| প্রচ্ছদ

বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনঃ ধারাগুলো জেনে রাখুন

পুণ্ড্রকথা রিপোর্ট
পঠিত হয়েছে ৮১৩ বার। প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০১৮ । আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০১৮ ।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামে বহুল আলোচিত নতুন একটি আইন পাশ হয়েছে। ২০১৮ সালের ২৯ জানুয়ারি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া অনুমোদন করেছিল মন্ত্রিসভা। তখন থেকে এই আইনের বেশ কয়েকটি ধারা নিয়ে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পক্ষ আপত্তি জানিয়ে আসছিল। সম্পাদক পরিষদ এই আইনের ৮টি ধারা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিল। সম্পাদক পরিষদ মনে করে, এসব ধারা বাক্‌স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বাধা হতে পারে। এ ছাড়া ১০টি পশ্চিমা দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকেরা এই আইনের ৪টি ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ৯টি ধারা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিল।

তখন আপত্তির মুখে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। এই প্রেক্ষাপটে গত ৯ এপ্রিল বিলটি পরীক্ষার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠায় সংসদ। সাংবাদিকদের তিনটি সংগঠন সম্পাদক পরিষদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বিলটি নিয়ে দুই দফা বৈঠক করে সংসদীয় কমিটি। প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইনে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। যে ধারাগুলো নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের আপত্তি ছিল, তার কয়েকটিতে কিছু জায়গায় ব্যাখ্যা স্পষ্ট করা, সাজার মেয়াদ কমানো এবং শব্দ ও ভাষাগত কিছু সংশোধনী আনা হয়। এরপর ২০০৮ সালের ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে প্রথম বিল আকারে উত্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে সংসদের ভেতরে-বাইরে বিভিন্ন পক্ষের আপত্তি, উদ্বেগ ও মতামত উপেক্ষা করে গত ২৬ সেপ্টেম্বর সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করা হয়। 

আইনটি পাস হওয়ার প্রতিবাদে সম্পাদকেরা মানববন্ধন করার ঘোষণা দেন। এরপর তাঁদের সঙ্গে বৈঠকও করেন আইন, তথ্য এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী। সেখানে গণমাধ্যমের আপত্তিতে থাকা ধারাগুলো আলাপ–আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু ৩ অক্টোবর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অপরাধী মন না হলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই। এরপর রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ গত ৮ অক্টোবর বিলটিতে স্বাক্ষর করেন। তাঁর স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আইনটি কার্যকর হয়ে গেছে।

আইনটিতে ২২টি বিষয়কে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে তার শাস্তির মেয়াদ সম্পর্কে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। নতুন এই আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানার আগ্রহ রয়েছে বলে পুণ্ড্রকথা তার পাঠকদের জন্য মুল আইনের গেজেটের কপি স্ক্যান করে তুলে ধরলো।


মন্তব্য