| প্রচ্ছদ

কেমন কোচ পেলেন সাকিব-তামিমরা

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৫৬ বার। প্রকাশ: ১৭ অগাস্ট ২০১৯ ।

বিশ্বকাপের পরই কোচহীন হয়ে পড়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। স্টিভ রোডসকে বরখাস্ত করে বিসিবি। শ্রীলংকা সফরে যান অন্তবর্তীকালীন কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। ওই সিরিজে বাজে পারফরম্যান্সের পর বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানান, ১০ দিনের মধ্যেই কোচ নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় রাসেল ডমিঙ্গোর। দক্ষিণ আফ্রিকান এই কোচ সাক্ষাৎকার দেওয়ার আট দিন পর সাকিব-তামিমদের দায়িত্ব পেলেন।

এখন দেখার বিষয় বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কেমন কাজ করেন ডমিঙ্গো। ক্রিকেটার হিসেবে তার ক্যারিয়ার দাঁড়ায়নি। তবে কোচ হিসেবে দারুণ অভিজ্ঞ তিনি। ডমিঙ্গোর কোচিং ক্যারিয়ার শুরু হয় ২২ বছর বয়স থেকে। ২৫ বছর বয়সে দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন প্রদেশের যুব দলের কোচ হন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দল, দক্ষিণ আফ্রিকা 'এ' দল এবং জাতীয় দলের কোচ হন তিনি। ২০০৪ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা দল নিয়ে এসেছিলেন ডমিঙ্গো। ২০১০ সালে প্রোটিয়া 'এ' দল নিয়ে বাংলাদেশ সফর করেন তিনি।

২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগ পান ডমিঙ্গো। পরের বছর দেশটির টি-২০ দলের প্রধান হন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছর কাজ করেন। কাজ করছিলেন দেশটির 'এ' দলের প্রধান কোচ হিসেবে। বিশ্বকাপজয়ী কোচ গ্যারি কারস্টেনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা আছে ডমিঙ্গোর। সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্পর্কে ভালো ধারণা রয়েছে তার। সেই ২০১১ সাল থেকেই বাংলাদেশ দলের কোচ হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন ডমিঙ্গো। ব্যাটে-বলে মিলে গেল এবার।

রাসেল ডমিঙ্গো ২০১৩ সালে তিন ফরম্যাটেই দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হন। ২০১৪ টি-২০ বিশ্বকাপে এবং ২০১৫ অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে দলকে সেমিফাইনালে তোলেন তিনি। এবি ডি ভিলিয়ার্সের নেতৃত্বে ২০১৫ বিশ্বকাপে ফাইনালে ওঠার বড় দাবিদার ছিল প্রোটিয়ারা। তার তত্বাবধায়নে টেস্টে সাফল্য পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে তার আগে এক নম্বর থেকে টেস্টে সাত নম্বরে নেমে যায় প্রোটিয়ারা। ডমিঙ্গো আবার দলকে দুইয়ে তুলে আনেন। ২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়িত্ব ছাড়তে হয় তাকে।

তার জায়গায় ওটিস গিবসনকে দায়িত্ব দেয় দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। ডমিঙ্গো সেবারও দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হতে আবেদন করেন। ডমিঙ্গোর সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ১৩ টেস্ট সিরিজ খেলে জয় পায় আটটিতে। ওয়ানডে সিরিজ খেলে ২২টি। জয় পায় ১৪টিতে। তিনিই দক্ষিণ আফ্রিকাকে বৈশ্বিক আসরে নক আউট পর্বে প্রথম জয় এনে দেন। টি-২০ ক্রিকেটে তার অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকা খেলে ১৬টি। জয় পায় মাত্র ৬টিতে। তবে ৪২ ম্যাচের ২৩টিতে জয় পাওয়ায় পঞ্চাশ ভাগের বেশি ম্যাচ জয় পায় তার দল।

মন্তব্য