| প্রচ্ছদ

বগুড়ায় ভুলের মাশুলে সিএনজি চালকের গণধোলাই, উদ্ধার করলো ট্যুরিষ্ট পুলিশ।

স্টাফ রিপোর্টার
পঠিত হয়েছে ২৯৯ বার। প্রকাশ: ০৩ অগাস্ট ২০১৯ ।

বগুড়ায় গণধোলাইয়ের মধ্য দিয়ে ভুলের মাশুল দিতে হলো সিএনজি চালককে। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে গোকুল সরকার পাড়া নিবাসী মজনু মিয়ার স্ত্রী পেয়ারা বেগম (৩৫) সিএনজি করে বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে ভাতিজি আনিকা (৪) জিলাপী খাওয়ার বায়না ধরলে বাঘোপাড়ায় সিএনজি থামিয়ে পেয়ারা বেগম জিলাপী কিনতে নামে। বিশ্বরোডে থ্রি হুইলার গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ থাকায় ট্যুরিষ্ট পুলিশের একটি টহল গাড়িকে কাছে আসতে দেখে সিএনজি চালক গাড়িটিকে হাইওয়ে পুলিশের গাড়ি ভেবে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে। এসময় সিএনজিতে থাকা আনিকাকে নিয়েই সে দ্রুত পার্শ্ববর্তী রাস্তায় প্রবেশ করে চলতে শুরু করে। ঘটনার আকস্মিকতায় পেয়ারা বেগম চিৎকার করে ওঠে এবং সিএনজির পেছনে দৌড়াতে শুরু করে। স্থানীয় লোকজনও এসময় পেয়ারা বেগমের সাথে সিএনজিকে ধাওয়া করতে থাকে। কিছুক্ষনের মধ্যে এক মোটরসাইকেল আরোহী দ্রুত মোটরসাইকেল চালিয়ে সিএনজিকে আটকিয়ে ফেলে। এরপর সিএনজি চালককে ধরে শুরু হয় জনতার গণধোলাই। কিছুক্ষনের মধ্যে ট্যুরিষ্ট পুলিশ এসে সিএনজি চালককে জনতার রোষানল থেকে উদ্ধার করে। তবে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদেরকেও জনগনের তোপের মুখে পড়তে হয়। পরে সিএনজি চালক সেলিম (২৯) কে সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। সেলিম গোকুল দক্ষিণপাড়ার আব্দুস সাত্তারের ছেলে।
ট্যুরিষ্ট পুলিশ বগুড়া জোনের ইনচার্জ অলিভ মাহমুদ জানান, স্থানীয় জনতা সিএনজি চালককে ছেলেধরা সন্দেহে গনপিটুনি দিতে থাকলে আমাদের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে আনে। পরে বগুড়া সদর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জকে সার্বিক বিষয়ে অবহিত করে আটককৃত সিএনজি চালককে তাদের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম বদিউজ্জামান জানান, সিএনজি চালকের ভুলে সেখানে উদ্ভট এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে ওই চালকের সঙ্গে ছেলেধরার সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় এবং সিএনজি চালক ও ভিকটিম একই এলাকার হওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তাদের সনাক্ত করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মন্তব্য