| প্রচ্ছদ

বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর বৈশাখী চরে ভাঙন !

আমিনুল ইসলাম শ্রাবণ. ধুনট (বগুড়া) থেকে
পঠিত হয়েছে ২১৭ বার। প্রকাশ: ০৫ অগাস্ট ২০১৯ ।

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর বৈশাখী চরে ভয়াবহন ভাঙন আতংক ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। নদী ভাঙনের কবলে গৃহহীন হয়ে পড়েছে অসংখ্য পরিবার। নতুন আশ্রয়ের সন্ধানে চর ছেড়েছেন অনেকেই। 

সরেজমিনে জানা যায়, ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নে যমুনা নদীর বুকে অবস্থিত বৈশাখী চর। এক সময়ের সমৃদ্ধশালী গ্রাম ছিলো বৈশাখী। ১৯৮৪ সালে যমুনা নদীর ভাঙন শুরু হয় বৈশাখী গ্রামে। প্রতি বছর দফায় দফায় ভাঙনের শিকার গ্রামটি ৫/৬ বছরের মধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বৈশাখী গ্রামের মানুষের বসত ভিটা হারিয়ে কেউ অন্য এলাকায় ঠিকানা গড়েছেন। দুঃস্থ পরিবার গুলো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করতে থাকেন। প্রায় দুই দশক পর ২০০৯ সালে যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠে বৈশাখী চর। এরপর থেকে বৈশাখী চরে বসতি গড়ে ওঠে। ওই চরে রয়েছে শতবর্ষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি নি¤œমাধ্যমিক বিদ্যালয়। গত কয়েকবছর যাবত ওই চরে প্রায় আড়ইশ পরিবার বসবাস করে আসছিল। চলতি বছরে যমুনায় বন্যার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে বৈশাখী চরে নদী ভাঙন শুরু হয়। বর্তমানে যমুনা নদীতে পানি কমলেও নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। 

এগিকে বৈশাখী চরে গত একমাসে যমুনা নদীর ভাঙনের শিকার হয়েছে অন্তত ৫০টি পরিবার। চরের সজিব মন্ডল, মাহমুদুল মন্ডল, সোহেল আকন্দ, সিদ্দি আকন্দ, মুঞ্জু আকন্দ, শারিফুল হোসেন, আনোয়ার হোসেন, মজনু মিয়া, আমিনুর রহমান, মুন্নাত আলী, লাল মিয়া, বাদশা মিয়া, ওসমান গনি, সোনা উদ্দিন, রিপন মিয়া, শিপন মিয়া, হনু মিয়াসহ কয়েকটি পরিবার বসত ভিটা ছেড়ে চরের উঁচু একটি স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। শুন্য পরে রয়েছে তাদের বসত ভিটা। অনেকের বসত ভিটা ইতিমধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। আশ্রয় নেওয়া ছাপড়া ঘরে গবাদি প্রাণি নিয়ে গাদাগাদি করে বসবাস করছে এসব পরিবার। এছাড়া চপল মাহমুদ, চাঁন মিয়া, হানি, আশাদুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, আব্দুল মোমিন, আলী জাসান, সুবেল মিয়া, আমজাদ সরকার, ছালাম সরদার, গোলা সরদার, শিপন মিয়া, সোহাগ মিয়া, আব্দুস সাত্তার ও লিটন দোকানদারসহ বেশ কিছু পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বৈশাখী চর ছেড়ে চলে গেছেন। বসত ভিটা ছাড়াও নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে কৃষকের আবাদী জমি ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের বাগান। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে বৈশাখী চরের মসজিদ। শুস্ক মৌসুমে বৈশাখী চরে বসতি কমার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। 

বৈশাখী চরের সজিব মন্ডল বলেন, নদীর ভাঙন থেকে বাঁচতে ঘর সইরা নিছি। এহানে ছাপড়া তুইলা বউ-বাচ্চা নিয়া কষ্ট কইরা আছি। অনেকেই চর ছাইড়া চলে গেছে, আমরা কোথায় যামু।'

ভাঙনের শিকার গৃহবধু জয়নব আক্ষেপ করে বলেন, 'বাড়ীর যাইগ্যা নদী খাইলো। কি কষ্ট কইরা বাঁচি, কেউ দেখবারো আইসে না।'

ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল বলেন, 'চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে বৈশাখী চরে ভাঙন শুরু হয়েছে। অসংখ্য পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। অনেকেই চর ছেড়ে চলে গেছেন। কেউ কেউ চরের উঁচু স্থানে আপাতত আশ্রয় নিয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে কারো হাত নেই। নদী ভাঙন অব্যাহত থাকলে হয়তো চর রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে চরবাসীর অন্যত্র আশ্রয়ের জন্য সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।'

মন্তব্য