| প্রচ্ছদ

শোভন-রাব্বানী কান্ডে ছাত্রলীগে তোলপাড়

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ২২ বার

সমালোচকরা বলছেন, পোস্টারটি করা হয়েছে সস্তা জনপ্রিয়তা আর বাহবা পাওয়ার আশায়। ছাত্রশিবির ও খেলাফত মজলিসের আদলে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সম্মতিতেই তা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পোস্টারের কোথাও নেই বঙ্গবন্ধু বা শেখ হাসিনার ছবি। যে পোস্টারের অনুষ্ঠানে দাওয়াতের অতিথি হিসেবে নাম আছে জামায়াতপন্থিদেরও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর সব এলাকায় সাঁটানো এই পোস্টার নিয়ে ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা তীব্র সমালোচনা করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানা উপায়ে। বিতর্কের মুখে পড়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার আয়োজিত অনুষ্ঠান বাতিল করেছে ছাত্রলীগ। অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন ছিল তাদের।

ছাত্রলীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা এ প্রসঙ্গে দেশ রূপান্তরকে বলেন, শুধু বাহবা কুড়ানোর আশায়ই এমন একটি বিতর্কিত অনুষ্ঠানের আয়োজক হয় বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগ। কেন্দ্রীয় কমিটিতে আলোচনা না করেই সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের ইচ্ছায় হুট করে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে।

আলোচিত ওই পোস্টার নিয়ে দুই-তিন দিন সমালোচনার পর গত মঙ্গলবার ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অনুষ্ঠান বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের পোস্টার করা ও অতিথিদের দাওয়াতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিষয়টি নিয়ে ছাত্রলীগের অন্য কেন্দ্রীয় নেতারা দেশ রূপান্তরের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, পোস্টারটি সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের জ্ঞাতসারেই হয়েছে। তারা এখন ‘উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে’ চাপাতে চাইছেন। ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পর্যায়ের এক সদস্য বলেন, শুধু এই অনুষ্ঠানই নয়, কোনো ব্যাপারেই সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বাইরে আর কেউ তেমন অবহিত থাকেন না। শীর্ষ দুই নেতার কয়েকজন আস্থাভাজন এই কাজগুলো করেন। ‘রাজনীতি করি বলে কোনো কিছু না জেনেই উপস্থিত থাকতে হয় অনুষ্ঠানগুলোতে’ ক্ষোভের সুরে বলেন তিনি। খবর দেশ রুপান্তর অনলাইন

কেন্দ্রীয় কমিটির এক সম্পাদক দেশ রূপান্তরকে বলেন, কিছুদিন আগে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী সভাপতি শোভনকে বলছিলেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠানটা করেই ফেলতে হবে। সেখানে অনেক কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত থাকলেও কারও সঙ্গে সে বিষয়ে শেয়ার করা হয়নি। তিনি বলেন, শুধু এই অনুষ্ঠানই নয়, কোনো ব্যাপারেই শীর্ষ পদে থাকা দুইজনের কেউই অপর সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা-পরামর্শ করেন না। ফলে ভুলত্রুটি অনেক ক্ষেত্রেই হচ্ছে। ছাত্রলীগের আরেক সম্পাদক বলেন, পোস্টারটি নিয়ে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপে যেসব আলোচনা হয়েছে তাতে অনেকেই তীব্র সমালোচনা করেছেন। কেউ কেউ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে বাহবাও দিয়েছেন। তবে বেশিরভাগ নেতাই সমালোচনা করেছেন। কিন্তু তা আমলে নেননি শোভন-রাব্বানী। তিনি আরও বলেন, আমার জানা মতে পোস্টার ও অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যাপারে সভাপতি অনেকটাই অন্ধকারে ছিলেন। সাধারণ সম্পাদকই সব দেখভাল করেছেন। সেক্ষেত্রে সভাপতির খুব একটা দোষ নেই। তবে এ ধরনের একটি আয়োজনে সভাপতির দায় এড়ানোর সুযোগও নেই।

সহ-সভাপতি পর্যায়ের আরেক সদস্য আক্ষেপ করে বলেন, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দেখাও পাই না আমরা। একাধিকবার ফোন দিলেও যোগাযোগ করতে পারি না তাদের সঙ্গে। এসব ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে একাধিকবার ফোন করে সাড়া পাওয়া যায়নি। তাদের সাড়া না পেয়ে দেশ রূপান্তরের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় ছাত্রলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল রেজা এবং ধর্মবিষয়ক সম্পাদক তাজুল ইসলামের সঙ্গে। তাদেরও সাড়া মেলেনি।

মন্তব্য