| প্রচ্ছদ

কালো ব্যাচ ধারণ কর্মসূচীর উদ্বোধন নিয়ে বিরোধ

বগুড়ায় বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের দুই গ্রুপে মারামারি: চেম্বার ভাংচুর

স্টাফ রিপোর্টার
পঠিত হয়েছে ১২০ বার

শোকাবহ আগস্টে কালো ব্যাচ ধারণ কর্মসূচীর উদ্বোধন করা নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়ায় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের দুই গ্রুপের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। এতে ‘পিপি গ্রুপ’-এর সদস্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি নরেশ মুখার্জী এবং অপর দুই পিপিসহ ৮ আইনজীবী আহত হন। ওই ঘটনায় তাদের বিরোধী পক্ষের নেতা হিসেবে পরিচিত বার কাউন্সিলের সদস্য সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টুর চেম্বার ভাংচুর করা হয়। তবে দুই পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করলেও কোন পক্ষই আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের সংগঠনের বগুড়ায় কোন কমিটি নেই। সে কারণে ওই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির দুই সদস্য সিনিয়র আইনজীবী বার কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি নরেশ মুখার্জীর মতামতের ভিত্তিতে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হয়। ওই দু’জনের মধ্যে নরেশ চন্দ্র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি আব্দুল মতিন গ্রুপের সদস্য হিসেবে পরিচিত। পিপি আব্দুল মতিন হজের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করায় তার পক্ষে নেতৃত্বে রয়েছেন নরেশ মুখার্জী। অন্যদিকে বার কাউন্সিলের সদস্য রেজাউল করিম মন্টু তাদের বিরোধী পক্ষের নেতা হিসেবে পরিচিত। 
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী স্মরণে আগস্ট মাসজুড়ে নানা কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে আগস্টের প্রথম দিন সংগঠনের সদস্যদের কালো ব্যাচ ধারণের সিদ্ধান্ত হয়। তিনি অভিযোগ করেন, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির অপর সদস্য এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি নরেশ মুখার্জী বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে এককভাবে কালো ব্যাচ ধারণ কর্মসূচী উদ্বোধন করেন। এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে সে অন্যের ওপর দোষ চাপায় এবং আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। পরে তার পক্ষের লোকজন এসে আমার চেম্বারের দরজা এবং মোহরারের টেবিল ভাংচুর করে।’
তবে স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট নরেশ মুখার্জী ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি রেজাউল করিম মন্টুর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের মত আচরণের অভিযোগ উত্থাপন করে বলেন, ‘ব্যাচ ধারণ কর্মসূচীর জন্য তাকে বার বার ডাকা হয়েছে। কিন্তু তিনি নির্ধারিত সময়ে আসেননি। পরবর্তীতে তার সম্মতি নিয়েই আমরা ব্যাচ বিতরণ করি। অথচ তিনি আদালতে এসে আমাদের গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে তার অনুগত কয়েকজন আইনজীবী আমাকে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের অপর স্পেশাল পিপি আশেকুর রহমান সুজন এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত পিপি নুরুস সালাম সাগরসহ ৮ আইনজীবীকে মারপিট করেন।’ তার দাবি চুরিকাঘাতে স্পেশাল পিপি আশেকুর রহমান সুজনের হাতে ৬টি সেলাই দিতে হয়েছে এবং আহত প্রত্যেকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ওই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি’না এমন প্রশ্নের জবাবে পিপি গ্রুপের সদস্য নারী ও শিশু নির্যাদন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি নরেশ মুখার্জী বলেন, ‘আমরা বিষয়টি বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বগুড়া বার সমিতির নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছি। উভয় পক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।’ এ প্রসঙ্গে অপর পক্ষের নেতা অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় আমি খুবই মর্মাহত হয়েছি। এর বেশি কি আর বলবো?’

 

মন্তব্য