| প্রচ্ছদ

পাখি প্রেমী নওগাঁ জেলা প্রশাসকঃ জেলা জুড়ে গাছে গাছে গড়ে তুলেছেন নিরাপদ আবাস

এম আর ইসলাম রতন, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
পঠিত হয়েছে ২৪৭ বার। প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০১৮ । আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০১৮ ।

একটি গ্রামে অন্তত তিনশ বটের গাছ। প্রতিটি গাছে প্রচুর পাখির আনাগোনা। নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পশ্চিম বালুভরা গ্রামের ওই বটগাছগুলিতে পাখিরা আবাস গড়লেও ঝড়-বৃষ্টিতে তাদের ডিম ভেঙ্গে যেতো, নয়তো ডিম ফুটে বের হওয়া বাচ্চাগুলো নিচে পড়ে মারা যেতো।

বিষয়টি জানার পর বটগাছগুলোকে পাখিদের নিরাপদ অভয়াশ্রম হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন নওগাঁ জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান। তার নির্দেশে ওই গ্রামের প্রতিটি বট গাছের ডালে পাতিল বেঁধে পাখিদের নিরাপদ বাসস্থান তৈরি করা হয়। একপাশে ছিদ্র যুক্ত পাতিলগুলো দুটি ডালের মাঝখানে এমন ভাবে বসানো হয়েছে যেন বৃষ্টির পানি ভিতরে প্রবেশ করতে না পারে। এরই মধ্যে পাতিলগুলোতে দোয়েল, ঘুঘু, শালিক, বাবুই ও বুলবুলিসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বাসা বাঁধতে শুরু করেছে।

শুধু বদলগাছিতেই নয় গেল কয়েক মাসে জেলার ১১টি উপজেলায় গাছে গাছে মাটির পাতিল ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকায় পাখির অভয়াশ্রম গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিটি উপজেলায় গাছে গাছে ১৫০ থেকে ৫০০টি মাটির পাতিল টাঙ্গানো হয়েছে। এতে পাখিরা তাদের নিরাপদ বাসস্থান পেয়েছে। জেলা প্রশাসকের এ ধরনের উদ্যোগ মানুষদের মাঝে ব্যাপক সারা ফেলেছে। পরিবেশবিদরা এ ধরনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেছেন, জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান যে উদ্যোগ নিয়েছেন মানুষ ও প্রকৃতির স্বার্থেই তা অব্যাহত রাখতে হবে।
বদলগাছী উপজেলার পাটনঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিলি ফরাহানা বলেন, পাখিরা মূলত গাছে আশ্রয় নিয়ে থাকে। বছরে বেশ কয়েকবার ঝড় হয়। এতে পাখিদের ডিম ভেঙে ও বাচ্চা নিচে পড়ে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে। ঝড়ঝাপটায় অনেক পাখির ডানা ভেঙে যায়। পাখিরা যেন ভাল থাকে তার জন্য জেলা প্রশাসক বট গাছে পাতিল টাঙিয়ে দিয়ে পাখিদের নিরাপদের ব্যবস্থা করেছেন যা নি:সন্দেহ একটি ভাল উদ্যোগ।
উপজেলার বালুভরা-বিলাশবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিস সহকারী কর্মকর্তা মওদুদুর রহমান কল্লোল বলেন, হাট-বাজারে বড় বড় গাছে পাতিল টাঙানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় শতাধিক পাতিল টাঙানো হয়েছে। নিরাপদ মনে করে পাখিরা আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। কাঠ-বিড়ালীও পাতিলের মধ্যে বাসা বেঁধেছে।

নওগাঁ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর প্রাণিবিদ শরিফুল ইসলাম জানান, এই উদ্যোগকে সফল করতে প্রথমত পাখি হত্যা বন্ধ করতে পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারি জায়গায় ও অফিস চত্বরে বেশি করে ফলদ গাছ লাগাতে হবে। এই ফলদ গাছ থেকে পাখি তাদের খাবার খেয়ে ওই সকল বাসস্থানে নিরাপদে বসবাস করবে। তিনি বলেন, পাখি কৃষি ‘বন্ধু’। প্রতিটি পাখি ফলের পাশাপাশি পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকে। একটি পাখি হত্যা মানে ওই পাখি সমপরিমাণ পোকার বৃদ্ধি করা।  
বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম আলী বেগ বলেন, পশু পাখি পরিবেশের একটা অংশ। পাখিদের নিরাপদ আবাস গড়তে জেলা প্রশাসন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এরই অংশ হিসেবে হাট-বাজারে সরকারি গাছগুলোতে মাটির ছোট পাতিল বেঁধে দেয়া হচ্ছে। উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন জানান, সবে মাত্র যোগদান করেছি। জেলা প্রশাসকের  মহৎ উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
নওগাঁ জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান জানান, জীব ও বৈচিত্র সংরক্ষণের জন্যই এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান, ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি, বে-সরকারি কর্তকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনা সভাও করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রতি উপজেলায় পরিষদ চত্ত্বর, ভূমি অফিস চত্বর ও নিবিড় স্থানগুলোতে পাখিদের জন্য অভয়াশ্রম তৈরি করা হচ্ছে। আগামীতে আলোচনা সভা ও র‌্যালীর মধ্যে দিয়ে পাখিদের ব্যাপারে জনসচেতনতা গড়ে তোলা হবে।’

মন্তব্য