| প্রচ্ছদ

বগুড়ায় প্রেমের ফাঁদে স্কুল শিক্ষককে অপহরণ, আটক ৪

স্টাফ রিপোর্টার
পঠিত হয়েছে ১১৪১ বার

বগুড়ায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ করা হয় মাহবুবর রহমান (৪০) নামে এক স্কুল শিক্ষককে। এরপর তার পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ চায় অপহরণকারীরা। বুধবার সন্ধায় অপহরণের পর অভিযোগ পেয়ে পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করে আটক করে চার অপহরণকারীকে। 

জেলার গাবতলী উপজেলার পীরগাছাহাট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। একইসঙ্গে উদ্ধার করা হয় শিক্ষক মাহবুবকে। এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় মামলা হয়েছে।

মাহবুবর রহমান জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বানিয়া চাপড় এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে ও স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। বগুড়া শহরের হাকিম মোড় এলাকায় পরিবারসহ বসবাস করেন তিনি।

অপহরণের ঘটনায় গ্রেফতার চারজন হলো- জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার ধামগুণ্ডা গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে আশরাফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন এবং বগুড়ার গাবতলী উপজেলার রামেশ্বরপুর এলাকার আবদুস সালাম ও কোহিনুর বেগম। এ ছাড়াও সোহেল এবং কাজল নামের দুইজন পলাতক রয়েছেন।

স্কুল শিক্ষককে উদ্ধার ও অপহরণকারীদের গ্রেফতার অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া বগুড়া সদর থানার এসআই সোহেল রানা জানান, অপহরণকারী চক্রের সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন কয়েকদিন আগে মাহবুবর রহমানকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। 

বুধবার সন্ধ্যায় সাবিনার ডাকে মাহবুব হাকিম মোড় এলাকায় গেলে তাকে কৌশলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেয় সাবিনা। এ সময় অটোরিকশায় আরও দুই অপহরণকারী ছিল। এরপর অপহরণকারীরা মাহবুবকে নিজেদের আস্তানায় নিয়ে তার ভাগ্নে মাশরুকুল আলমের ফোনে কল দিয়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ চায়। বিষয়টি বগুড়া সদর থানায় জানানো হলে পুলিশ অভিযানে নামে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাবতলী উপজেলার রামেশ্বরপুর এলাকায় অপহরণকারীদের অবস্থান জানা যায়। সেখানে একটি শ্যালো মেশিন ঘরে মুক্তিপণের টাকা রেখে যেতে বলে অপহরণকারীরা। পুলিশ ছদ্মবেশে সেখানে গেলে অপহরণকারীরা টাকা রাখার স্থান বদল করে। তারা একটি কলাবাগানের ভেতর টাকার থলে রাখতে বলে। 

পুলিশ সেখানে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসার সময় অপহরণকারীরা পীরগাছাহাট এলাকায় একটি ঝুপড়ি থেকে বের হয়ে ছদ্মবেশী পুলিশের সামনে গিয়ে টাকা চাইলে পুলিশ চারজনকে ধরে ফেলে। এ সময় অপহরণকারীদের আরও তিন সদস্য পালিয়ে যায়।

বগুড়া সদর থানার ওসি বদিউজ্জামান বলেন, অপহরণকারী চক্রের অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় স্কুল শিক্ষক মাহবুবর রহমানের ভাগ্নে মাশরুকুল আলম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

মন্তব্য