| প্রচ্ছদ

ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশ, বাঁধ ভাঙার শঙ্কা

বগুড়ার ধুনটে যমুনার চরে ভয়াবহ ভাঙন, ঘরহারা পরিবার গুলো আশ্রয়হীন

আমিনুল ইসলাম শ্রাবণ. ধুনট (বগুড়া)
পঠিত হয়েছে ২০৭ বার

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বন্যা দুর্গত এলাকায় মানুষের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান ও দুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া যমুনা নদীর রাধানগর চরে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। নদী ভাঙনের ফলে অন্তত ৩০টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশের ঘটনায় বাঁধ ভাঙ্গার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।  

জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৫২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে বন্যা কবলিত এলাকায় দুর্ভোগের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশুদ্ধ খাবার পানি, জরুরী মেডিসিন এবং ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন। এদিকে ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের কৈয়াগাড়ী গ্রামে সাগর সরকারের বাড়ির নিকট যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ঈদুরের গর্তদিয়ে পশ্চিম পাশে পানি প্রবেশ করতে থাকে। সোমবার ভোর ৪টায় বিষয়টি সাগর সরকারের পরিবার টের পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বালুর বস্তা দিয়ে প্রবেশ বন্ধ করার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় এলাকায় বাঁধ ভাঙ্গার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, 'লিকেজ হওয়া স্থানে প্রায় ৬ ফুট এলাকা ঘের দিয়ে বালুর বস্তা ফেলা হয়েছে। বাঁধের অপর পাশের পানির লেবেল হলে নতুন করে আর পানি প্রবেশ করবে না। এ ঘটনায় বাঁধ ভাঙ্গার কোন আশংকা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। এদিকে সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান এবং ধুনট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।'

এদিকে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে রাধানগর চরে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদী ভাঙনের ফলে রাধানগর চরের মুরাদ হোসেন, আবু হানিফ, নুরু মিয়া, আব্দুল মজিদ, শিপন মিয়া, আব্দুস ছালাম, শহিদুল ইসলাম, সাইদুল ইসলাম, বদি মিয়া, আব্দুল মান্নান, আব্দুল খালেক, নুরু গাড়িয়াল, আব্দুস সামাদ, আয়নাল হক, আব্দুর রহমান, শহিদুল ইসলাম, মুন্নাফ হোসেন, মোহাম্মদ আলী, শফিকুল ইসলাম, শাহজাহান আলী, আব্দুর রহিম, জেল কাদের, লাল মিয়ার সহ অন্তত ৩০টি পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছেন। নদী ভাঙনের ঘর-বাড়ী সরিয়ে নিয়েছেন পরিবার গুলো। চরের অন্যত্র অথবা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিচ্ছে এসব পরিবার। এসব পরিবার শিশু ও গবাদী প্রাণি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। অনেক পরিবার রাত যাপনের কোন ব্যবস্থা করতে পারেনি। 

নদী ভাঙ্গনের শিকার শফিকুল ইসলাম বলেন, 'বাড়ির সাথে গাছের বাগান ছিলো। ভাঙনের হাত থেকে গাছ গুলো রক্ষা করতে পারিনি। মূল্যবান গাছ গুলো নদী গিলে খেয়েছে। কোন মতে ঘরের জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছি। এখনো থাকার কোন ব্যবস্থা করতে পারিনি। নদী ভাঙনের শিকার আব্দুল মান্নান বলেন, চরের বাসিন্দাদের কেউ খোঁজ নেয় না। এলোমেলো অবস্থায় দুর্ভোগের মধ্যে বেঁচে আছি। এরমধ্যে বৃষ্টি দুর্ভোগের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।' 
ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল বলেন, 'রাধানগর চরে ভাঙ্গনের খবর শুনেছি। যারা চর থেকে এপারে চলে আসতে চায়, তাদের নৌকা দিয়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হবে। আপাতত বাঁধে বা বন্যা আশ্রয়ন কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া নদী ভাঙনের শিকার পরিবার গুলোর জন্য সরকারি সহায়তা চাওয়া হয়েছে।'

ধুনট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিনাত রেহেনা বলেন, 'বন্যা দুর্গত এলাকায় ৫০০ পরিবারের মাঝে সোমবার সরকারী ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে ২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ হয়েছে। মঙ্গলবার বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণের চাল বিতরণ করা হবে।'

মন্তব্য