| প্রচ্ছদ

বগুড়ার ধুনটে কমছে পানি, বাড়ছে দুর্ভোগ

আমিনুল ইসলাম শ্রাবণ. ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
পঠিত হয়েছে ২০৮ বার

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় চলতি বছর যমুনা নদীতে পানি বিপদসীমার ১২৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে যমুনা নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১২ সেন্টিমিটার পানি কমেছে। এসময় যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ১১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এদিকে পানি কমলেও বন্যা দুর্গত এলাকায় দুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল বলেন, 'এ বছর যমুনা নদীতে রেকর্ড পরিমানে পানিবৃদ্ধি পেয়েছে। পানিবৃদ্ধির ফলে ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের বৈশাখী, রাধানগর, বথুয়ারভিটা চর এবং তীরবর্তী ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবৃন্দি হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি এলাকার ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১টি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ৪৮০ হেক্টর আবাদী জমির রোপা-আমন বীজতলা, পাট, শাক-সবজি, মরিচসহ অন্যান্য ফসল নষ্ট হয়েছে। পানিবন্দি এলাকার প্রায় ১ হাজার পরিবার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া অধিকাংশ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করছে।' 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল আলীম জানান, ধুনট উপজেলায় এ পর্যন্ত বন্যা দুর্গত ৫শ পরিবারের জন্য শুকনো খাবার ও ৪০.৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ হয়েছে। এরমধ্যে শুকনো খাবার ও ২০.৫ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে এবং পানিবন্দি এলাকায় যতটুকু উঁচু জায়গা রয়েছে, সবখানে আশ্রয় নিয়েছে বানভাসী পরিবার গুলো। গবাদী প্রাণির সাথে গাদাগাদি করে খোলা আকাশে নীচে বাস করছে এসব পরিবার। পানিবন্দি পরিবার গুলোর চাহিদা অনুযায়ী ত্রাণ বিতরণ হয়নি। শুক্রবার পর্যন্ত বৈশাখী চরে পৌছেনি ত্রাণ সামগ্রী। দুর্গত এলাকায় নিরাপদ পানির চরম সংকট রয়েছে। গো-খাদ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। এছাড়া দুর্গত এলাকায় সাপের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। স্যানিটেশন সমস্যা চরম দূর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। এরমধ্যে অসুস্থ্য রোগী, বয়োবৃদ্ধ ও শিশুরা চরমকষ্টে জীবন যাপন করছে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, 'বন্যা দুর্গত এলাকার চাহিদা অনুযায়ী ত্রাণ রয়েছে। পর্যায়ক্রমে ত্রাণ গুলো বিতরণ করা হবে। দুর্গত এলাকায় মানুষের জন্য স্বাস্থ্য সেবা, গবাদী প্রাণির স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য পুলিশ রয়েছে। বানভাসী মানুষের সংকট মোকাবেলায় জরুরী সহায়তা দিতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'শনিবার বৈশাখী চরের পানিবন্দি পরিবার গুলোর কাছে ত্রাণ পৌছে দেওয়া হচ্ছে।'

মন্তব্য