| প্রচ্ছদ

যে কারণে খালেদা জিয়ার জন্মদিন একদিন পর পালন করছে বিএনপি

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৩৪ বার। প্রকাশ: ১৬ অগাস্ট ২০১৯ ।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন ছিল বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট)। ১৯৪৫ সালে জন্ম নেয়া সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী এদিন ৭৫ বছরে পা দেন। প্রতিবার ঘটা করেই দলীয় নেত্রীর জন্মদিন পালন করে বিএনপি। প্রথম প্রহরে বিশাল কেক কেটে জমকালো জন্মদিন পালন করেন দলের নেতাকর্মীরা। কিন্তু এই প্রথম দলীয় নেত্রীর জন্মবারে কোনো কর্মসূচি দেয়নি বিএনপি। কর্মসূচি দিয়েছে একদিন পর। আজ সারা দেশে খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে তার রোগমুক্তি, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া মাহফিল করছে বিএনপি।

প্রতিবারের রেওয়াজ থেকে হঠাৎ বেরিয়ে এসে একদিন পর খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলছেন, বহুদিন পর বিএনপি একটি ইতিবাচক ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিল। আবার কেউ কেউ বলছেন, বিএনপির এ সিদ্ধান্তে খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হবে।

জানা গেছে, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে দলীয় নেত্রীর জন্মদিন পালন করা নিয়ে নতুন করে কোনো বিতর্ক সৃষ্টি করতে চায় না বিএনপি। তাই এবার জাতীয় শোক দিবসে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৭৫তম জন্মদিন পালন করেনি দলটি। বিতর্ক এড়াতে ১৫ আগস্টের জন্মদিনের কর্মসূচি একদিন পিছিয়ে ১৬ আগস্ট পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুধু তাই নয়, দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকেও ১৫ আগস্ট জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটতে অনুৎসাহিত করা হয়েছে। অথচ প্রতিবারই ১৫ আগস্টের প্রথম প্রহরে দলীয় কার্যালয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বড় কেক কেটে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করা হয়। অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনও একই ধরনের কর্মসূচি পালন করে আসছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মদিন নিয়ে কিছুটা বিতর্ক আছে। খালেদা জিয়ার বাবা এস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনী হলেও তিনি দিনাজপুরে বসবাস করতেন। খালেদা জিয়ার জন্মও সেখানে। তার মায়ের নাম তৈয়বা মজুমদার। ১৯৬০ সালের আগস্ট মাসে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

বাংলা পিডিয়াসহ খালেদা জিয়ার জীবনীর ওপর রচিত কয়েকটি বইয়ে তার জন্মদিন ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট উল্লেখ আছে। তবে ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনের সমালোচকদের দাবি, একেক জায়গায় খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে একেক রকমের তথ্য আছে। তার পাসপোর্টে এক ধরনের তথ্য, আবার পরীক্ষার সার্টিফিকেটসহ অন্যান্য জরুরি ডকুমেন্টে তথ্যের ভিন্নতা পাওয়া গেছে।

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করা নিয়ে বিএনপিকে তীর্যক সমালোচনা শুনতে হয়েছে। বহুদিন ধরে এ নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুনতে হয়েছে বিএনপি নেতাদের। এ কারণে ১৫ আগস্ট নিয়ে নমনীয় হচ্ছে বিএনপি। এ কারণে ১৪ আগস্ট বিএনপির হাইকমান্ড খালেদা জিয়ার ৭৫তম জন্মদিন ১৬ আগস্ট করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই নির্দেশনাটি দলের বিভিন্ন স্তরে পৌঁছে দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তবে কয়েক বছর ধরেই বিএনপি খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে খুব একটা হইচই হোক সেটি চায়নি। দলীয় নেতাকর্মীরা কেক কাটলেও এদিনটি নিয়ে খুব বেশি আগ্রহ দেখায়নি বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। সবশেষ ২০১৪ সালের ১৫ আগস্ট ৫০ পাউন্ডের কেক কেটে জন্মদিন পালন করেন খালেদা জিয়া। ২০১৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রথম প্রহরে তিনি কেক না কাটলেও সন্ধ্যার পর কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করেছিলেন। তবে ২০১৬ সালে বন্যা, গুম-খুনকে কারণে দেখিয়ে কেক কাটার কর্মসূচি বাতিল করেন খালেদা জিয়া।

২০১৭ সালে জন্মদিনে লন্ডনে ছিলেন খালেদা জিয়া। এর পর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে আছেন তিনি। এর মধ্যে ৭৪তম জন্মদিনে তিনি ছিলেন নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে। আর এবারের জন্মদিন কেটেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের ৬১১ নম্বর কেবিনে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির অন্যতম এক জ্যেষ্ঠ নেতা গণমাধ্যমকে বলেন, ২০১৬ সালে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে দলের স্থায়ী কমিটির এক সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকীর দিন জন্মদিনের বিতর্ক এড়াতে তিনি কেক কাটবেন না। এর পর তিনি নিজেই বিভিন্ন সময় বক্তব্যে বলেছেন, জাতীয় নেতাদের নিয়ে বিতর্ক বন্ধ করতে হবে।

এর পর ২০১৬ সালের ১৫ আগস্ট কেক না কেটে সকালে জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত ও মিলাদ মাহফিল করা হয়। এবার ১৫ আগস্ট মাজার জিয়ারত ও মিলাদ মাহফিল থেকেও সরে এসেছে বিএনপি।

এ বিষয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ৭০তম জন্মদিন থেকে সিদ্ধান্ত হয় আগামীতে তার জন্মদিন ঘটা করে পালন করা হবে না, কেক কাটা হবে না। এসবের বদলে মিলাদ মাহফিল ও জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক একদিন পর দোয়া মাহফিল পালন করছি।

তবে খালেদা জিয়ার জন্মদিন একদিন পর পালনের সিদ্ধান্তের সমালোচনাও কম হচ্ছে না। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশন চত্বরে শোক দিবস উপলক্ষে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘আপনারা বোঝেন এই খালেদা জিয়া তার জন্মদিন প্রত্যেক দিন বদলান। আজ যদি তিনি জন্মদিন পালন করেন, তবে এটি ৭৫তম জন্মদিন হবে কেন? এটি তার প্রথম জন্মদিন হবে। এর পর যে তার কত জন্মদিন আছে আল্লাহ মালিক জানে। আমি এ নিয়ে আর মন্তব্য করতে চাই না।’

মন্তব্য