| প্রচ্ছদ

ছেলেকে বাজারে পাঠিয়ে পুত্রবধূকে ধর্ষণ শ্বশুরের!

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ১৩০ বার। প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০১৯ ।

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় ছেলেকে কাঁঠাল আনতে বাজারে পাঠিয়ে শ্বশুর কর্তৃক পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

রোববার সন্ধ্যায় চিরিরবন্দর থানায় শ্বশুরের বিরুদ্ধে এ অভিযোগে মামলা করেছেন ওই পুত্রবধূ। অভিযুক্ত শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার বালাপাড়ায় মৃত রহমতুল্লাহর ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম ছফু (৫০) তার পুত্রবধূকে ধর্ষণ করেন।

নির্যাতিত গৃহবধূ বলেন, “তিন মাস আগে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই আমার শ্বশুর প্রায়ই আমার দিকে আড় চোখে তাকাতেন। অথচ আমি আমার শ্বশুরকে নিজের বাবার মতোই দেখাশোনা করতাম।”

তিনি বলেন, “গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আমার শ্বশুর আমার স্বামীকে নিকটস্থ সুইহারি বাজারে কাঁঠাল আনতে আর আমার দেবরকে পান-বিড়ি ও ওষুধ আনতে দোকানে পাঠান।”

“ওই সময় আমি ঘর ঝাড়ু দিয়ে বাড়ির আবর্জনা বাইরে ফেলার জন্য প্রস্তুতি নেই। এমন সময় হঠাৎ আমার শ্বশুর পেছন থেকে এসে আমার মুখ চেপে ধরে তার শোয়ার ঘরে নিয়ে যান”

নির্যাতিতা আরও বলেন, “আমার শ্বশুর আমাকে জোরপূর্বক তার ঘরে নিয়ে হাতে ছিটকিনি লাগিয়ে এবং মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করেন। এসময় আমি চিৎকার করতে চাইলে আমাকে তার বাড়িতে ঘর-সংসার করতে দেবে না বলে হুমকি দেন।”

গৃহবধূ আরও বলেন, “ধর্ষণ করার পর আমি বিষয়টি কাউকে জানালে আমার শ্বশুর আমাকে রাতের অন্ধকারে খুন করবে বলেও হুমকি দেন।”

এজাহারে তিনি আরও বলেন, “আমি চিৎকার দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসলে প্রতিবেশী দুই নারী এগিয়ে আসেন। এসময় আমার শ্বশুর শফিকুল ঘর থেকে বের হয়ে দ্রুত পালিয়ে যান।”

গৃহবধূ বলেন, “ধর্ষণের ঘটনা আমার স্বামী ও চিরিরবন্দর উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানকে জানালে তারা আমাকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেদিনের পর থেকে আমার শ্বশুর পলাতক।”

চিরিরবন্দর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা বানু বলেন, “ঘটনাটি শোনার সঙ্গে সঙ্গেই ওই নারীকে আইনের আশ্রয় নিতে বলি। এরপর নিজ উদ্যোগে ধর্ষককে ধরে রোববার পুলিশের হাতে সোপর্দ করি।”

এ বিষয়ে চিরিরবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হারেসুল ইসলাম বলেন, “শ্বশুর কর্তৃক পুত্রবধূকে ধর্ষণের একটি মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত শ্বশুরকে আটকের পর সোমবার তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।”

মন্তব্য