| প্রচ্ছদ

ভিডিও ফুটেজে নিশ্চিত হয়েছে বগুড়া পুলিশ

সড়ক দুর্ঘটনাতেই মৃত্যু শাওনের

স্টাফ রিপোর্টার
পঠিত হয়েছে ২০১ বার। প্রকাশ: ১৩ অগাস্ট ২০১৯ ।

ঈদের আগে রাতে জেলার নয় মাইলে মহাসড়ক থেকে যে যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল সেই সাব্বির রহমান শাওনের (১৮) মৃত্যু বাস চাপায় হয়েছে। ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশনের (সিসিটিভি) ফুটেজ দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। কলেজ ছাত্র শাওনের মৃত্যু নিয়ে সৃষ্ট রহস্য উদঘাটনে জিজ্ঞাবাসদের জন্য ইতিপূর্ব ্আটক মিঠু নামে তার এক বন্ধুকে ঈদের দিন রাতে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিসিটিভির ফুটেজে সড়ক দূর্ঘটনায় শাওনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আটক মিঠুর বিরুদ্ধে স্বজনদের কোন অভিযোগ না থাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বগুড়া সরকারি শাহ্‌ সুলতান কলেজ থেকে এবারই এইসএসসি উত্তীর্ণ শাওনের মরদেহ ঈদের আগের দিন রোববার দিবাগত রাতে জেলার শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইলে বগুড়া-ঢাকা মহাসড়ক থেকে উদ্ধার করা হয়। ময়না তদন্ত শেষে ঈদের দিন সোমবার রাতে দাফন করা হয়।

শহরের ঠনঠনিয়া সুফিপাড়ার হাবিবুর রহমানের ছেলে শাওন জুতা কেনার কথা বলে রোববার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয় বলে স্বজনরা জানিয়েছিল। লাশ উদ্ধারের পর পরিবারের পক্ষ থেকে তার মা সেলিনা আক্তার অভিযোগ করেছিলেন, শাওনকে হত্যা করা  হয়েছে। ‘দূর্ঘটনায় মৃত্যু’ প্রমাণের জন্য তার লাশ মহাসড়কে ফেলে রাখা হয়।

তবে পুলিশ জানায়,শাওন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিঠুকে নিয়ে ঠনঠনিয়া এলাকা থেকে রোববার বিকেলে শহরের দিকে আসার সময় মুন্না নামে এলাকার এক ‘বড় ভাই’ তাদের সঙ্গে যোগ দেয়।মিঠুর মোটর সাইকেলে তারা ৩জন রাত ১১টার দিকে তারা এক অভিজাত হোটেলে বসে মদ পান করে। এরপর মহাস্থানে যায় এবং সেখান থেকে আবার শহরের সাতমাথা এসে কাবাব খায়। সেখান থেকে মিষ্টি খাওয়ার জন্য তারা শেরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। নয়মােইল এলাকায় অবস্থিত্  একটি এলপিজি গ্যাস কোম্পানির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত আনুমানিক সোয়া ৩টার দিকে তাদের মোটর সাইকেলটি ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় পেছনে বসা শাওন পড়ে যায়। কিন্তু মোটর সাইকেলটি আর থামেনি। ওদিকে যাত্রী একটি বাস মহাসড়কে পড়ে থাকা শাওনকে পিষ্ট করে চলে যায়। 

জিজ্ঞাসাবাদে মিঠু পুলিশকে জানিয়েছে, শাওন যে মোটর সাইকেলের পেছন থেকে পড়ে গিয়েছিল সেটি তারা বুঝতে পারেনি। যখন টের পেয়েছে তখন তারা মোটর সাইকেল ঘুরিয়ে তাকে খুঁজতে মহাসড়কের উল্টো দিকে যাত্রা শুরু করে।তবে নয়মাইল এলাকায় পৌঁছার পর শাওনের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা আবার ফিরে যায়।

পুলিশ জানায়, মিঠু ও মুন্না ফিরে চলে যাবার পর স্থানীয় এক সিএনজি চালক মহাসড়কের ওপর একজনের পড়ে থাকার কথা শাজাহানপুর থানায় জানায়। এরপর ‍পুলিশ অজ্ঞাতনামা হিসেবে লাশটি উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। খবর পেয়ে সোমবার সকালে স্বজনরা ওই মর্গে গিয়ে মরদেহটি শাওনের বলে সনাক্ত করে। এর পর পরই পুলিশ তার বন্ধু মিঠুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

 পুলিশের বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, ঘটনাটি জানার পর পরই পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা এবং তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, আটক মিঠুর দেওয়া তথ্য এবং সিসিটিভির ফুটেজে বাস চাপায় শাওনের মৃত্যুর বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি।’

বগুড়া সদর থানার ওসি এস,এম বদিউজ্জামান জানান, মিঠুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। যেহেতু  সিসিটিভি ফুটেজে শাওনের মৃত্যুটি বাস চাপায় ঘটেছে বলে প্রমাণ মিলেছে এবং মিঠুর প্রতি শাওনের পরিবারের কোন অভিযোগ নেই তাই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা মিঠুকে তার চাচার হেফাজতে ছেড়ে দিয়েছি।’

 

মন্তব্য