে জ্বালানি। ফলে সতর্কতা স্বরূপ স্থগিত করা হয় অভিযান।  

এই সংক্রান্ত এক বিশেষজ্ঞ জানান, মহাকাশ অভিযান খুবই জটিল, যার প্রতি সেকেন্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ক্ষুদ্র জিনিসের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হয়। সে ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে অভিযান সাময়িকভাবে বাতিল করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।

তবে ফের কবে চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দেবে চন্দ্রযান ২, এখনো জানায়নি ইসরো।

চন্দ্রযানটি তৈরিতে খরচ হয়েছে ১৪ কোটি ডলার। যাকে সাশ্রয়ী বাজেট বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এর রকেটের ওজন ৬৪০ টন। তার ওপরে চন্দ্রযানের ওজন ৩৮০০ কেজি।

সম্প্রতি এই অভিযানের সাফল্য চেয়ে ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন তিরুপতি মন্দিরে পুজো দিয়েছিলেন। সঙ্গে নিয়ে যান চন্দ্রযান ২-এর একটি প্রতিরূপ।

মন্তব্য