| প্রচ্ছদ

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কলকাতা থেকে বিশেষজ্ঞ আনছেন মেয়র আতিক

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৩৬ বার। প্রকাশ: ০১ অগাস্ট ২০১৯ ।

মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য ‘অভিজ্ঞতার ঘাটতির’ কথা বললেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

তিনি জানালেন, এ বিষয়ে কলকাতা সিটি করপোরেশনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে সেখান থেকে একজন বিশেষজ্ঞকে শিগগিরই ঢাকায় আনা হচ্ছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন মেয়র আতিক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও উপস্থিত ছিলেন এ সভায়।

মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, কলকাতা সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে যিনি কাজ করেছেন, সেই বিশেষজ্ঞের সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়েছে। ইতোমধ্যে তাকে আমন্ত্রণত্রও পাঠানো হয়েছে।    

“সে কথা দিয়েছে যে, আগামী রোববার এখানে আসবে। আমি অনিক ঘোষকে বলেছি, তোমাদের যা যা এক্সপেরিয়েন্স আছে, সবাইকে নিয়ে .. অন বিহাফ অব… আমি দায়িত্ব নিচ্ছি।”

ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও বর্ষকালে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল এক সময় নিয়মিত ঘটনা। তবে সারা বছর ধরে নজরদারি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানোয় মশা ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বেশ সাফল্য পেয়েছে কলকাতা সিটি করপোরেশন।

কলকাতার ডেপুটি মেয়র ও স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষকে উদ্ধৃত করে সম্প্রতি বিবিসি বাংলায় এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এরপর কলকাতা সিটিতে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে জানতে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাশ এবং কলকাতার সেই বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।

তিনি সাংবাদিকদের বলে, “উনি এলে আপনাদের সবাইকে বলব কীভাবে তারা মোকাবেলা … আমি বলতে চাই, আমার সততার কমতি নাই। আমার এক্সপেরিয়েন্সের কমতি আছে।”

ডেঙ্গুর প্রকোপ স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ গেলে মশক নিয়ন্ত্রণ সেলকে আরও শক্তিশালী করে বছরে ৩৬৫ দিন এ বিষয়ে কাজ করার ওপর জোর দেন উত্তরের মেয়র।

গত জুন মাসের শুরু থেকে ঢাকায় ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ বাড়তে থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে দাবি করছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র সাঈদ খোকন। 

কিন্তু জুলাইয়ের শেষে এসে এ রোগ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সবাইকে হুঁশিয়ার করে বলেছে, এডিস মশার প্রজননস্থানগুলো ধ্বংসে সফলতা না এলে সেপ্টেম্বরে এ রোগের প্রকোপ আরও বাড়তে পারে।

এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপের জন্য সিটি করপোরেশনের মশা নিধন কার্যক্রমে শিথিলতার অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন মশা মারতে যে ওষুধ দিচ্ছে তা কার্যকর নয় বলে আইসিডিডিআর,বির গবেষণায় উঠে আসে।

এ বিষয়ে মেয়র আতিক বলেন, “যে চালানের সব ওষুধ খারাপ, সেই চালানটা আমরা বাতিল করে দিয়েছি। ওই চালানের কোনো ওষুধ কিন্তু ছিটানো হচ্ছে না। পরবর্তী যে ওষুধের চালানটা পেয়েছি, সেটা ছিটানো হচ্ছে। সেটা আইসিডিডিআর,বির অনুমোদিত, অন্যান্য এজেন্সির অনুমোদিত।”

সিটি করপোরেশনের চেষ্টায় যে কোনো ঘাটতি নেই, তা বোঝাতে উত্তরের মেয়র বলেন, “আগে পাঁচজন এক ওয়ার্ডে ওষুধ ছিটাতো। এখন আমরা দশজন করে দিয়েছি। সোমবার থেকে প্রত্যেক মশককর্মীর সঙ্গে আমি ট্র্যাকারও লাগিয়ে দিচ্ছি।ওরা কোন এলাকায় যাবে; আমরা ট্র্যাক করতে পারব।”

আতিক বলেন, “মশা মারতে হবে, কিন্তু অন্য কিছু মারা যাবে না। পরিবেশের যেন ক্ষতি না হয়। স্বাস্থ্যেরও যেন ক্ষতি না হয়। মানুষেরও যেন ক্ষতি না হয়। এটা হাইলি টেকনিক্যাল। আটজনের টেকনিক্যাল কমিটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমাদের বেশ অগ্রগতি হয়েছে। নতুন ওষুধ কবে আনছি- ডেটটা বলব না; আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত ওষুধটা আনা যায়।“

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন এ সময় দাবি করেন, তার আওতাধীন এলাকার ১০টি ওয়ার্ড (১৪, ১৮, ২২, ২৩, ২৯, ৩৫, ৪২, ৪৩, ৫৩, ৫৫ ও ৫৬) ‘ডেঙ্গুমুক্ত’ অবস্থায় রয়েছে।

কোন ম্যাজিকে এটা সম্ভব হয়েছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “এমন কোনো ম্যাজিক নাই যেটা ব্যবহার করলে ডেঙ্গুমুক্ত হয়ে যাবে।এখানে পরিকল্পনার বিষয় রয়েছে, কর্মসূচির বিষয়ে রয়েছে।”

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ সময় সারাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে শুধু চিকিৎসা সেবাই দেওয়া হচ্ছে না, মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।”

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২৯ জন চিকিৎসকের একটি দল সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির দেখভাল করছেন। জেলার সিভিল সার্জনরাও কাজ করছেন। ডেঙ্গু রোগীদের কীভাবে চিকিৎসা দেওয়া হবে তার গাইড লাইনও দেওয়া হয়েছে।

দেশে ডেঙ্গুর এই প্রকোপের মধ্যে ছুটি নিয়ে স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়ায় গিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে সফর সংক্ষিপ্ত করে বুধবার রাতে তিনি দেশে ফেরেন। তবে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তা এড়িয়ে যান।

স্বাস্থ্য সচিব আসাদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আপনারা ঢুকে পড়েছেন, তাই আপনাদের সাথে কথা বলা হয়েছে।আমরা মিটিং করে, টেকনিক্যাল টিম কাজ করে কী কী ইনেশিয়েটিভ নেওয়া হয়েছে সেসব আপনাদের বিস্তারিত জানাব।”

মন্তব্য