| প্রচ্ছদ

আমাদের মা জননী-২৭

আয়েশা রা: শ্রেষ্ঠ অধ্যাপিকা ছিলেন

জুবাইর হাসান মোহাম্মদ জুলফিকার আলী
পঠিত হয়েছে ৩৬ বার। প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০১৯ ।

[গতকালের পর থেকে পড়তে হবে] 
খেলাফত যুগের শুরু থেকেই আরবের মদিনা, মক্কা, তায়েফ, বাহরাইন, ইয়ামান, সিরিয়া (দামেস্ক), ইরাক (কুফা), মিশর ইত্যাদি স্থানে বড় বড় ইসলামিক এডুকেশন সেন্টার গড়ে ওঠে। এমনকি আরবের সীমানা পেরিয়ে অন্যান্য অঞ্চলেও এসব ইসলামিক এডুকেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বিশিষ্ট সাহাবিগণের নেতৃত্বে এসব ইসলামিক এডুকেশন সেন্টার পরিচালিত হতো। এসব এডুকেশন সেন্টারের অধ্যক্ষ হিসাবে প্রত্যেক সাহাবিই ছিলেন একেকজন জীবন্ত মাদরাসা। তবে এতসব ইসলামী জ্ঞানচর্চা কেন্দ্রের মাঝেও মসজিদে নববী সংলগ্ন ও হযরত আয়েশা (রা:-এর বাসগৃহের পাশে অবস্থিত ছাউনিটিই ছিলো শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান। সেখানেই তিনি কোরআন হাদিসের তালিম (শিক্ষা) দিতেন, দরস দান করতেন। তাঁর এই দরসগাহে শত শত সাহাবি রা: ও তাবেয়ী (রহ:) গণ ছাত্রত্ব গ্রহণ করতেন। 
ইফতা বা ফতোয়া প্রদানেও হযরত আয়েশা রা: ছিলেন বিশেষ অগ্রগণ্য। খেলাখায়ে রাশেদা (১১-৪০ হিজরি) এর সময়ে তিনি ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশিষ্ট ফকীহ সপ্তকের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তাবেয়ী হযরত কাশেম রহ: (মৃত্যু: ১০৭ হিজরি) বলেনঃ হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা;) এর সময়েই (১১-১৩ হিজরি) স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে হযরত আয়েশা রা: ফাতোয়া প্রদানের মর্যাদা লাভ করেছিলেন। হযরত উমর রা: (খেলাফত কাল: ১৩-২৩ হিজরি) ও হযরত উসমান রা: (খেলাফত কাল: ২৩-৩৫ হিজরি) এর পরও শেষ জীবন পর্যন্ত তিনি ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন করে গেছেন।১ 
হযরত আমীর মুয়াবিয়া রা: (শাসনকাল: ৪০-৬০ হিজরি) সিরিয়ার দামেস্ক থেকে শাসন কাজ পরিচালনা করতেন। কিন্তু প্রয়োজন হলে দামেস্ক থেকে দূত এসে মদিনায় হযরত আয়েশা (রা:) এর কাছে মাস’আলা জানতে চাইতেন; বিভিন্ন বিষয়ে আজ্ঞা ও উপদেশ চাইতেন। শুধু তাই নয়, প্রত্যেক হজ্ব মওসুমে সমগ্র ইসলামী জাহান থেকেই ফতোয়া, মাস’আলা জানার জন্যে বিপুল সংখ্যক লোক ভীর করতেন। হযরত আয়েশা রা: একাধারে ছিলেন ফকীহ, মুজতাহিদ, হাদিসের শুদ্ধ-অশুদ্ধ নির্ণয়কারী অর্থাৎ হাদিসের নিরীক্ষক, কোরআন হাদিসের ব্যাখ্যাকারী। এসব পরিচয় ছাড়াও তিনি ইসলামী অনুশাসনের তাৎপর্য গত ব্যাখ্যা এবং সে সময়ের রহস্যভেদ করে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দিতেন। 
যদিও ইসলামী অনুশাসন, বিধি নিষেধ, আইন কানুন ইত্যাদির তাৎপর্য বিশ্লেষণ, মর্মোপলব্ধি ও রহস্যভেদ করা নিবেদিত প্রাণ ধার্মিকের জন্যে নি®প্রয়োজন। মোমেন মুসলমান হিসাবে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস এই যে, ইসলাম ধর্মের প্রতিটি অনুশাসন সার্বিক কল্যাণের জন্যেই নিবেদিত-পেশকৃত এবং উপস্থাপিত হয়েছে। তবে তারপরেও মহান আল্লাহ তায়ালা অনেক ক্ষেত্রে তাঁর অনুগ্রহ ও অনুকম্পায় ইসলামী অনুশাসন ও বিধি নিষেধগুলোর বিভিন্ন কল্যাণ ও ইতিবাচকতা     বাস্তবতা ও তত্ত্বকথা আমাদের কাছে ব্যক্ত করেছেন। স্বয়ং নবী করিম (সা:)ও যে দিক নির্দেশনা গুলো উম্মাতকে দিয়ে গেছেন সেসবের কল্যাণগুলো কখনো তিনি নিজেই তুলে ধরেছেন, আবার কখনো কারো প্রশ্নের জবাবে স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করেছেন। তেমনিভাবে, বিভিন্ন ইসলামী অনুশাসন সমূহের তাৎপর্যগত ব্যাখ্যা ও সেটার সহস্যভেদ হযরত আয়েশা রা:ও দিয়েছেন। যেমন- কোরআন অবতরণের ক্রমধারা ও বিষয় বিন্যাস সম্পর্কে তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন, মদিনায় ইসলামের সফলতার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেছেন। এছাড়াও জুম’আর দিন গোসলকরা, সফরে দু’রাকাত নামাজ পড়া, ফজর বা আসর নামাজের শেষে আর সুন্নাত বা নফল নামাজ না পড়া, বসে নামাজ পড়া, মাগরিবের ফরজ তিন রাকাত কেন ? ফজর সালাতের ফরজ দুই রাকাতের বেশি রাখা হলো কেন ? আশুরার রোজার কারণ, কোরবানির গোশত তিন দিনের বেশি রাখা যাবে কেন ? রাসূল সা: কে ঘরেই সমাহিত করা হলো কেন ? ইত্যাদি নানান বিষয়ের তাৎপর্যগত ব্যাখ্যা ও রহস্যভেদ হযরত আয়েশা (রা:)ই দিয়েছেন।২ 

[তথ্য সূত্র: ১.তাবাকাতে ইবনে সাদ; উদ্ধৃত: সীরাতে আয়েশা রা:, পৃষ্ঠা: ৩৭৮। ২. সীরাতে আয়েশা, পৃষ্ঠা-৩১৬।]  [পরবর্তী অংশ আগামীকাল]

মন্তব্য