| প্রচ্ছদ

ঈদের আগেই প্রত্যাহার হচ্ছে ছাত্রদলের ১২ নেতার বহিষ্কারাদেশ

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৪০ বার। প্রকাশ: ০৯ অগাস্ট ২০১৯ ।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভ ও ভাংচুরের কারণে বহিষ্কার হওয়া ছাত্রদল সাবেক কমিটির নেতাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হচ্ছে। তাদেরকে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিতে রাখা হবে। সবাইকে নিয়ে ঈদুল আজহার পর একটি গ্রহণযোগ্য কাউন্সিল করতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড।

সোমবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে বিএনপির জেষ্ঠ নেতাদের দীর্ঘ বৈঠক হয়। লন্ডন থেকে স্কাইপির মাধ্যমে বৈঠকে যুক্ত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই বৈঠকের মধ্য দিয়েই মূলত ছাত্রদলের চলমান সংকটের সমাধান হলো।

সংকট সমাধানের অংশ হিসেবে ঈদের আগেই ১২ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হচ্ছে। আর ক্ষুব্ধ নেতাদের যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলে যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। পাশাপাশি ছাত্রদলের কাউন্সিল ঘিরে গঠিত নির্বাচন পরিচালনা, বাছাই ও আপিল কমিটিতে ক্ষুব্ধ নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। খবর যুগান্তর অনলাইন

বহিষ্কৃতরা হলেন- ছাত্রদলের ভেঙে দেয়া কমিটির সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, ইকতিয়ার কবির, জয়দেব জয়, মামুন বিল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, বায়েজিদ আরেফিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন তুষার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত, আব্দুল মালেক এবং সদস্য আজীম পাটোয়ারি, ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহিরউদ্দিন তুহিন।

বৈঠক সূত্র জানা গেছে, তারেক রহমানের যে কোনো সিদ্ধান্ত মানার অঙ্গীকার করেছেন বিলুপ্ত কমিটির নেতারা। ছাত্রদলের সমস্যা সমাধানে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে। তারাই দফায় দফায় ক্ষুব্ধ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সংকট সমাধানের পথ খুঁজে বের করেন।

জানতে চাইলে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সন্তান ভুল করলে তাৎক্ষণিক শাসনও বাবা করেন, পরোক্ষণেই ক্ষমাও বাবাই করেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করার মধ্য দিয়ে ছাত্রদলের সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে।

ছাত্রদলের কাউন্সিল হওয়ার কথা ছিল ১৫ জুলাই। কিন্তু সংগঠনটির আগের কমিটির নেতাদের বিক্ষোভের মুখে কাউন্সিল পেছাতে হয়েছে। তাদের দাবি ছিল, ছাত্রদলের কমিটি গঠনে বয়সসীমা তুলে দিতে হবে। এ নিয়ে বিক্ষোভের এক পর্যায়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লাঞ্চিতও করা হয়। ভাংচুর করা হয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়। পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটির ১২ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। এতে বিক্ষোভ দমানো যায়নি।

দীর্ঘ আলোচনার সংকটের সমাধান হলো। তারেক রহমানের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনার পর বিক্ষোভ থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধরা।

নতুন করে ছাত্রদলের কাউন্সিলের তারিখ ঈদুল আজহার পর যে কোনো একদিন নির্ধারণ করা হবে।

এ বিষয়ে ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ইখতিয়ার রহমান কবির বলেন, ‘আমাদের আর কোনো ক্ষোভ নেই। রাজনৈতিকভাবে ভাইয়া (তারেক রহমান) আমাদের দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি আমাদের ছাত্রদলের কাউন্সিলে সহযোগিতা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি যেভাবে চাইবেন সেভাবে আমরা সহযোগিতা করব। তার নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করব।’

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সোমবারের বৈঠকে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুসহ ক্ষুব্ধ নেতাদের মধ্যে ইখতিয়ার রহমান কবির, মামুন বিল্লাহ, জহিরউদ্দিন তুহিন, জয়দেব জয়, বায়েজিদ আরেফিন, দবিরউদ্দিন তুষার, আজিজ পাটোয়ারিসহ ৪০ জনের মতো উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, ছাত্রদলের সাবেক নেতারা তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে বক্তব্য দেন এবং তাদের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। বিগত দিনে ছাত্রদল নিয়ন্ত্রণকারী কথিত সিন্ডিকেট নিয়ে নিজেদের তিক্ততার কথাও তুলে ধরেন। প্রায় ২০ জনের মতো নেতা তাদের বক্তব্যে স্বল্পকালীন সময়ের জন্য আহ্বায়ক কমিটি গঠনের দাবি করেন।

তারা বলেন, দলের সিদ্ধান্ত মেনে ছাত্রদলের কাউন্সিল পর্যন্ত এ কমিটি চান। তাদের নেতৃত্বে কাউন্সিল শেষে এ সংগঠন থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নেয়ার কথাও বলেন ক্ষুব্ধ নেতারা।

তারেক রহমান ক্ষুব্ধ নেতাদের কথা শুনে বলেন, ‘ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের জন্য দ্রুত কাউন্সিল করতে হবে। এজন্য আপনাদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।’ জবাবে ছাত্রনেতারা কাউন্সিল করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার কথা বলেন। পরে ক্ষুব্ধ নেতাদের দাবির বিষয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে তার সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেন তারেক রহমান। তবে যে সিদ্ধান্তই তিনি দেবেন তা মেনে নিয়ে রাজনীতি করার আহ্বান জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

এ সময় ছাত্রনেতারা তারেক রহমানের যে কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার অঙ্গীকার করেন।

প্রসঙ্গত, ছাত্রদলের কমিটি গঠনে বয়সসীমা তুলে দেয়ার দাবিতে আন্দোলনরত অবস্থায় গত ২৩ জুন রাতে ১২ জনকে দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি। এর আগে গত ৩ জুন ছাত্রদলের কমিটি ভেঙে দেয় বিএনপি। পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের কথা বলা হয় সেদিন। সেখানে কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ২০০০ সালের পর থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই ছাত্রদলের কমিটিতে স্থান পাবে।

এরপর বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা গত ১০ জুন নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। কার্যালয়ের ভেতরে রিজভীকেও তারা অবরুদ্ধ করে রাখে।

বহিষ্কার হওয়ার ৪৩ দিন পর সোমবার বিকেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করার সুযোগ পেলেন বহিষ্কৃতরাসহ তাদের অনুসারীরা। বৈঠকে বহিষ্কৃত নেতা এজমল হক পাইলট ছাড়া বাকি ১১ জন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ছাত্রদলের ভেঙে দেয়া কমিটির প্রায় ৭০/৮০ জন নেতাকর্মী বৈঠকে অংশ নেন। যারা গত ২ মাস ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন। অবশেষে ছাত্রদলের সেই সংকটের সমাধান হলো।

মন্তব্য