| প্রচ্ছদ

বগুড়ার শেরপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে পুলিশ সদস্য গ্রেফতার

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
পঠিত হয়েছে ৭৩ বার। প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০১৯ ।

বগুড়ার শেরপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে গৌতম কুমার (৩৫) নামে এক গ্রাম পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার স্ত্রীর নাম পূর্ণিমা রানী। বুধবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের সিরাজনগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। গ্রেফতার গৌতম কুমার ওই গ্রামের শ্রী বোধন কুমারের ছেলে। স্ত্রীর লাশ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।  

বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ময়না তদন্তের পর নিহতের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গ্রাম পুলিশ গৌতম কুমার প্রায় দেড় বছর আগে পাশের তাড়াশ উপজেলার ধামাইনগর গ্রামের মেয়ে পুর্ণিমা রানীকে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে কলহ লেগেই থাকতো। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার বিকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হলে গৌতম তার স্ত্রীকে মারপিট করে ঘরে তালা দিয়ে রেখে স্থানীয় বাজারে যান।

সন্ধ্যার কিছুসময় আগে বাজার থেকে ফিরে এসে স্ত্রীকে অচেতন অবস্থায় দেখে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলানোর চেষ্টা করেন তিনি। একপর্যায়ে ব্যর্থ হয়ে স্ত্রী পুর্ণিমাকে নিয়ে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে বগুড়ায় শজিমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তার স্ত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় স্ত্রী পূর্ণিমা রানী গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে চিকিৎসকসহ হাসপাতালে প্রচারণা করেন স্বামী গৌতম কুমার। কিন্তু নিহতের শরীরে আঘাতের চিহৃ থাকায় তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়া হয়।

শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) বুলবুল ইসলাম বলেন, 'প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গৌতম স্বীকার করেছে, হত্যার উদ্দেশে নয়, পারিবারিক কলহের কারণে তিনি স্ত্রীকে মারপিট করেছেন। ওই ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা নেয়া হবে। তবে ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়া গেলেই কেবল মৃত্যুর কারণ জানা সম্ভব হবে'।

মন্তব্য