| প্রচ্ছদ

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৪১ বার। প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০১৯ ।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতির কথা। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। 

মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির শিরোনাম ‘দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ ডেঙ্গু প্রকোপের সঙ্গে লড়ছে বাংলাদেশ’। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলা হয়েছে, ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ। হাসপাতালগুলোতে রোগীদের উপচেপড়া ভিড়। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জায়গা দিতে হিমশিম খাচ্ছে সরকারি বেসরকারি হাসপাতালগুলো, যা  গোটা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটি বিপর্যয়ের মতো করে হাজির হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শহর কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। 

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কুটনীতিবিষয়ক সাময়িকী ‘ডিপ্লোম্যাট’ তাদের শিরোনামে বলছে, ‘বাংলাদেশের ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব মহামারি পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে রোগীদের উপচেপড়া ভিড়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

‘অনবরত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ, বাংলাদেশজুড়ে আতঙ্ক’ শিরোনামে খবর প্রকাশ করেছে এশিয়া নিউজ। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে এতে বলা হয়েছে, কেবল জুলাই মাসে নতুন করে সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষ আক্রান্ত হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। 

জার্মান গণমাধ্যম ‘ডয়চে ভেলে ওয়ার্ল্ড সার্ভিস’-এর এক ভিডিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের ভয়াবহ চিত্র। দেখা গেছে, হাসপাতালের বেডে রোগীদের স্থান সংকুলান হচ্ছে না। আক্রান্তদের মেঝেতে আশ্রয় দিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি।  

‘মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু আতঙ্ক বিরাজ করছে’ উল্লেখ করে এশিয়া নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, কোনও ধরনের লক্ষণ দেখা দিলেই তারা হাসপাতালে ছুটছেন। ঢাকার হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর পরিচালক মীরজাদী সাবরিনাকে উদ্ধৃত করে  চীনা সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, সহসা ডেঙ্গু রোগের ভাইরাসের প্রকোপ কমার সম্ভাবনা কম। কারণ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ রোগের ভাইরাসবাহী এডিস মশার প্রজনন প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এ রোগের বিস্তার ঠেকাতে মশার বংশবিস্তারের এলাকা যথাযথভাবে শনাক্ত ও ধ্বংস করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মীরজাদি সাবরিনা।  

শিরোনামে একদিনে ১ হাজারেরও বেশি ডেঙ্গু রোগীর হাসপাতালে ভর্তির খবর দিয়ে রাষ্ট্রীয় রুশ টেলিভিশন আরটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে মশার বংশবিস্তার কমানো ও নিয়ন্ত্রণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট তাদের এ সংক্রান্ত সংবাদের শিরোনামে বলছে, বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ‘অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে খারাপ অবস্থায়’ পৌঁছেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১৩ হাজার মানুষ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। 

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তারকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির তথ্য রাখা শুরু হয়েছে। সেই থেকে বিচার করলে এবারের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ।  

চায়না ডেইলির শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘দেশজুড়ে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে’। কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল সবথেকে বেশি ডেঙ্গু-ঝুঁকিতে রয়েছে।  

কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’র খবরে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু ও বন্যাজনিত কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩টিতেই ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য বলছে, এক নেত্রকোনা ছাড়া বাকি সব জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। সরকারি এই পরিসংখ্যান সেল বলছে, ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ১৮৩। আর প্রাণঘাতী এ রোগে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১৪ জন। যদিও বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা তিনগুণের বেশি। সুত্র-বাংলা ট্রিবিউন।

মন্তব্য