| প্রচ্ছদ

মনোযোগ এবার টি২০ ও টেস্টে

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ২৭ বার

ফুটবলের মতো ক্রিকেটও টুর্নামেন্ট-কেন্দ্রিক খেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল এই মাস থেকেই। এখন থেকে ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই বৈশ্বিক এবং মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট হবে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ, ওয়ানডে আর টি২০ বিশ্বকাপ ছাড়াও ওয়ানডে লিগ আর টি-২০'র মহাদেশীয় খেলা চালুর সিদ্ধান্ত আগেই নিয়ে রেখেছে আইসিসি। যে কারণে দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলোও হবে বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট ঘিরে। আইসিসি এই নতুন নিয়মে বিশ্বের অন্য দেশের মতো খেলতে হবে বাংলাদেশকেও।

অ্যাশেজ সিরিজ দিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হলেও বাংলাদেশ এই চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম সিরিজ খেলবে নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে। তবে এর আগে সেপ্টেম্বরে দেশের মাটিতে এক টেস্ট ও দুই ম্যাচ টি২০ সিরিজ খেলবে আফগানিস্তানের সঙ্গে। যদিও চ্যাম্পিয়নশিপে যোগ হবে না এই এক টেস্টের পয়েন্ট। কারণ জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তান টেস্ট খেলুড়ে দেশ হলেও চ্যাম্পিয়নশিপে নেই। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ খেলবে র‌্যাংকিংয়ের সেরা নয় দল।

বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের কারণেই বাংলাদেশকে টেস্ট এবং টি২০ খেলায় বেশি মনোযোগ দিতে হচ্ছে আগামী দুই বছর। এজন্য ২০২০ সালের টি২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আইসিসির এফটিপিতে (ফিউচার ট্যুর প্ল্যান) একটি মাত্র ওয়ানডে সিরিজ রেখেছে বিসিবি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। আগামী বছর মে-জুনে আয়ারল্যান্ড সফর করবে টাইগার বাহিনী। যেখানে একটি টেস্ট, তিনটি করে ওয়ানডে আর টি২০ ম্যাচ খেলবে। তবে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ড দল পাঠালে আফগানিস্তানকে নিয়ে এ বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে একটি ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ হতে পারে।

ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানাতে এই টুর্নামেন্টটি আয়োজনের চেষ্টা করছে বিসিবি। এ ব্যাপারে বিসিবি সিইও (চিফ অপারেটিং অফিসার বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) নিজামউদ্দিন চৌধুরী জানান, 'জিম্বাবুয়ে চাইলে সিরিজটি দ্বিপক্ষীয়ও হতে পারে। জিম্বাবুয়ে বোর্ড দল পাঠানোর ব্যাপারে আগেই নিশ্চিত করে রেখেছে। কোনো কারণে সফর বাতিল হলে নিশ্চয়ই জানাত তারা। সিরিজটি হওয়ার ব্যাপারে আমি আশাবাদী। আমার বিশ্বাস যথাসময়ে সাড়া দেবে তারা।'

সিইও আরও জানান, জিম্বাবুয়ে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে চাইলে ত্রিদেশীয় সিরিজটি হবে টি২০ ক্রিকেটের। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজটি মাশরাফিকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানো হবে কি-না সে ব্যাপারে নিশ্চিত নন নিজামউদ্দিন চৌধুরী, 'মাশরাফির বিদায়ের ব্যাপারে বোর্ড থেকে আমাকে কিছু বলা হয়নি। এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হলে সিরিজের আগে জানা যাবে।' যে জন্যই হোক, জিম্বাবুয়ে খেলতে এলে এফটিপির বাইরে একটি সিরিজ খেলতে পারবে বাংলাদেশ। ভারত সফরের আগে টেস্ট এবং টি২০র ভালো একটা প্রস্তুতিও নিতে পারবে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে খেলে। 

নভেম্বরে ভারতের সঙ্গে দুটি টেস্ট ও তিনটি টি২০ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। টেস্ট সিরিজটি চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হলেও টি২০ বিশ্বকাপেরই প্রস্তুতি। এফটিপি অনুযায়ী ২০২০ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজে দুটি টেস্ট ও তিনটি টি২০ খেলবে। ফেব্রুয়ারি মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ থাকলেও খেলা হওয়া নিয়ে শঙ্কা আছে। কারণ উন্নাসিক অস্ট্রেলিয়া টেস্ট খেলতে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানায় না। তবে চ্যাম্পিয়নশিপের বাধ্যবাধকতা থাকলে দ্বিপক্ষীয় এই সিরিজটি হতে পারে।

মার্চে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে একটি টেস্ট ও পাঁচ ম্যাচ টি২০ খেলবে। মে মাসে আয়ারল্যান্ড যাবে টাইগার বাহিনী। জুলাইয়ে শ্রীলংকার বিপক্ষে তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজ রয়েছে। আগস্টে দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে ঢাকায় আসবে নিউজিল্যান্ড। এশিয়া কাপ টি২০ সেপ্টেম্বরে। ভারত রাজি থাকলে পাকিস্তানে হতে পারে টুর্নামেন্টটি। টি২০ বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ডে তিন ম্যাচের একটি সিরিজ খেলবে এই ফরম্যাটে। বিসিবি চাইলে এফটিপির বাইরেও সিরিজ আয়োজন করতে পারবে

মন্তব্য