| প্রচ্ছদ

এক পায়ে পুরো দক্ষিণ আমেরিকা ভ্রমণ!

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৩৫ বার। প্রকাশ: ২০ অগাস্ট ২০১৯ ।

সড়ক দুর্ঘটনায় বাঁ পা হারিয়েছেন। তাতে কী। এতটুকু মনোবল হারাননি ভেলেজুয়েলার ইয়েলি আরান্দা। প্রতিবন্ধকতাই যেন তার শক্তি। একটি পা নিয়েই পুরো দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ ঘুরে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। উদ্দেশ্য, নিজের কন্যা ও দেশবাসীকে নানা সমস্যার মাঝেও স্বপ্ন পূরণে উৎসাহিত করা।

গোটা দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ পাড়ি দিতে কাঁধে ব্যাকপ্যাক, পকেটে মাত্র ৩০ ডলার এবং হাঁটার সময় ভাঙাচোড়া রাস্তায় ভারসাম্য ঠিক রাখতে অ্যালুমিলিয়াম নির্মিত একটি কৃত্রিম পা লা লাগিয়ে গত বছর যাত্রা শুরু করেন আরান্দা। গত শনিবার তিনি আর্জেন্টিনার নয়নাভিরাম শহর উসাইয়ায় পৌঁছান। শহরটি বরফ আচ্ছাদিত, খুবই ঠান্ডা; এটি বিশ্বের সবচেয়ে দক্ষিণের শহর নামে সমধিক পরিচিতি।

আরান্দা বলেন, “আমি আমার স্বপ্ন নিয়ে বাঁচি। মানুষের প্রতি আমার বার্তা হলো, তারা নিজেদের স্বপ্নগুলো অনুরণ করুক এবং সেগুলো পূরণ করুক।”

রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ভেনেজুয়েলার অবস্থা ভালো নয়। নানা সমস্যায় জর্জরিত দেশটি। হাজার হাজার মানুষ দেশ ত্যাগ করছেন। এমন অবস্থায় দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করতেই ভ্রমণে নেমেছেন বলে জানালেন আরান্দা। প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা থেকে কোনোরকমে বেঁচে ফেরার পর এই প্রচেষ্টা অন্যদের অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে বলে মনে করেন সাবেক এই বাসচালক।

২০১৩ সালের ২৭ আগস্ট। ভেনেজুয়েলার বারিনাসে বাস চালাচ্ছিলেন আরান্দা, বাসে ছিল তার ২৩ বছর বয়সী মেয়ে পাওলা। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরান্দার গাড়িতে আঘাত হানে। এতে আরান্দা ও তার মেয়ে উভয়ই একটি করে পা হাঁরান। কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকার পর প্রাণে বেঁচে ফেরেন তারা। ওই সময় ১৫ দিন কোমায় ছিলেন আরান্দা। বেঁচে থাকায় ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই তার।

আহত মেয়ে পাওলাকে অনুপ্রাণিত করার জন্যও তার এই ভ্রমণ। তার মেয়ে এখনও কৃত্রিম পা লাগাতে পারছে না। হুইলচেয়ারে বন্দি পাওলার জীবন।

মেয়ের ব্যাপারে আরান্দা বলেন, “পাওলা তার ডান পা হারিয়েছে। তার বাঁ পাও অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তাই আমি হেঁটে  তাকে কেবল এটা দেখাতে চাই যে, জীবনে কঠোর প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”

আরান্দা জানালেন, এই ভ্রমণের পথে যাদের সাক্ষাৎ পেয়েছেন তারা অনেকে তাকে ‘এক পায়ী মানুষ’ বলে অভিহীত করেছে। তার মেয়ে পাওলাও নাকি হুইলচেয়ারে করে এমন একটি ভ্রমণে নামতে পারে।

“আমি মানুষকে দেখাতে চেয়েছিলাম যে, বর্তমান কঠিন পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। অনেক মানুষ আছে, কোনো ধরনের অক্ষমতা থাকা না থাকা সত্ত্বেও তারা তাদের বড় স্বপ্নগুলো যেন ভুলে যায়।”

মন্তব্য