| প্রচ্ছদ

৬ মাস পর আমেনা হত্যার রহস্য উদঘাটন

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বাবা খুন করে শিশুটিকে

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৫০ বার। প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০১৯ ।

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের পাঁচ বছর বয়সী সন্তানকে ছুরি দিয়ে হত্যা করে হারুন। শিশুটিকে হত্যায় সহযোগিতা করেছে বাবা হারুনের মা ছালেহা, ভাই আজিজুল হক, ভাইয়ের স্ত্রী বেদেনা খাতুন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ধরমণ্ডল ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে নৃশংস এই ঘটনার ৬ মাস পর পুলিশ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে। তবে বাবা হারুনকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি।

নাসিরনগর থানার ওসি সাজেদুর রহমান শনিবার বলেন, শিশুটির লাশ দেখে এবং তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে আমার সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে আসল কাহিনী বেরিয়ে আসে। আমরা আদালতের কাছে আবেদন করেছি মামলার বাদী হারুনকে গ্রেফতারের অনুমতি দিতে। এরপর পুলিশ বাদী হয়ে হারুনসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করবে। এছাড়া বাদীর দায়ের করা মামলা থেকে আসামিদের অব্যাহতি দিতে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হারুন মিয়া ও আরজান মিয়া চাচাতো ভাই। মাদকদ্রব্য বেচা-কেনা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল দীর্ঘদিনের। মাদকের আদিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষ হয়। গত বছরের ৩১ মে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে আরজান মিয়ার সমর্থক তোফাজ্জল মিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান। পরে হারুন মিয়াসহ তার সমর্থদের বসতঘরে লুটপাট ও ভাংচুর চালানো হয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ওই ঘটনার মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। হারুন মিয়া আরজানকে ফাঁসাতে নানা ফন্দিফিকির আটতে থাকে। কিছুদিন পর আরজান ইয়াবা নিয়ে আসার পথে কুমিল্লার বুড়িচং থানা পুলিশের হাতে আটক হয়। এই ঘটনায় হারুনকে দায়ী করে আরজানের পরিবার। ওই ঘটনার বেশকিছুদিন পর গত ২১ জানুয়ারি হারুন তার শিশুসন্তান আমেনা আক্তারকে ছুরি দিয়ে হত্যা করে। পরে আরজানসহ ২৫ জনকে আসামি করে নাসিরনগর থানায় হত্যা মামলা করে।

পুলিশের অনুসন্ধানে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডটি সংগঠিত হয় চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টায়। অথচ হারুন মামলায় উল্লেখ করেন ২০ জানুয়ারি সকাল ১০টায়। মামলার এজহারে বলা হয়, আসামিরা বল্লম দিয়ে মেয়েটিকে হত্যা করে। কিন্তু ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা শিশুটি হত্যা করা হয়েছে ধারালো অস্ত্র (ছুরি) দিয়ে কুপিয়ে। এছাড়া এজাহারভুক্ত তিন আসামির মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ওই দিন তারা ঘটনাস্থলেই ছিলেন না।

শিশুটির পিতার দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নাসিরনগর থানার এসআই মইনুল ইসলাম খান বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের মেয়েকে হত্যা করেছে হারুন মিয়া। গ্রেফতার হওয়া ২৫ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে আমরা নিশ্চিত হই এ হত্যাকাণ্ড মামলার বাদী হারুন মিয়া নিজে সংঘটিত করেছেন। 

মন্তব্য