| প্রচ্ছদ

কাশ্মীরিদের দিন কাটছে অর্ধহারে-অনাহারে

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ২৯ বার। প্রকাশ: ০৮ অগাস্ট ২০১৯ ।

​​​​​কাশ্মীরে কারফিউ চলছে। খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দোকানগুলো বন্ধ। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ছবি: সংগৃহীত

ভারতশাসিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পাশাপাশি সেখানে গত রোববার থেকেই কারফিউ চলছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, প্রতিটা রাস্তায় ও গলির মুখে নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারা দিচ্ছে।

দোকান, স্কুল-কলেজ, মোবাইল, ল্যান্ডফোন, ইন্টারনেট পরিসেবা- এমনকি টিভি চ্যানেলগুলোও বন্ধ। কাশ্মীরের বেশিরভাগ নেতাই আটক হয়েছেন। কাশ্মীরে অচলাবস্থায় বন্ধ হয়ে গেছে স্বাভাবিক খাবার সরবরাহ। ব্যাংক ও এটিএমগুলোতেও টাকা নেই।

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে দোকানগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন কাশ্মীরবাসী। ৭২ ঘণ্টা পার না হতে তাই দোকানগুলোতেও শেষ হয়ে গেছে খাবার। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে গেছে বহুগুণ। তিন দিন ধরে চলা এই অচলাবস্থায় না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে নিম্নবিত্ত অনেক কাশ্মীরির।

গত সোমবার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করায় জম্মু-কাশ্মীর ৩৭০ অনুচ্ছেদের বিশেষ অধিকার হারাচ্ছে। এ ছাড়া হারাচ্ছে পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদাও। ভেঙে দুই ভাগ করা হচ্ছে কাশ্মীরকে। জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ দুটি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে।

যে চুক্তির মাধ্যমে কাশ্মীর ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল, সেই চুক্তি বাতিল হওয়ার কারণে অন্যান্য রাজ্য থেকে কাশ্মীরে স্থায়ী আবাসস্থল গড়ে তোলা লাখ লাখ মানুষ এখন যেকোনো উপায়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। হাজার হাজার মানুষ কাশ্মীর ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের কেউ কেউ বাসস্থান না পেয়ে স্টেশনে বেশ কয়েক দিন কাটিয়ে দিয়েছেন। সেখান থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছেন না।

এ অচলাবস্থায় কাশ্মীরে খাদ্যে স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। সোমবার থেকে বন্ধ রয়েছে যোগাযোগও। কারফিউ থাকায় চলাচলেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। খাবারের স্বল্পতা ও এটিএম কাজ না করায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অনেক বেড়ে গেছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন নিম্নবিত্তরা।

সানা নামে ২৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বলেন, তার কাছে পাঁচ-ছয়জন ব্যক্তি এসে দাবি করেছিল- তাদের পরিবার না খেয়ে আছে। তিনি বলেন, ‘মুদির দোকানে যেন মানুষের বন্যা ছিল। মসলা ও শাকসবজির দোকানেও ছিল ভিড়। হাজার হাজার মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলেন। এ ছাড়া গ্যাস স্টেশনগুলোতেও ছিল গাড়ির লম্বা লাইন। ব্যাংকগুলোতেও টাকা শেষ হয়ে গেছে।’

সানা আরও বলেন, এ অচলাবস্থায় অনেক নৈরাজ্যও দ্বিধা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি খুবই ভয়াবহ ও দুঃখজনক। বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন সবাই।

মন্তব্য