| প্রচ্ছদ

আড়াই বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত শিক্ষিকা, পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৩৮ বার

আড়াই বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বরিশাল ২৪ নং পূর্ব রূপাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ফাহিমা ফেরদৌস। এতে ওই বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষিকা পদে ফাহিমা ফেরদৌস ২০১১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ওই বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। যোগদানের পরেই শুরু হয় তার চিকিৎসা ও পরে মাতৃত্বকালীন ছুটি। খবর বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম 

২০১১ থেকে ২০১৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন অজুহাতে ছুটি নিয়ে বিদ্যালয়ে চাকরি করেছেন। কিন্তু ১১ ফেব্রুয়ারির পরে তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ কারো সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি। কোনো ছুটি বা কর্তৃপক্ষকে অবগত না করেই এখন পর্যন্ত তিনি অনুপস্থিত রয়েছেন।

এদিকে এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে অন্যান্য শিক্ষক ও বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের কাছে কয়েক দফা অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অজ্ঞাত কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৬২১ জন শিক্ষার্থীর এই স্কুলের দীর্ঘদিন তার অনুপস্থিতির বিষয়টি লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিক্ষক সংকট থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফিরোজ গাজী বলেন, সহকারী শিক্ষিকা ফাহিমা ফেরদৌস ২০১৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারিতে চিকিৎসা ছুটির আবেদন করে চলে যান। তার ছুটি পাস হয়েছে কিনা বিষয়টিও তিনি দেখে যাননি। যেহেতু ছুটির দরখাস্তটি পাস হয়নি তাই সেই থেকে এখন অব্দি তিনি অনুপস্থিত। এতে বিদ্যালয়ে সুষ্ঠুভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যতটা শুনেছি, শিক্ষিকার বাড়ি জেলার চরকাউয়া ইউনিয়নে। তার স্বামী অন্য জেলায় চাকরি করেন। তিনি অনুমতিবিহীন অনুপস্থিত থেকে সন্তানদের দেখভাল করছেন। আর পর্দাশীল হওয়ায় এখন তিনি কারো সঙ্গেই যোগাযোগ করেন না। বর্তমানে তিনি বেতনও পাচ্ছেন না আবার চাকরিও ছাড়ছেন না।

এ বিষয়ে বরিশাল সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং জবাবদিহিতার চিঠি পাঠানো হয়েছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা থেকে দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে শিক্ষিকা ফাহিমা ফেরদৌসের মোবাইলে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

মন্তব্য