| প্রচ্ছদ

আমাদের মা জননী-৩০

মন্দ মন্দকে খোঁজে আর ভালো ভালোকেই কাছে টানে-১

জুবাইর হাসান মোহাম্মদ জুলফিকার আলী
পঠিত হয়েছে ১১২ বার। প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০১৯ ।

[গতকালের পর থেকে পড়তে হবে] 
খারাপ চরিত্রের নারী ও খারাপ চরিত্রের পুরুষ উভয়েই একে অপরের জন্যে উপযুক্ত এবং বাঞ্ছনীয়ও হয়ে থাকে। অনুরূপভাবে সচ্চরিত্রের নারী ও সচ্চচরিত্রের পুরুষ পরস্পরের প্রতিই স্বাভাবিক ঝোঁক-প্রবণতা বোধ করে। অর্থাৎ খারাপের সাথে খারাপ এবং ভালোর সাথে ভালো ঘর সংসারের যোগ্য হয়; সেভাবে তারা জীবন সাথী হয় এবং একত্রে বসবাস করে। 
আমাদের সমাজে যেসব দুশ্চরিত্রের ব্যক্তি দেখা যায়, তারা কেবল একটি অন্যায়ই করে না। এমন হয় না যে, তারা অন্যসব দিক দিয়েই সম্পূর্ণ ঠিক আছে কিন্তু শুধুমাত্র এই একটি দিক দিয়েই অন্যায়ে লিপ্ত। আসলে দুশ্চরিত্র ব্যক্তির স্বভাব-আদত-অভ্যাস ইত্যাদি সব ব্যাপারেই অনেক মন্দ লুকায়িত থাকে। এসব মন্দত্ব তাকে বড় বড় অন্যায় করার আনুকল্য ও পৃষ্ঠপোষকতা দান করে। মনে রাখা দরকার, একটি লোকের চরিত্রে হঠাৎ করেই কোনো অন্যায় আজগুবি গোলার মতো ফেটে পড়বে না। তার চাল চলন, বচনে ভাষণে অবশ্যই পূর্ব থেকেই দোষ-ত্র“টি-অসততার লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকবে। 
মন্দ চলবে মন্দের সাথে, ভালো চলবে ভালোর সাথে। আমাদের মানব জীবনের বিভিন্ন দিকে এই     মনস্ততাত্বিক সত্যটাই সব সময় লক্ষ করা যায়। সুতারাং এমন কথা কেমন করে ধারণা বিশ্বাস করা যাবে যে, “একজন সচ্চরিত্রের লোক যাকে সকলে ভালো বলেই জানে, সে একজন চরিত্রহীনা-ব্যভিচারিণী স্ত্রী লোকের সাথে একত্রে বসবাস করবে এবং দীর্ঘকাল পর্যন্ত প্রেম ভালোবাসার মধ্যে কাটাতে থাকবে ? এমন স্ত্রী লোকেরই বা ধারণা-বিশ্বাস করা যায় কীভাবে, যে চরিত্রহীনা হবে অথচ তার কথাবার্তা, চালচলন, চলাফেরা ইত্যাদি কোনো কিছু থেকেই তার খারাপ হওয়ার লক্ষণ দেখা যাবে না? অথবা এক ব্যক্তি নির্মল আত্মা ও উন্নত চরিত্রের অধিকারী হয়েও খারাপ চরিত্রের একজন স্ত্রী লোক পেয়ে কীভাবে সন্তুষ্ট থাকতে পারে?” এসব কিছুই ভীষণ অসম্ভব, অবাস্তব ও অস্বাভাবিক।
আসল কথা হলো- একজন ভালো চরিত্রের পুরুষ লোক দীর্ঘদিন অপর একজন স্ত্রী লোকের সাথে একটি কারণেই সন্তুষ্ট চিত্তে ঘর সংসার বসবাস করবে যখন তার জীবন সাথীও সচ্চরিত্র ও পুণ্যশীল ব্যক্তিত্বের অধিকারিণী। তেমনিভাবে এই কথা ঘুরিয়ে দিয়েও বলা যেতে পারে। তা হলো- একজন সচ্চরিত্রের নারীও দীর্ঘদিন যাবৎ একজন দুশ্চরিত্রের ব্যক্তির সাথে সন্তুষ্ট চিত্তে বসবাস করতে পারে না। আর সেই দুশ্চরিত্র ব্যক্তির মন্দ স্বভাব তো আশেপাশে জানাজানি হয়েই পড়ে। সুতারাং সচ্চরিত্রের স্ত্রী লোক তখনই দীর্ঘদিন সে রকমই একজনের সাথে গভীর প্রেম ভালোবাসা দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জীবন সংসার পরিচালনা করবে যার নৈতিক চরিত্র তার মতোই উত্তম। 
সুতারাং কোনো নারীর প্রতি চারিত্রিক অপবাদ আরোপের আগে যথেষ্ট ভেবে দেখা দরকার। কেউ যদি কারো ওপর চরিত্রহীনতার দোষ আরোপ করে, তা’হলে মানুষের তা অন্ধের মতো শুনেই বিশ্বাস করা উচিত নয়। বরং মানুষকে চোখ মেলে দেখতে চেষ্টা করতে হবে যে, “কার ওপর এই অভিযোগ তোলা হয়েছে, কিসের অভিযোগ তোলা হয়েছে এবং তা তার ব্যাপারে শোভা পায় কিনা? যদি বিশ্বাস করবার মতো কোনো উপাদান পাওয়া যায়, তাহলে কিছুটা হয়তো বিশ্বাস করা যায়, অন্তত সম্ভব বলে মনে করা যেতেও পারে। কিন্তু উড়ন্ত, উদ্ভট কথাবার্তা, যার সত্যতার সমর্থনে কোনোই সাক্ষ্য-প্রমাণ-আভাস-ইংগিত নাই সেই কথাকে কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। প্রথমেই ভাবা দরকার মন্দ চরিত্রের অধিকারীকে ভালোর সাথে জড়িয়ে অপপ্রচার চলছে কি না অথবা দুটো ভালো চরিত্রকেই কলুষিত করার চেষ্টা হচ্ছে কি না? কারণ মন্দতো চলে মন্দের সাথে আর ভালো যায় ভালোর সাথে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:
“দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্যে; দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্যে; সচ্চরিত্রা নারী সচ্চরিত্র পুরুষের জন্যে এবং সচ্চরিত্র পুরুষ সচ্চরিত্রা নারীর জন্যে। লোকে যা বলে এরা তা থেকে পবিত্র; এদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা। সূরা: আন নূর: ২৬।
অর্থাৎ খারাপ চরিত্রের স্ত্রীলোক খারাপ চরিত্রের পুরুষদের যোগ্য এবং খারাপ চরিত্রের পুরুষ খারাপ চরিত্রের স্ত্রী লোকদের যোগ্য। অনুরূপভাবে সচ্চরিত্রের স্ত্রীলোক সচ্চরিত্রের পুরুষদের জন্য যোগ্য এবং সচ্চরিত্রের পুরুষ সচ্চরিত্রের স্ত্রী লোকদের জন্য যোগ্য। তারা নিষ্কন্টক সেইসব কথা থেকে যা লোকেরা রচনা করে থাকে। তাদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিযিক।

[পরবর্তী অংশ আগামীকাল]

মন্তব্য