| প্রচ্ছদ

বগুড়ার শেরপুরে ‘ছেলেধরা’ গুজবে অর্নাস পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে গণপিটুনি

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
পঠিত হয়েছে ৩২৬ বার। প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০১৯ ।

বগুড়ার শেরপুরে ‘ছেলেধরা’ গুজব রটিয়ে অর্নাস পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে গণপিটুনি দেয়া হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের শেরুয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। গণপিটুনির শিকার ওই শিক্ষার্থীর নাম বাবুল হোসেন (১৮)। তিনি একই উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের পানিসারা গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।

খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সেখানে চিকিৎসা শেষে থানায় নিয়ে আসা হয়।

পুলিশ জানায়, বাবুল হোসেন বগুড়ার একটি কলেজে অনার্স প্রথমবর্ষে পড়াশোনা করে। সে কোন ছেলেধরা নয়। পূর্বশক্রতার জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন এই গুজব ছড়িয়ে তাকে পিটুনি দেয়।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশকয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন মাধ্যমে দেশের অন্যান্য স্থানের ন্যায় এ উপজেলাতেও ‘ছেলেধরা’ গুজব ছড়িয়েছে। ফলে গ্রামের সাধারণ মানুষ কোন কিছু না বুঝেই অপরিচিত লোকজন দেখলেই তাকে ‘ছেলেধরা’ হিসেবে আটক করছেন। একইসঙ্গে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করছে।

শেরপুর থানার ওসি বুলবুল ইসলাম বলেন, 'কলেজ পড়ুয়া ছাত্র বাবুল হোসেন তার বন্ধু বাঁধনের শেরুয়া গ্রামের শ্বশুড়বাড়িতে আসে স্বামী-স্ত্রীর বিরোধ নিষ্পত্তি করতে। কিন্তু বিষয়টি ভালোভাবে নেননি তার বন্ধুর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এছাড়া তাদের সঙ্গে বাবুলের পূর্ববিরোধও ছিল। তাই তাকে ছেলেধরা হিসেবে গুজব রটিয়ে গণপিটুনি দেয়া হয়।'

তিনি আরো বলেন, 'ছেলেধরা ও গলাকাটার বিষয়টি সম্পুর্ণ গুজব। একটি কু-চক্রী মহল এই গুজবটি ছড়িয়ে তাদের অসৎ উদ্দেশ্যে হাসিলের পাঁয়তারা করছে। তাই এই গুজবে কান না দেয়ার আহবান জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, অপরিচিত কোন ব্যক্তিকে সন্দেহ হলে পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে পারেন। কিন্তু তাকে গণপিটুনি দেয়া যাবে না। এমনটি করা মারাত্মক অপরাধ। এ ধরণের কাজ করে যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিলে নেবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারী দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান।'

প্রসঙ্গত, ২০ জুলাই সন্ধ্যায় শহরের খন্দকারটোলা এলাকা থেকে এক স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ। জেলার ধুনট উপজেলার মাটিকোড়া গ্রামের সাকির হোসেন রিটুর মেয়ে সে। এছাড়া স্থানীয় মাঠপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টমশ্রেণীতে পড়ালেখা করে। ভুলবশত শেরপুরে আসে ওই স্কুলছাত্রী। একপর্যায়ে পুলিশ তাকে উদ্ধারের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

এই ঘটনার একদিন আগে শহরের উত্তরসাহাপাড়া এলাকাতেও ‘ছেলেধরা’ গুজব ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মসজিদের মাইকেও অপরিচিত লোকদের সম্পর্কে সচেতন থাকতে প্রচার করা হয়। সপ্তাহজুড়ে এমন সব ঘটনায় গোটা উপজেলায় ‘ছেলেধরা’ গুজবে আতঙ্ক তৈরী হয়েছে। এই আতঙ্কে সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। এমনকি কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে স্কুলে আসা-যাওয়াসহ সার্বক্ষণিক সঙ্গে থাকছেন তারা।

মন্তব্য