| প্রচ্ছদ

শেরপুরে দু’টি সড়ক যেন এখন দৃষ্টিনন্দন বিনোদন স্পট

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
পঠিত হয়েছে ১৯৩ বার

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার দু’টি সড়ক যেন দৃষ্টিনন্দন বিনোদন স্পট হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন বিকেল হতেই বিভিন্ন বয়সের অসংখ্য নারী-পুরুষের ঢল নামছে এই দু’টি স্থানে। ওই বিনোদন স্পটগুলো হলো- উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের ঝাজর-বিলনোথার সড়ক ও খানপুর ইউনিয়নের শালফা-গজারিয়া সড়ক। এবারের ঈদে ভ্রমন পিপাসুদের সমাগমে মুখরিত হয়ে উঠেছে এই স্পট দু’টি। গেল কয়েকদিন ধরেই ঈদের আনন্দে বৈচিত্র আনতে হাজারো মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে ভীড় জমাচ্ছেন এসব পয়েন্টে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খামারকান্দি বাজার থেকে ঝাঁজর বিলনোথার পর্যন্ত সাত কিলোমিটার সড়ক। সড়কটির দু’ধারে বিশাল আয়তনের খাল। একইসঙ্গে দিগন্ত বিস্তৃত ফাঁকা ফসলি মাঠ। চারদিকে বন্যার পানিতে থৈ থৈ করলেও এখন পানি কমছে। এরপরও হিমেল হাওয়ার কোন কমতি নেই। তাই বিকেল হতেই গ্রামীন নিরিবিলি পরিবেশে শরীর ও মনটাকে সতেজ রাখতেই সড়কটিতে হাজারো মানুষের পদচারণা। ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বিনোদনপ্রেমীদের ভীড় আরও বাড়ছে। শুধু তাই নয়, সড়কজুড়ে যতোদূর দৃষ্টি যায় মানুষের ঢল। খোলামেলা ও শব্দদূষণহীন সড়কটিতে ঘুরতে আসা মানুষদের জন্য ঝাঁজর ব্রীজের আশপাশে চটপটি, ফুসকা, বাদাম, পিয়ারা, আখের রস ও চানাচুর মাখামাখিসহ রকমারি খাবারের দোকানও বসেছে। এছাড়া এখানে গড়ে উঠা ঘাটে নৌকা স্প্রিডবোর্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দশ থেকে বিশ টাকার বিনিময়ে এসব নৌকায় উঠে বাড়তি আনন্দ উপভোগ করতে পারছেন ভ্রমনপিপাসুর দল।
অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব জানান, এবারের বন্যায় তার ইউনিয়নের অন্তত ত্রিশটি গ্রাম প্লাবিত হয়। এছাড়া দিগন্ত বিস্তৃত ফসলি মাঠও পানিতে ভরে উঠে। এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ সাত কিলোমিটার ফাঁকা এই সড়কটির চারদিকে থৈ থৈ বন্যার পানি। মাঝখান দিয়ে সড়কটি যাওয়ায় যা দেখতে খুবই আকর্ষণীয়। মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে গ্রামীন নিরিবিলি পরিবেশে একটু আনন্দ উপভোগ করতে প্রতিদিন সব বয়সী অসংখ্য মানুষ আসছেন এখানে। আগামি এই সড়কটির দু’ধারে বিনোদনপ্রেমীদের বসার ব্যবস্থা উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান এই ইউপি চেয়ারম্যান। এদিকে উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের একটি সড়কের নাম শালফা-গজারিয়া সড়ক। একসময়ের অবহেলিত দুই কিলোমিটার সড়কটি এখন অনেকের কাছেই পরিচিত। তবে এটি আর এখন কেবল রাস্তার নাম নয়। রীতিমত বিনোদন স্পটে পরিনত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে যাকে ‘রাঞ্জু পার্ক’ হিসেবেও বলা হচ্ছে। প্রতিদিন বিকেল হলেই ভ্রমনপিপাসুদের ঢল নামছে এই সড়কে।
অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম রাঞ্জু জানান, দীর্ঘ সময় এই সড়কটি অবহেলিত অবস্থায় পড়ে ছিল। বৃষ্টি হলেই মাটির এই সড়কটি দিয়ে কাঁদায় চলাচল করা সম্ভব হতো না। ফলে এই সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী চারটি গ্রামের মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তবে তিনি ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমেই মাটির ওই সড়কটি পাকাকরণ করেন। এতে করে এই অঞ্চরের মানুষের দুর্ভোগ দূর হয়ে যায়। পাশাপাশি এই সড়কটি এখন দৃষ্টিনন্দন বিনোদন স্পট হিসেবেও উঠেছে। সড়কটির চারদিকে থৈ থৈ করছে বন্যার পানি। আর এই প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগের জন্য প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ আসছেন এখানে। ভ্রমন পিপাসুদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে এই অঞ্চল। যা কোনদিন ভাবতেও পারিনি। তাই আগামিতে সড়কটির দু’পাশে বিনোদন প্রিয় মানুষদের জন্য বসার ব্যবস্থা করবেন বলেও জানান তিনি। এদিকে স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা শাহাবুদ্দিন, আব্দুল আলীম, কোরবান আলী, আবু হানিফসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, সড়কটি নির্মিত হওয়ার পর সাধারণ মানুষের যেমন দুর্ভোগ কমেছে তেমনি বিনোদনের স্পট হয়েছে। এখানে প্রতিদিন বিকেলে হাজার হাজার নারী-পুরুষের সমাগম ঘটছে।
ঢাকা থেকে আসা এখানে ঘুরতে আসা ব্যবসায়ী আব্দুল সালাম, আব্দুল গফুৃর বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুকে) শালফা-গজারিয়া সড়কটি দেখেছি। মনে হয়েছে এটি একটি মিনি সমদ্র সৈকত। তাই বাস্তবে দেখতে এসেছি। এখানে এসে খুবই ভালো লাগছে। বর্ষা ও বন্যার অপরুপ দৃশ্য দেখতে পেলাম। এখানে না আসলে গ্রামীন পরিবেশে এবারের ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারতাম না। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ বলেন, এই দু’টি সড়ক পরিদর্শন করেছি। আমার কাছেও ভালো লেগেছে। এগুলো সম্ভাবনাময় বিনোদন স্পট। তাই আগামি এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ভ্রমন পিপাসুদের উপযোগী করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া বর্তমানে এখানে যারা ঘুরতে আসছেন, তাদের নিরাপত্তার জন্য তাঁর নিদের্শে আইন শৃঙখলা বাহিনীর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ পক্ষ থেকেও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

মন্তব্য