| প্রচ্ছদ

বগুড়ার ধুনটে বাঁধ রক্ষায় অতন্ত্র প্রহরী ছাত্রলীগ!

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
পঠিত হয়েছে ১৭৬২ বার। প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০১৯ ।

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় শতাধিক স্থানে ইঁদুরের গর্তদিয়ে পশ্চিম তীরে পানি চুয়ে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাঁধ। স্থানীয় লোকজনের মাঝে বাঁধ ভাঙ্গার আশংকা দেখা দিয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় অতন্ত্র প্রহরী হিসেবে কাজ করছে ছাত্রলীগ। এছাড়া বানভাসী মানুষের সহায়তায় কারছে ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী গত শুক্রবার রাত থেকে ধুনট উপজেলায় যুমনা নদীর তীর উপচে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের অভ্যন্তরের গ্রাম গুলোতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় যমুনার পানি বিপদসীমার ১১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এদিকে ধুনট উপজেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের শতাধিক স্থানে ঈঁদুরের গর্তদিয়ে যমুনার পানি চুয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। বুধবার সকাল থেকে আটাচর গ্রামে প্রায় ২০০ মিটার এলাকায় অন্তত ৩০টি স্থানে পানি চুয়ে প্রবেশ করতে দেখা যায়। বালু-মাটির তৈরী বাঁধের অধিকাংশ স্থানে ঈঁদুরের গর্তদিয়ে পানি চুয়ে প্রবেশ করার ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে বাঁধ ভাঙ্গার আশংকা দেখা দিয়েছে। ২০০৪ সালে শিমুলবাড়ী এলাকায় রাতের আঁধারে বাঁধ কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পুরো ধুনট উপজেলায় বন্যা কবলিত হয়। রাতের অন্ধকার মানেই বাঁধে আতংক। এ অবস্থায় স্থানীয় লোকজন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে বাঁধ পাহাড়া দিচ্ছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে শিমুলবাড়ী এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ চুয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে দেখা যায়। জরুরী ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষায় বালুর বস্তা ফেলার উদ্যোগ নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু জনবল স্বল্প শ্রমিকদের সাথে বালু ভরে বস্তা প্রস্তুত করতে হাত লাগায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ স্বপনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতা তানভীর হোসেন, মানিক, স¤্রাট, সুলতান, রুমন, রনি, সবুজ, মোহনসহ কয়েকজনকে বালুর বস্তা প্রস্তুত করতে দেখা যায়। 

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ স্বপন বলেন, যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকেই আমি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে রয়েছি। আমাদের প্রিয় নেতা এমপি হাবিবর রহমানের নির্দেশনায় উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকন ভাইকে সঙ্গে নিয়ে পানির মধ্যে গিয়ে বানভাসী মানুষের খোঁজ নিয়েছি। তাদের ত্রাণ নিশ্চিত করেছি। বাঁধ রক্ষায় কাজ করেছি। এছাড়া রাতের আঁধারে বাঁধ যেন কেউ কেটে দিতে না পারে, এ কারনে রাত জেগেও বাঁধে সতর্ক দৃষ্টি রাখছি।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই খোকন বলেন, বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ বিভিন্ন ভাবে দুর্ভোগে থাকেন। এসময় এক শ্রেণির মানুষ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টায় থাকে। প্রকৃত অর্থে কাজের মানুষের অভাব। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বানভাসী মানুষের পাশে আমরা সার্বক্ষনিক রয়েছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ছাত্রলীগ নেতা আবু সালেহ স্বপনসহ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। 
 

মন্তব্য